বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : পুলিশের রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পিটিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এই ঘটনা ঘটে। থানায় নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদকে রমনা বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শাহবাগ থানা ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের রমনা জোনের এডিসি হারুন অপর এক বিসিএস নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার স্বামী ঘটনাস্থলে গেলে বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে এডিসি হারুন শাহবাগ থানা থেকে ফোর্স পাঠিয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এতে ছাত্রলীগ নেতা নাইমের সামনের দাঁত পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতারা।
ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে ভিড় করেন। কিন্তু গেইট বন্ধ থাকায় কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ও ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম শাহবাগ থানায় যান। আহত মুনিম প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও নাইমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে ‘থানায় নিয়ে’ নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদকে রমনা বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার (১০ সেপ্টেমর) দুপুরের পর এডিসি হারুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন জানান। তিনি বলেন, এডিসি হারুনকে ডিএমপির দাঙ্গা দমন বা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন। এটি তদন্ত করা হবে, তদন্তে এডিসি দোষী হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী ও তাঁদের সহপাঠীদের অভিযোগ, পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি হারুন অর রশিদ তাদের থানায় নিয়ে বেদমভাবে পিটিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও হারুনের সঙ্গে ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্য মিলে তাদের পেটান।
পুলিশ সূত্র জানায়, এডিসি হারুনের সঙ্গে শাহবাগের একটি হাসপাতালে পুলিশের একজন নারী কর্মকর্তা আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার স্বামী হাজির হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে এডিসি হারুন সেখান থেকে চলে যান। পরে পুলিশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শাহবাগ থানায় ডেকে নিয়ে মারধর করে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply