বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম কর্তৃক সৈয়দ হাতেম আলী মিরার পুরান বাড়ি ভাটিখানায় শত শত মানুষের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যােগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে কারারক্ষীর এতো অর্থের উৎসের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়। এবং রাস্তা ও ড্রেন দখল করায় তার বিচার দাবি করছেন স্থানীয়রা। সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কারারক্ষীর নির্মাণাধীন ভবনের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ হাতেম আলী মিরার পুরান বাড়ি এলাকায় নিয়ম কানুনকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে ডিপ টিউবওয়েল ও ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছে কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বরিশাল সিটি মেয়র, বরিশাল জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বক্তারা বলেন, ৩ ও ৭ নং ওয়ার্ডের হাতেম মিরার পুরান বাড়ির পূর্ব সীমানা দিয়ে উত্তরে একটি ড্রেন পান্থ সড়কে সংযোগ হয়েছে। ওই ড্রেনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত লোক যাতায়াত করেন। এখানে প্রশাসনের গাড়ি কিংবা অ্যম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারেনা।
অথচ অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে এখানে চলাচলের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ করছে কারারক্ষী শহিদুল। এলাকাবাসী এই কারারক্ষী শহিদুলের এতো অর্থের উৎসের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান। এবং রাস্তা ও ড্রেন দখল করায় তার বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী। কারারক্ষীর বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং রাস্তা ও ড্রেন দখলের বিষয়ে বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কারারক্ষী শহিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল গ্রামে। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘুরে ফিরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কিভাবে অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এসব বিষয় স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল বলছেন, এই কারারক্ষীর সংঘবদ্ধ চক্রের দখল দারিত্ব বন্ধসহ আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে, অবৈধভাবে চলাচলের পথ দখল করে টিউবওয়েল ও ভবন নির্মাণ কাজ চালানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ২০জন সচেতন মহলের স্বাক্ষরিত এক আবেদন পত্রও স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সলর সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।

এসব প্রসঙ্গে কারারক্ষী শহিদুল সংবাদিকদের বলেন, আমি আমার সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছি। ওই ড্রেনও আমার সম্পত্তির মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়টি কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকনও (মামা খোকন) অবিহত বলে মন্তব্য করেন কারারক্ষী শহিদুল। তিনি আমার বিষয়ে সব জানেন। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। কাউন্সিলর মামা খোকনের কাছে জিজ্ঞাসা করেন।
এ প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের আড়াই শাকিল বলেন, ওই স্থান আমি পরিদর্শন করে আসছি। এ বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকন এ বিষয়ে বলেন, শহিদুল নামের কারারক্ষীকে আমি চিনি না। কারারক্ষী শহিদুল আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখল দ্বারিত্ব এবং দ্বাম্ভিকতা প্রদর্শন করে আসছে এরকম প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, একে তো আমি চিনি-ই না।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
[…] পেয়েছি : বাউফল ইউএনও বশির গাজী বরিশালে কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম কর্তৃ… পটুয়াখালীতে জামিন নেওয়া […]