বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন। সোমবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এদিকে, কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার তাকে গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে রাতে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. রেজাউর রহমান।
তিনি বলেন, “উনি হার্টের পেশেন্ট ছিলেন, সাথে ডায়াবেটিস ছিল। আমাদের এখানে গতকাল (রোববার) রাত সাড়ে ৮টা-৯টার দিকে এসেছিলেন হার্ট অ্যাটাক নিয়ে। আজকে আবার আরেকটি অ্যাটাক হয়। আমাদের টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমরা রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে ডেড ডিক্লেয়ার করেছি।”
মৃত ঘোষণার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, “উনার দুই ছেলে এখানে উপস্থিত আছেন। আনুষ্ঠানিকতা সেরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
সাঈদীর মৃত্যুর পর বিএসএমএমইউ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সালমান ফার্সী।
জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির সাঈদীর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন ঢাকার শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন সাঈদী। এরপর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল।
ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।
সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেয়। তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ আসে। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এরপর থেকে সাঈদী কাশিমপুর কারাগারেই ছিলেন। সেখানে বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানালে রোববার সন্ধ্যায় সাঈদীকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
তাকে দেখে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply