বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
গৌতম কুমার দে, ইউনিভার্সেলনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পিরোজপুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটির দ্বার খুলছে। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে পিরোজপুর সদরের কচা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু।
কঁচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে খুশি হয়েছেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দুই বিভাগের মানুষ।
পিরোজপুরের কচা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বরিশাল থেকে পিরোজপুর শেষে বাগেরহাট হয়ে খুলনা সড়কপথে ফেরি যুগের অবসান ঘটছে। সেই সঙ্গে এই রুট হয়ে বরিশাল-খুলনার দূরত্ব কমেছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এতে করে এখন থেকে বরিশালর বিভাগের ৬ জেলার মানুষ স্বল্প সময়ে এবং সহজেই খুলনা, মংলা সমুদ্র বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়কপথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ করতে পারবে।
বরিশাল থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে খুলনার দূরত্ব প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার। যেখানে বরিশাল থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনার দূরত্ব প্রায় ১১৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ গোপালগঞ্জের থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনায় যেতে ৩০ কিলোমিটার কম পথ পাড়ি দিতে হয়। অথচ পিরোজপুরের কঁচা নদীর ফেরির কারণে খুলনায় যেতে গোপালগঞ্জের থেকে সময় বেশি লাগতো। তার ওপরে ফেরির কারণে যাত্রী ভোগান্তিরও শেষ ছিল না। পিরোজপুরের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা ইসহাক আলী খান পান্না বলেন, আগে ঝালকাঠি, বরিশাল, পটুয়াখালী কিংবা সাগরকন্যা কুয়াকাটায় যেতে হলেও খরস্রোতা কঁচা নদী পাড়ি দিতে হতো। আর বৈরি আবহাওয়া থাকলে তো এ নদী পার হওয়ার কথা কল্পনাই করা যেত না। সেই সঙ্গে ফেরি বিড়াম্বনা তো ছিলই, এখানে যানবাহন যতই হতো একটি ফেরির বেশি চলাচল করতো না। তাই ফেরি একবার মিস করলে কমপক্ষে ৪০ মিনিট ঘাটেই বসে থাকতে হতো। সেতুতে যান চলাচলের মধ্য দিয়ে সব বিড়ম্বনার অবসান হবে।
বিশেষ করে ভোগান্তি কমাকেই বড় করে দেখছেন বরিশাল-পিরোজপুর-বাগেরহাট হয়ে খুলনা রুটে চলাচলকারী বাসের চালকরা। তাদের মতে শুধু কচা নদীর ফেরির কারণে এ রুটের চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তির শেষ ছিল না। এখন সহজেই পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা ও মংলায় যেতে পারবেন যাত্রীরা। সেই সঙ্গে বাগেরহাট সংলগ্ন সুন্দরবন ও সাগরকন্যা কুয়াকাটাসহ অভ্যন্তরীণ পর্যটনেরও বিকাশ ঘটবে। এতে এই সড়ক পথে যাত্রীদের নির্ভরতা বাড়বে এবং পরিবহন ব্যবসার প্রসার হবে।
এদিকে, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থের সেতুতে ১০টি পিয়ার ও ৯টি স্প্যান রয়েছে। ৮৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়না রেলওয়ে ১৭ ব্যুরো গ্রুপ লিমিটেড নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করে। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীন সরকার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের। ৪২৯ মিটার ভায়াডাক্টসহ দুই লেনের সৈতুটির দৈর্ঘ্য ১৪২৭ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply