বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, শুভব্রত দত্ত : বরিশাল : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী, পেটোয়া বাহিনী ও পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে শহীদ হন আতিকুর, রিয়াজ, শাহিন ও নোমান। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ এগিয়ে চলছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক’র কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার বৈপ্লবিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সফল গণঅভ্যুথানে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় বর্তমান তালিকা অনুযায়ী বীরত্বপূর্ন অবদানের মাধ্যমে আত্ম-বলিদান করে শহিদ হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও অঙ্গহানি অবস্থায় রয়েছেন প্রায় শতাধিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে শহীদদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন রয়েছে বরিশাল জেলায়। এসব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন বেশির ভাগ রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায়।
সরেজমিনে জানা গেছে, জেলার হিজলা উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে শহীদ হয়েছেন চার জন। উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মো: হাসান আলী রাঢ়ী’র পুত্র মো: শাহিন (২৫)। তিনি একটি হোটেলে কর্মরত ছিলেন। মো: শাহিন ১৯ জুলাই নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগং সড়কে গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শহীদ হন। পরে ২০ জুলাই শহীদ মো: শাহিন’কে খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থান-এ নামাজে যানাজা শেষে দাফন করা হয়।
অপরজন, হিজলা উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার মাহমুদুল হক রাঢ়ী’র পুত্র ছাত্রদলকর্মী মেধাবী ছাত্র শহীদ মো: রিয়াজ রাঢ়ী (২৪)। তিনি ঢাকার সাইন্সল্যাব সড়কে ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ১৭ আগস্ট শহীদ হন। শহীদ মো: রিয়াজ রাঢ়ী’কে হিজলা উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার গ্রামে নিজ বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থান-এ নামাজে যানাজা শেষে দাফন করা হয়।
অপরদিকে, হিজলা উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মো: নাসির উদ্দিন’র পুত্র সাংবাদিক মো: আতিকুর রহমান (৩৫)। সাংবাদিক আতিকুর ঢাকার যাত্রা বাড়ি এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাত ৯টায় তার সন্ধান মেলে। ৬ আগস্ট শহীদ মো: আতিকুর রহমান (সাংবাদিক) কে উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থান-এ নামাজে যানাজা শেষে দাফন করা হয়। আরো জানাগেছে, হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের চরদেবুয়া গ্রামের নাঈম সরদারের পুত্র মো: নোমান (২৩)। শহীদ নোমান ছোট থেকে বড় হয়ে উঠা ঢাকায়। শহীদ নোমানের মৃতদেহ স্বজনরা ঢাকায় দাফন করেছেন।
বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি শুরুতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় ভাবে হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি পরিবারের যথাসাধ্য খোজঁ খবর রাখছি। স্থানীয ভাবে সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছি। একইসাথে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট শহীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে শহীদদের প্রতি গভির শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, বরিশাল জেলা প্রশাসক-এর পক্ষ থেকে বরিশারের ১০টি উপজেলায় কেন্দ্রিয় দিক-নিদের্শনা অনুযায়ী প্রতিটি শহীদ পরিবারকে আর্থিক অনুদানসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে বরিশালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত, শারিরিক ভাবে পঙ্গু হয়েছেন এমন ছাত্র-জনতার হালনাগাত তালিকা প্রনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রাথমিক ভাবে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার-এর স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। যাদেরকে কেন্দ্রিয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সাহায্য ও সহযোগীতা করা হবে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply