বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল নগরীর ভাটারখাল কলোনীতে নানা অপকর্মের হোতা স্বৈরাচারের দোসর সাদ্দাম শাহ’র সাজানো মিথ্যা মামলায় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত আলমাস সরদার। এলাকার নারী-পুরুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে-যারা পতিত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট ও নির্যাতন চালিয়ে ভাটারখাল কলোনী ও আশপাশ এলাকায় ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল, দেশের পেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তারা কিভাবে পূনবার্সিত হতে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আগের মতো বেপরোয়াভাবে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার মিশনে নাটকীয় মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে?
অভিযোগ উঠেছে- যারা বিগত আ’লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন ধরণের নিপীড়ন, নির্যাতন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, রাজপথে গণহত্যাকারী স্বৈরাচার সরকার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরকেই আবার গণহত্যাকারী স্বৈরাচারের দোসর সাদ্দাম শাহ কর্তৃক মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।
যেখানে স্বৈরাচার-ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামে রক্তে ভেজা অভ্যুত্থানে বিজয় অর্জিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এবারে দেশের পটপরিবর্তনের পরও আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট সাদ্দাম শাহ একহাত দেখিয়ে দিয়েছেন বরিশাল জাতীয়তাবাদী দলের কর্মীদের।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভাটারখাল কলোনীতে হালিম শাহ-বেবী শাহ দম্পত্তির পুত্র সাদ্দাম শাহ, তারেক শাহ, কন্যা রশ্মি শাহ, সাদ্দামের বোন জামাই জিদনী এবং এদের অপকর্মের সহযোগীরা দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বনে গিয়ে মাদক ও অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে।
দলের কর্মী সমর্থকরা বলছেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী স্বৈরাচার ও ফ্যাসীবাদী সরকারের দোসর হিসেবে এরা অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন।স্বৈরাচারের সাফাই গেয়ে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার পক্ষে সমর্থন জুগিয়েছেন সাদ্দাম বাহিনী। তাঁদের ভাষ্য, গণহত্যাকারী স্বৈরাচারের দোসররা কিভাবে কোন অদৃশ্য শক্তিতে ভাটারখাল এলাকায় এখনও অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে কলকাঠি নাড়ছেন। আর এ কারণে সহস্রাধিক শহিদের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হওয়ার পরও গণহত্যাকারী স্বৈরাচারের দোসররদের এহেন নানামুখী ষড়যন্ত্রে শান্তিকামী মানুষের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছুদিন সাদ্দাম বাহিনীর সহযোগীরা গা-ঢাকা দিলেও এখন আস্তে আস্তে বের হতে শুরু করেছে। আগে এরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ, মহিলা লীগ ও আওয়ামী লীগের নামে মিছিল করলেও এখন তারা বিএনপির কট্রর সমর্থক সেজে মিছিল করে এলাকার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কলোনীতে আওয়ামী লীগের চিহৃিত দোসর লাইজু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী রেবা সহ বেশ কয়েকজন ভোল পাল্টে বিএনপির কর্মী সেজেছেন।
এলাকার বিএনপির ত্যাগী নিবেদিত কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বরিশাল নগর মহিলা দলের বহিস্কৃত নেত্রী ফরিদা বেগম ও তার স্বামী কামরুল স্বৈরাচারের দোসর সাদ্দাম-তারেক শাহ-জিদনীদের পূনবাসিত করার লক্ষে উঠেপড়ে লেগেছেন। ফরিদা-কামরুলের ইশারা ইঙ্গিতেই দলের ত্যাগী কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে সক্ষম হন ফ্যাসীবাদের দোসর অস্ত্র ও মাদক কারবারী সাদ্দাম শাহ।

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে মাদক সম্রাট হালিম শাহ ও মাদক সম্রাজ্ঞী বেবীর পুত্র সাদ্দাম শাহ ও তারেক শাহ এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে যতসব অপরাধের জন্ম দিয়েছে। এই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমাণ্ড হিসেবে এলাকায় আত্মপ্রকাশ করে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রইস আহমেদ মান্নার অন্যতম সহযোগী মোবারক হোসেন জিদনী।
এদের অত্যাচারে কলোনী ও আশপাশ এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষরা অতিষ্ঠ ছিল। বিশেষ করে এখানকার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ত্যাগী কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে বিতর্কের আরেক কালো অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন এই বাহিনী। এমনকি দলের নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের প্রাণ কেড়ে নিতে হুলিয়া জারি করেছিল তারা। স্বৈরাচারের দোসরদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীদের মধ্যে কাউকে কাউকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। নির্যাতিত কর্মীরা ফেরারি হয়ে মানবেতর জীবন যাপনও করেছিলেন।
বিশেষ করে ভাটার খাল কলোনী এলাকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যাপক হয়রানি, হামলা-মামলা ও বাড়ি-ঘরে লুটতরাজের শিকার হন মহানগর ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাওলাদার মাসুম এর পরিবার। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তেন এই ছাত্রনেতা। দলের জন্য ব্যাপক ত্যাগ রয়েছে এই পরিবারের। মাসুমের মা পারভীন বেগম বিএনপির ত্যাগী নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি জীবনের মায়াকে ত্যাগ করে দলের দুর্দিনেও সময় দিয়েছেন। যিনি কোন লোভ কিংবা সমাঝোতার রাজনীতির সঙ্গে কোনদিন আপোষ করেননি। আওয়ামী লীগের দোসর সাদ্দাম শাহ’র ষড়যন্ত্রমূলক নাটকীয় মামলায় তাকেও আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন দলের ত্যাগী ও নিবেদিতরা।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply