বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর ভাটিখানা ঐতিহ্যবাহী জামে জোড় মসজিদের অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে মুসল্লিরা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) এশার নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মসজিদের সামনে এই বিক্ষাভ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
ভাটিখানা জামে জোড় মসজিদের সাবেক কমিটির সভাপতি সুলতান আহম্মেদ খান এর নেতৃত্বে কর্মসূচীতে এলাকাবাসী ও মুসল্লীরা অংশগ্রহন করেন। বিক্ষােভ কর্মসূচী পালনকালে ‘জোড় মসজিদের অবৈধ কমিটি বাতিল চাই’ শ্লোগান দেয়। এসময় মসজিদের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেন সাবেক সভাপতি সুলতান আহম্মেদ খান। বর্তমান কমিটিকে অবৈধ আখ্যায়িত করে বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মসজিদের বিভিন্ন ব্যক্তির অপকর্ম ধামাচাপা দিতে পুরোপুরি অবৈধপন্থায় আগের কমিটিকে ভেঙ্গে দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করে এক মহল। প্রথমে তারা আহবায়ক কমিটি গঠন করে। আহবায়ক যাকে করা হয় তিনি ৪ নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর কলোনীর বাসিন্দা। অথচ মসজিদ অবস্থিত ৩ নং ওয়ার্ডে। আহবায়কের নাম আতিকুর রহমান মিলন। তিনি পুলিশ বিভাগে কর্মকর্তা। তিনি এখানে থাকেন না, তাঁর বর্তমান কর্মস্থল খুলনা। সাবেক সভাপতি সুলতান আহম্মেদ খান প্রশ্ন রেখে বলেন, যিনি এলাকায় থাকেন না, মসজিদ এলাকায়ও তার বাড়ি না এবং বিশেষ করে তিনি পুলিশ বিভাগে অন্যত্র কর্মরত থেকে কিভাবে ভাটিখানা জামে মসজিদের আহবায়ক হলেন?
তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মিলন আহবায়ক হওয়ার পর একপর্যায়ে মহলটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে। যা এলাকাবাসী এবং যারা মসজিদে নামাজ পড়েন তাদেরকে অবহিত না করেই গোপনে অবৈধ কমিটি গঠনের ফলে ঐতিহ্যবাহী জামে জোড় মসজিদের সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে। আমরা এই অবৈধ কমিটি মানি না, এই অবৈধ কমিটি বাতিল চাই। সেক্ষেত্রে সকলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হোক। তিনি আরো বলেন, অবৈধ কমিটি গঠন করে আগের কমিটির সকল রেজিষ্ট্রার নষ্ট করে দিয়েছে ফাঁয়দা লোটা মহলটি। যাতে আগের কোন ধরণের এভিডেন্স না থাকে।
ঐতিহ্যবাহী জামে জোড় মসজিদে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি মাহমুদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান অবগত রয়েছেন বলে জানিয়েন মসজিদের সাবেক সভাপতি সুলতান আহম্মেদ খান।
অবৈধ কমিটি বাতিল সহ অন্যায় অপকর্মে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন সাবেক সভাপতি সুলতান আহম্মেদ খান। পাশাপাশি তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।
মসজিদের মুসল্লি আবুল কালাম বলেন, আমরা যারা নিয়মিত নামাজ পড়ি অর্থাৎ এই মসজিদের মুসল্লি তাদেরকে না জানিয়ে অবৈধভাবে প্রথমে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর অবৈধভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে। এই অবৈধ কমিটি আমরা বাতিল চাই। একইসঙ্গে আমরা নতুন কমিটির দাবি জানাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, আইন শঙ্খলা বাহিনী শীর্ষ পর্যায়ের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।
অন্যান্য মুসল্লিরা বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বলেন, আমরা এই অবৈধ পকেট কমিটি বাতিল চাই। এবং নতুন কমিটির দাবি জানাই। মুসল্লিরা বলেন, যারা মসজিদের অর্থ আত্মসাত সহ বিভিন্ন অন্যায় অনিয়ম করেছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন স্থানীয় কালু মিয়া, এনায়েত, সেলিম সিকদার, শহীদ আকন, নজরুল ইসলাম, শাহে আলী মল্লিক, ফরহাদ খান বাবু, মো: চান, তারিকুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম, মো: লিটন, মো: রিয়াদ, মো: নয়ন, নাজমুল ইসলাম, রুম্মান, জিহাদ, মো: শরীফ, মাহিন, জয়নাল আবেদীন, মো: কবির প্রমুখ।
এদিকে, বর্তমান মসজিদ কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন লাভলুকে কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভাই, বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি। আমি অসুস্থ, ডাক্তার দেখাতে আসছি। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।
বর্তমান মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আ: করিম ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি কোন ধরণের অন্যায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। তিনি বলেন, আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বরিশাল নগরীর ভাটিখানায় জোড় মসজিদটি অবস্থিত। জোড়-বাংলা ধরণের নির্মাণরীতিতে খুব কম মসজিদই পরিলক্ষিত হয়।
প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কিভাবে নির্মিত হয়েছে বা কে নির্মাণ করেছে এ নিয়ে নানাজনের নানা মত থাকলেও এই বিষয়টি স্পষ্ট যে এটা প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এর নির্মাণকাল প্রকৃতপক্ষে অজানা। প্রতিষ্ঠাতা বা প্রতিষ্ঠাতাদের নামও জানা যায় নি। যদিও জনশ্রুতি রয়েছে কয়েকশত বছর আগে খোয়াজ মল্লিক এবং মদন মল্লিক নামের ভ্রাতৃদ্বয় কর্তৃক এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতিমতে খোয়াজ মল্লিক এবং মদন মল্লিক ভ্রাতৃদ্বয় গুপ্তধন প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন। পরবর্তী সময়ে স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে খোয়াজ এবং মদন মল্লিক এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের বর্তমান রূপটি আদি নয়, বরং সংস্কার-লব্ধ। তবে সংস্কারকালে এর স্থাপত্যরীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply