বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামুরায় চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্বে যেকোন সময় বড় ধরনের অঘটনের জন্ম দিতে পারে। এই দ্বন্দ্বের মাঝে আগুনে ঘি ঢালছে স্বার্থান্বেষী এক মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ধামুরা এলাকার বাসিন্দা রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী এম এ আব্দুল কাদের এর সাথে তার আপন ভাতিজা ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মুজাহিদের দীর্ঘসময় ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার মাপঝোঁক করা হলেও সমস্যার কোন সুরাহা মিলেনি। চাচা-ভাতিজার বিরোধের বিষয়টি একপর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এহেন বিরোধকে পূঁজি করে এলাকার তৃতীয় একটি শক্তি অর্থনৈতিকভাবে ফাঁয়দা লোটার পাঁয়তারায় মত্ত রয়েছে।
রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী এম এ আব্দুল কাদের ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, ২০০২ সালে আমি নিজের সম্পত্তিতে মায়ের নামে পূর্ব ধামুরা জেবুন্নেছা হাফিজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা গড়ে তুলি। মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার হিসেবে আমার ভাতিজা মুজাহিদকে নিয়োগ করি। কিন্তু সে মাদ্রাসার কাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এরপর তাকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া মাদ্রাসা লাগোয়া যৌথ সম্পত্তির পুকুরটি ছাত্ররা ব্যবহার করতে চাইলে মুজাহিদ তাদেরকে বাধা প্রদান সহ গালাগাল করে। এজন্য মাপঝোঁক করে পুকুরের মাদ্রাসার অংশটি নির্ধারণ করে বেড়া দিয়েছি। সর্বশেষ মুজাহিদ আমার বিরুদ্ধে সাত ধারা মামলাও দায়ের করে। ওই মামলায় আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হওয়ায় পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার শাহনেওয়াজ বুলবুল বলেন, ২০১৮ সালে আমাকে সহ তৎকালীন মাদ্রাসার দায়িত্বরত হাফেজ বিল্লাহর নামেও ৭ ধারা মামলা করে মুজাহিদ। এভাবে মাদ্রাসার ক্ষতিসাধনে সে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসব প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ মুজাহিদ ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমার বাবা ২০১২ সালে মারা যাওয়ার পর আমাকে মাদ্রাসায় নামমাত্র ক্যাশিয়ার হিসেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমাকে ব্যাংক এ্যাকাউন্টের পাওয়ার কিংবা অর্থ লেনদেনের কোন পাওয়ার দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে মাদ্রাসার কোন কাজে অনিয়মের তো কোন প্রশ্নই উঠে না। একপর্যায়ে চাচার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি মাদ্রাসার নামকাওয়াস্তের দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে সরে এসেছি।
তিনি বলেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা ধনবান এম এ আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি অবৈধপন্থায় জোরপূর্বক দখল করার পায়ঁতারায় লিপ্ত রয়েছেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি হয়রানি করার উদ্দেশ্য আমার বিরুদ্ধে পরপর তিনটি মামলা দেন। সবকটি মামলার রায় আমার পক্ষে রয়েছে। এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন তিনি।
পুকুরের সম্পত্তি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী মুজাহিদ বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রদের পুকুর ব্যবহারে কখনো বাধা প্রদান করা হয়নি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা কথা। প্রকৃতপক্ষে যৌথ সম্পত্তির পুকরটি অর্ধেক অর্ধেক করে ভোগ দখল করে আসছিলাম। এরমধ্যে ফুফুদের কাছ থেকে ৯ শতাংশ জমি কিনে আমার চাচা মাদ্রাসার নামে দানপত্র দেখিয়েছেন। আর তিনি নিজের নামে ৪ শতাংশ কিনেছেন। পুকুরের বাকী সাড়ে ১১ শতাংশ আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার জন্য তিনি নানাভাবে হেনস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন কায়দায় আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার চালাচ্ছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে মুজাহিদ বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপকৌশলের মাধ্যমে আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন আমার চাচা আব্দুল কাদের। চাচার টাকার জোরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগ ঘরোনার লোকজন দিয়ে আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করেছেন। ৫ আগস্ট দেশের পেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপি ঘরোনার লোকজনকে ম্যানেজ করে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার পরিবার নিয়ে এখন জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বসবাস করছি। যেকোন সময় আমার চাচা ভাড়াটিয়া গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে কিংবা অন্য কোন পন্থায় ক্ষতিসাধন করতে পারে। বিষয়টি প্রতিকারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply