বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি, তা বাস্তবায়ন হতে ৩১ বছর লাগবে। আরও বেশিও লাগতে পারে। কারণ একটা গাছ লাগালে ফলন আসতে সময় লাগবে। রোববার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী প্রচার দল আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত ১৬ বছরের একটা দাবি হলো, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আর কিছু না। এর জন্যই এত রক্তক্ষরণ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভোটাধিকার– এটা আপনাদের একমাত্র এজেন্ডা। অন্য কোনও এজেন্ডা থাকার দরকার নাই। একটা সুন্দর নির্বাচন দেন। এখনও আপনারা নির্বাচন কমিশনেরই ফর্ম পরিবর্তন করতে পারেননি। জনগণ এতক্ষণে নির্বাচন কমিশনকে কবরে পাঠিয়ে দিতে পারতো। তারা কিন্তু ধৈর্যশীল। আপনাদের কমিশনের পর কমিশন গঠন করতে হয়। একটার পরে আবার আরেকটা কমিশন করতে হয়। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা– এটা শুধুই টাইম কিলিং, আর কিছু না। কথা হলো নির্বাচনটা যত দ্রুত হবে, জনগণের অংশগ্রহণ হবে ততই বাঁধভাঙা। এই মুহূর্তে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড ব্রেক করে ৯০ শতাংশ জনগণ ভোট দিতে উপস্থিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ দেশের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য আছে। দেশের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনে ছাত্ররা ভূমিকা রাখে। এ কারণেই তাদের প্রতি মানুষের দাবিটাও বেশি। আমিও মাঝে মাঝে বলতাম, যদি ছাত্ররা আমাদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতো, তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ-সাত দিনের বেশি থাকতো না। আমরা কিন্তু পারি নাই আত্মবিশ্বাস আনতে, কিংবা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছাত্রদের অংশগ্রহণ অ্যালাউ করেনি। কিন্তু ছাত্রদের প্রত্যেক আন্দোলনে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে পাশে ছিল।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের মাথার মুকুট মনে করি। মুকুট মুকুটের অবস্থানে থাকতে হবে। আজ কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে জনগণের ভোটাধিকারের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে ছাত্রদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আন্দোলন সাংঘর্ষিক না। কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের আলাদা নজরে দেখতে চায় কেন? তাদের আলাদা করতে চায় কেন? কী কারণে ছাত্ররা এখনও সচিবালয়ে ঘোরাঘুরি করবে? যদি কোনও অনিয়ম থাকে, তারা প্রেস-ব্রিফিং করবে, সরকারকে সাবধান করবে, সতর্ক করবে। আমরাও ছাত্রজীবনে এই ধরনের ঐতিহ্যের অংশীদার। কিন্তু আমরা আন্দোলন শেষ করে করে চলে গেছি আমাদের পাঠাগারে। আজ আপনারা আলাদা করে বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। বৈষম্যবিরোধিতার আড়ালে যদি আরেকটা বৈষম্য সৃষ্টি হয় তাহলে মাশুল কে দেবে, কীভাবে দেবে তা আগাম বলা যাচ্ছে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা আরও বলেন, ‘আপনার দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা। যেটুকু পরিবর্তন বা সংস্কার করা দরকার সেটা করে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে নির্বাচনটা করবেন।’
রাজনীতিকদের মূর্খ ভাবা ঠিক হবে না উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনাদের জ্ঞানে পরিপূর্ণ, আপনারা সমাজের সমাদৃত ব্যক্তি। এ কারণে আপনাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং আপনাদের সম্মান করি, আপনারা সম্মান পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতিক– তাদের মূর্খ ভাবা ঠিক হবে না। তাদের স্বার্থপর ভাবা ঠিক হবে না। আপনাদের জ্ঞান আছে, আপনারা বিজ্ঞান পড়েন কিন্তু বাস্তবায়নটা রাজনীতিবিদরা করেন, শ্রমিকরা করেন, রিকশাচালকরা করেন। বাস্তবতা আর ভাবনা এক জিনিস না। ভাবনায় আপনি স্বর্গরাজ্য তৈরি করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গেলে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হলে জাতি ব্যর্থ হবে। আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানে আমাদের ১৬ বছরের আন্দোলন ব্যর্থ। তাই আমরা দেখতে চাই সরকার সফল। আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং যাবো। মানুষের কাছে স্পষ্ট করেন, আপনারা নির্বাচন করবেন এবং কতদিনে করবেন। কতটুকু সময় লাগবে। আগে সেনাবাহিনীর লোক বললো ১৮ মাস। কিন্তু পরের দিন সরকারের পক্ষ থেকে কেন বলা হলো এটা সরকারের কথা না। তাহলে সরকারের কথা কোথায়? ৩৬ মাস না ২০ মাস? বলেন না…বলতে তো হবে। আপনাদের টাইম ঠিক করতে হবে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা আশা করবো জনগণের পেটের ক্ষুধা, মনের ক্ষুধা, চিন্তার ক্ষুধা একটি নির্বাচনে একটি ভোট দেবো। সেটা যদি যথাসময়ে না হয়, তাহলে জনগণ অন্যত্র চলে যাবে।’
জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply