বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
ছাত্র রাজনীতি বন্ধে লাভ ‘অন্ধকারের মানুষদের’: মির্জা ফখরুল

ছাত্র রাজনীতি বন্ধে লাভ ‘অন্ধকারের মানুষদের’: মির্জা ফখরুল

ছাত্র রাজনীতি বন্ধে লাভ ‘অন্ধকারের মানুষদের’: মির্জা ফখরুল
ছাত্র রাজনীতি বন্ধে লাভ ‘অন্ধকারের মানুষদের’: মির্জা ফখরুল

ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত ‘খারাপ পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, এই সিদ্ধান্তে লাভবান হবে ‘অন্ধকারের মানুষরা।’ বিএনপি নেতার মতে, “রাজনীতি উন্মুক্ত রাখতে হবে। রাজনীতিকে এমনভাবে উৎসাহী করতে হবে যেন ভালো রাজনীতি হয়, সুস্থ রাজনীতি হয়।” শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এক প্রশ্নে এসব কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, “আমি তো মনে করি ছাত্র রাজনীতি যদি সুস্থ না হয়, দেশের রাজনীতি সুস্থ হবে না। আর ছাত্র রাজনীতি থেকে যদি নেতৃত্ব তৈরি না হয় তাহলে জাতির নেতৃত্ব তৈরি হবে না।
“ব্যুরোক্রেসিতে বলেন, রাজনীতিতে বলেন সব কিছু তো এখান (ছাত্রদের) থেকে আসবে। আমাদের ছেলে-পেলেরা যে রাজনীতি বিমুখ হয়ে গিয়েছিল, তার কারণ হচ্ছে যে, ছাত্র রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে চলে গিয়েছিল। এখন আবার তারা আসতে শুরু করেছে।
“এখন যদি আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেই তাহলে কারা ভালো হবে? যারা অন্ধকারের মধ্যে কাজ করে তাদের জন্য ভালো হবে, যারা আন্ডার গ্রাউন্ডে গিয়ে কাজ করে তারা লাভবান হবে।” ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করে হল দখল, সিট দখল ও গণরুম বন্ধ করার পরামর্শ দেন বিএনপি নেতা।

বিরাজনীতিকীকরণ কোনো জবাব না

এই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “রাজনীতি থাকতে হবে, রাজনীতিকে গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করছে, এটাকে আমি পুরোপুরি মনে করি, এটা একটা খারাপ পদক্ষেপ।
“মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলে দিতে হবে, এটা কোনো কথা না। কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটা সমাধান করার চেষ্টা করি। যে ছাত্র সংগঠনগুলো আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান ….।”
ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করা উচিত না- এই কথায় অবশ্য আপত্তি নেই বিএনপি নেতা। বলেন, “এটাকে বাদ দিতে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে, এসব বিষয়ে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বললেই সমাধান আসতে পারে।
“কিন্তু এটা কি জোর করে করা যাবে? তাহলে সামরিক সরকারের সঙ্গে এই সরকারের পার্থক্য কী? আমাকে রাজনীতির মধ্যে থেকে রাজনীতি দিয়ে কাজটা করতে হবে।”

‘জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে সংস্কার টেকসই হবে না’

অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থায় যে ‘সংস্কারের’ উদ্যোগ নিয়েছে সেটি নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, “এই যে সংস্কারের বিষয়টা এটা কি মানুষকে বাদ দিয়ে হবে? সংস্কার করবেন মানুষের, দেশের, প্রতিষ্ঠানগুলো, তাই না? প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষ কীভাবে দেখতে চায় সেগুলোর জন্য উচিত ছিল আগে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের কাছে প্রস্তাব চাওয়া।
“আপনি (সরকার) কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, জনগণের অংশগ্রহণ যদি যদি না থাকে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি জাতীয়করণ করবেন কি করবেন না, সেটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, আপনি কোনটাকে অগ্রাধিকার দেবেন, হাসপাতাল দেবেন না মেগা প্রকল্প দেবেন, এটা তো রাজনৈতিক অঙ্গীকার, তাই না?”
জবরদস্তি করে কিছু পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, “আপনি অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলেন, আপনি অন্যান্য এনজিওদের সঙ্গে কথা বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন, সমাজের সমস্ত পেশার সঙ্গে কথা বলেন, তারপরে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলেন।
“এককভাবে আপনি যদি চিন্তা করেন, আমি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে করে ওগুলো আমি চাপিয়ে দেব, তা তো মেনে নেব না।’’

গণপরিষদ না করে সংবিধান সংশোধন কীভাবে?

অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কারে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “সংবিধানে পরিবর্তন করতে হলে আগে মানুষের কাছে জানতে হবে তারা কী রকম পরিবর্তন চায়।…সংবিধানের আমূল পরিবর্তন, নতুন সংবিধান করতে হলে আগে গণপরিষদ করতে হবে। গণপরিষদ তৈরি না হলে পরিবর্তন করবেন কীভাবে?”
আইনগত দিকগুলো একদিনে পাল্টে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “অমূলক পরিবর্তন করতে চান বা নতুন সংবিধান লিখতে চান সেটা জনগণের রায় নিয়ে হোক।… নির্বাচনটা হোক এই নির্বাচনের জন্য যেটুকু সংস্কার করা দরকার, যেমন নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ইত্যাদি দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনটা করে সেখানে আপনি সব কিছু করতে পারেন। পার্লামেন্টে আপনি সমস্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে পারেন।”

পাহাড়ে কারফিউ চান ফখরুল, বললেন, ‘দেরিতে ক্ষতি হচ্ছে’

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিপ্লবী সরকার’ হওয়া উচিত ছিল বলেও মত প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “এই সংবিধানের অধীনেই তো এই সরকার শপথ নিয়েছে তাই না? তাহলে ওই জিনিসটা সামনে রাখতে হবে…এটা অস্বীকার করা সম্ভব না। “যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা নিঃসন্দেহে উঁচু মাপের বিশেষজ্ঞ। আমি মনে করি যে, তারা ভালো করবেন। সঙ্গে মানুষের চাওয়াটাকে নিতে হবে।”

‘নির্বাচনে যত দেরি, তত ক্ষতি’

নির্বাচনের সময় নিয়ে বিএনপির অবস্থানের প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “আমি ঠিক ওইভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় বলিনি, বলব না, বলা উচিতও না। তবে যত দেরি হবে তত দেশের ক্ষতি হবে, সমাজের ক্ষতি হবে, রাজনীতির ক্ষতি হবে।”
রাজনৈতিক শাসনের বিকল্প নাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, গণতন্ত্রই সেরা শাসন ব্যবস্থা। … রাজনীতি বাদ দিয়ে তো রাষ্ট্র চালানো যাবে না। রাষ্ট্র নিজেই একটি রাজনৈতিক বিষয়।”
সরকার যদি লম্বা সময় ক্ষমতায় থাকে, তাহলে কী হবে- এই প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “এটা কেউ চাইলে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে এবং এটা কখনই কাজে দেবে না। এটা জাতির জন্য বিপজ্জনক হবে, বড় রকমের সমস্যা তৈরি হবে।
“কী সমস্যা হবে এটা তো এখন বলা যাবে না। তবে বাংলাদেশের মানুষ এটা মানবে না।”

‘শেখ হাসিনার মামলা মোকাবিলা করা উচিত’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হচ্ছে, সেগুলো তাকে মোকাবিলা করার পরামর্শও দিয়েছেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাকে আইনের সামনে আসতে হবে।
“উনি যদি সত্যিকার অর্থে রাজনীতিবিদ হন উনি নিজে এসে এখানে ফেইস করুক, যেটা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া করেছেন। তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, তারপরে জেলে গেছেন.. এটাই হচ্ছে একজন রাজনৈতিক নেতার আচরণ।”
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “নিশ্চয় তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) চিন্তা করছে। আমি এ ব্যাপারে তাদেরকে প্ররোচনা দিতে চাই না। তবে তাদের অতি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।”

‘সংবাদ মাধ্যমের ওপর চাপ এখনও আছে’

মির্জা ফখরুল এই মত বিনিময়ে সাংবাদিকদেরকেও একটি প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, “সব সময় তো আপনারা আমাকে প্রশ্ন করেন, এবার আমি একটা প্রশ্ন করি। আপনাদের ওপর কি আগের মত চাপ আছে? এটা জানতে ইচ্ছা করে। মালিকদের ওপর থেকে আছে কি?” একজন সংবাদ কর্মী বলেন, “এখন চাপ নেই।”
ফখরুল বলেন, “এটা ঠিক না, চাপ তখনও ছিল, এখনও আছে। আপনারা বলতে চান না।”
মত বিনিময়ে পাহাড়ে সংঘাত নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি পার্বত্য এলাকায় কারফিউ আরোপের পরামর্শ দেন। বলেন, এই পদক্ষেপ নিতে দেরি হওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে।
সূত্র : বিডিনিউজ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana