বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানকারীরা ফ্যাসিস্টের দোসর : জোনায়েদ সাকি

কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানকারীরা ফ্যাসিস্টের দোসর : জোনায়েদ সাকি

কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানকারীরা ফ্যাসিস্টের দোসর : জোনায়েদ সাকি
কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মানকারীরা ফ্যাসিস্টের দোসর : জোনায়েদ সাকি

ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান যারা করছে— তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। তারা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়। শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে বিজেপির সহায়তা নিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির চেষ্টা করছে। আমাদের মাঝে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে সিলেট মহানগরের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের জেলা কমিটির উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা’র দাবিতে গণসংলাপ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা চাই মানুষের পরিচয়ই যাই হোক না কেন সেটা রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। সবাই নাগরিক, সবার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে কোনও বন্দোবস্ত চাইনা।
গণসংহতি আন্দোলন সিলেটের সংগঠক নিগাত সাদিয়ার সভাপতিত্বে ও বিশ্বজিৎ দেবনাথের পরিচালনায় সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা

এদিকে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার পর ‘নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে’ এলাকা ছেড়ে গেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ‘কাজ করার’ কথা বলেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি এ টি এম আক্তার উজ জামান। রোববার আবদুল হাই কানুর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাকে সারা গ্রাম ঘুরিয়ে লাঞ্ছিত করে একদল লোক। তারা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। সন্ধ্যার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।


এক মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি জুতার মালা পরা অবস্থায় কানুকে টানাহেঁচড়া করছেন। এ সময় কানু বারবার তাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন।
যিনি ভিডিও করছিলেন তিনি ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বলছিলেন, “আপনি পুরো গ্রামের মানুষের কাছে মাফ চাইতে পারবেন?” তখন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা দুই হাত তুলে বলেন, “আমি মাফ চাই।”
যে দুজন ওই মুক্তিযোদ্ধার দুই হাত ধরে টানাহেঁচড়া করছিলেন তাদের একজন বলেন, “আপনি এলাকা থেকে কবে চলে যাবেন?”
লাঞ্ছনাকারীরা বারবার ওই মুক্তিযোদ্ধাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা বারবার লাঞ্ছিতকারীদের হাতে ধরে এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকার আকুতি জানান।
কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল হাই কানু সংগঠনের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি। তিনি ঘটনাস্থলের পাশের লুদিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কানুর পরিবার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের দায়ী করলেও দলটি নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বিপ্লব সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ওই ঘটনার পর তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ফেনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারও গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।
বিপ্লব বলেন, “কুলিয়ারা গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে জামায়াত সমর্থক আবুল হাশেম মজুমদারের নেতৃত্বে আমার বাবাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ওখানে যারা ছিল সবাই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
“আমার বাবা অপমান সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান। ফেনীর একটা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমাদের এলাকায় থাকা নিরাপদ নয়, বারবার আমাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকার বাইরে আছি।”
আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে মুক্তিযোদ্ধা কানু দীর্ঘদিন এলাকায় থাকতে পারেননি বলে তার পরিবারের অভিযোগ। সরকার পতনের পর তিনি কয়েকদিন আগে বাড়ি আসেন।
বিপ্লব বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলেও আমার বাবা বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি। কয়েকদিন হল বাড়িতে এসেছেন। বাবার শরীর অসুস্থ। গতকাল ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন পাশের বাজারে। পথের মধ্যে আটকে আমার বাবাকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও তারা ছাড়েনি।”
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “আমরা লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি, তবে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি অসুস্থ, ফেনীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে… আমাদের টিম রাত থেকে এখন পর্যন্ত মাঠে আছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

জামায়াতের নিন্দা, সম্পৃক্ততা অস্বীকার

মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নিন্দা জানিয়েছে। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘স্থানীয় কুচক্রি মহল’ তার দলকে জড়িয়ে ‘অপপ্রচারে’ লিপ্ত হচ্ছে।
জামায়াতের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে ‘জড়িত না’ দাবি করে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তিদ্বয় আবদুল হাই কানুকে লাঞ্ছিত করেছেন- তাদেরকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এ ছাড়া আবদুল হাই কানুর নিজ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জের ধরে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদ্বয় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।”
জামায়াত নেতা বলেন, আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে রানা হত্যা মামলার আসামি আবদুল হাই কানু। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের করা একাধিক মামলা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana