বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় ইমরান খানের সাজা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দণ্ড স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘অন্ধকার অধ্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যানের সাজা স্থগিতের ঘটনায় প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়ালের প্রতিও নিন্দা জানান। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) ইমরানের সাজা স্থগিতের ঘোষণা দেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে শাহবাজ শরীফ বলেন, ইমরান খানের প্রতি প্রভাবিত হয়েছেন ইসলামাবাদের উচ্চ আদালত। রায় ঘোষণার আগেই কী হতে যাচ্ছে, তা যদি সবাই জানে তাহলে এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
সদ্য বিদায়ী এ প্রধানমন্ত্রী মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স’এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, বিচার ব্যবস্থার এমন ভূমিকা ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় হয়ে লেখা থাকবে। দাঁড়িপাল্লা একদিকে। কিন্তু ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করে এমন রায় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় গত (৫ আগস্ট) শনিবার ইমরান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন দিলাওয়ার। পরে এ রায় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারক উমর আতা বন্দিয়াল বিচারক জামাল খান মান্দোখালিল ও বিচারক সৈয়দ মাজহার আলী আকবর নকবীর ওই রায়ে ত্রুটি খুঁজে পান। পরে ইসলামাবাদ আদালতকে তারা ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সে ধারাবাহিকতায় শুনানি করা হয় ইসলামবাদের উচ্চ আদালতে। পরে এ আদালতের প্রধান বিচারপতি আমির ফারুক ও বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ইমরান খানের সাজা স্থগিতের আদেশ দেন।
তোশাখানা মামলায় জামিনে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দিলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না ইমরান খান।
ডন জানিয়েছে, আগামী ৩০ আগস্ট গোপন তারবার্তা প্রকাশ (সাইফার মামলা) মামলায় তাকে আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকারি গোপন নথি আইন বিশেষ আদালত।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত সরকারি গোপন নথি আইন বিশেষ আদালত অ্যাটোক কারাগারে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে ইমরানকে কারাগারেই আটক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটোক কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিশেষ আদালতের বিচারক হাসনাত মুহাম্মদ জুলকারনাইন বলেছেন, অভিযুক্ত ইমরান খান নিয়াজি, পিতা ইকরামুল্লাহ খান নিয়াজি, ঠিকানা জামান পার্ক লাহোর তাকে বিচারিক রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো, যিনি ইতিমধ্যে বিভাগীয় জেলে আটক আছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকারি কোষাগার তোশাখানার মালামাল নিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগে ইসলামাবাদের একটি জেলা ও দায়রা আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ রুপি জরিমান করেন। এছাড়া তাকে যে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করেন।
ওই রায় ঘোষণার পর পরই ইমরানকে তার লাহোরের জামান পার্কের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর থেকে তিনি পাঞ্জাবের অ্যাটোক কারাগারে আটক আছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply