বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে-মুখে পিপার স্প্রে করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি এবং তাঁর কয়েক সহযোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছিল ১০-১২ জন।
সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আদালত চত্বর থেকে দুই জঙ্গি সদস্যকে ছিনতাই অপরারেশনে নেতৃত্বদানকারী নাম আমরা জেনেছি। অপারেশনের বেশ কয়েকজন সহযোগীকেও শনাক্ত করা হয়েছে। অপারেশনের পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছে তাও আমরা গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আপাতত তদন্তের স্বার্থে আমরা তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করছি না।
আসাদুজ্জামান বলেন, অপরারেশনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার আস্কারি বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য। নেতৃত্ব না দিলেও মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তাকে আমরা শনাক্ত করেছি, কিন্তু নামটা আপাতত বলতে চাচ্ছি না।
জঙ্গি ছিনতাই অপারেশনে নেতৃত্বদানকারীসহ সবাইকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমরা কাজ করছি। এজন্য গণমাধ্যম ও দেশবাসীর সহযোগিতা আশা করেছেন সিটিটিসি প্রধান।
ডিএমপির অতিরিক্ত এ কমিশনার আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিষয়টি অনেক জটিল। ৯/১১’র ঘটনা কবে ঘটেছিল সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ওই ঘটনার এক যুগ পর কিন্তু ওসামা বিন লাদেনের অপারেশনটি সংঘঠিত হয়েছিল। আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, আদালত চত্বর থেকে দুই জঙ্গি আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।
জঙ্গিদের আরও বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা- জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান বলেন, অপারেশনে যারা ছিল তাদের গ্রেফতার করা গেলে বিষয়টি বলা সম্ভব। মনে হচ্ছে বড় পরিকল্পনা ছিল। তারা চারজনকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দুজনকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু চারজন করে আসামিকে আনা হচ্ছিল। প্রথমে যে চারজনকে আনা হয়েছিল তাদেরকেই ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়।
যে আসামিদের আদালতে হাজিরার জন্য আনা হয়েছিল তারা সবাই আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখা অর্থাৎ আস্কারি বিভাগের সদস্য ছিলেন। তাদের সবাইকে সিটিটিসি ২০১৬ সালে গ্রেফতার করেছিল। ফলে অনেকগুলো ঘটনা ও হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছিল।
পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকটি পয়েন্টে সতর্ক করে দিয়েছি। তারা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে; কোনোভাবে যাতে বের হতে না পারে- সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রধান একটি ঘোষণা দিয়েছেন, ছিনতাই হওয়া দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ ছিনতাইয়ের মাধ্যমে জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে কিনা? বা অপারেশনে নতুন জঙ্গি সংগঠনের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কিনা? প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন জঙ্গি সংগঠনের কোনো হাত নেই। তবে নতুন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আনসার আল ইসলাম, জেএমবি, নিউ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোক নিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ আমরা পেয়েছি।
রোববার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল থেকে আট জঙ্গিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁরা যখন সিজেএম আদালতের প্রধান ফটকের সামনে আসেন, তখন হাতকড়া পরা দুই জঙ্গি তাঁদের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশের এক সদস্যকে মারধর শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশে থাকা জঙ্গিদের সহযোগীরাও পুলিশের ওপর হামলায় যোগ দেন। পুলিশের ওই সদস্যকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন পুলিশের কয়েক সদস্য। তখন তাঁদের ওপর হামলা ও স্প্রে ছিটিয়ে সিজেএম আদালতের প্রধান ফটকের উল্টো দিকের গলি দিয়ে মোটরসাইকেলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে নিয়ে চলে যান জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা।
ছিনিয়ে নেওয়া দুজন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। তাঁরা জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই জঙ্গি সংগঠনের নেতা মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক, যাঁর পরিকল্পনায় ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টকে হত্যা করা হয়েছিল।
এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
এদিকে, ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পুলিশের চোখে-মুখে পিপার স্প্রে করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালতের পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্তরা হলেন- সিএমএম আদালতের হাজতখানার কোর্ট ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনচার্জ এসআই নাহিদুর রহমান, আসামিদের আদালতে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল শরিফুল হাসান ও কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply