বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর রিপোর্ট : বরিশালের উজিরপুরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শাহে আলমের সামনেই আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটালেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল ও তার অনুসারীরা। মারধরের শিকার আওয়ামী লীগ নেতার নাম মোঃ ইদ্রিস সরদার (৪৫)। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। রোববার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে তাকে মারধর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবালের সঙ্গে অপর সহ-সভাপতি ইদ্রিসের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। সকালে উপজেলা চত্বরে প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় দু’জনই অংশ নেয়। এ সময় ইকবালের ইন্ধনে তার সমর্থক রিয়াজ, পলাশ ও রুবেল ইদ্রিসকে মারধর করে। মারধরের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলম উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি মীমাংসায় তিনি এগিয়ে যাননি। পরে অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সূত্রে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহ আলম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত হন উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান ইকবাল এবং একই কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ইদ্রিস সরদার। তখন সাংসদের সামনে আ’লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ইকবাল দলীয় অপর নেতা ইদ্রিস সরদারকে কটূক্তি করে অশালীন ও অসংলগ্ন মন্তব্য করে। ইদ্রিস সরদার ওই কটুক্তির প্রতিবাদ জানালে সাংসদের সামনেই তাকে মারধর শুরু করেন ইকবাল ও তার সহযোগীরা।
আহত উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মো. ইদ্রিস সরদার অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যর সামনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান আমাকে নিয়ে কটূক্তি ও অশালীন মন্তব্য করে। আমি প্রতিবাদ করলে হাফিজুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা কাজী রিয়াজ (২৭), পলাশ তালুকদার (৩০), রুবেল হোসেন (২৫) ও ইদ্রিসসহ ৮-১০ জন মিলে আমাকে বেধরক মারধর করে।
মারামারি তার ও এমপির সামনে হয়নি জানিয়ে উজিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও এমপি মিলনায়তনের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন। সেখানে তার সাথে ইদ্রিস একটু বেয়াদপি আচরন করেছে। পরে ৩০/৪০ গজ দুরে এ নিয়ে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করলে এমপি তাদের থামানোর নির্দেশ দেন।
মারামারির সময় অসুস্থ হওয়ায় বাসায় চলে যাওয়ার কথা জানিয়ে ইকবাল বলেন, বাসায় গিয়ে শুনতে পেয়েছি ইদ্রিসকে মারধর করেছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুল হাসান বলেন, এখনও এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে অবিহিত করবো। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।
এ ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি শাহে আলম উপস্থিত থাকায় অংশ নেননি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, পৌর মেয়র গিয়াসউদ্দিন বেপারীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, একটি মহল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা করে সরকারকে বির্তকিত করার চেষ্টা করছে। বির্তকিত ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে থাকায় তারা অংশ নেননি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply