বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের চরআইচা গ্রামে ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে বুধবার রাতে বসত বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃত খালেদ খান রবীনের পিতা সাদেকুর রহমান খান খলিলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী সিফাতের বসত বাড়িতে এই লুটতরাজ চালানো হয়েছে। লুটপাটের ব্যাপারে সিফাতের মা রাহিমা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রবীনের পিতা সাদেকুর রহমান খান খলিল, খালেদ খান রবীন, ইমন আকন, রাজিব আকন, প্রিন্স হাওলাদার, শফিকসহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনকে অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, সন্ত্রাসী হামলায় ভাঙচুর ও লুটপাটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। সন্ত্রাসীরা ঘরের সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্নালঙ্কার লুটে নিয়েছে। সন্ত্রাসীদের নির্ধারিত চাঁদার দাবিতে বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সিফাত ও রবীন দুইজনই ছাত্রলীগের কর্মী। সিফাত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক রইজ আহমেদ মান্নার অনুসারী। এবং রবীন বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনের অনুসারী। এরমধ্যে রবীন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে অসাংগঠনিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিস্কার হন।
খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে জেলা প্রশাসনের অনিয়মত স্টাফ পরিচয়দারী নিজাম উদ্দিন নাঈম এবং ছাত্রলীগ নেতা সুজন বহিস্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী রবীনের পক্ষ হয়ে সাংবাদিকের ম্যানেজ করার পাঁয়তারা চালায়।
সরেজমিনে জানা যায়, চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মৃতঃ মোঃ সুলতান খানের ছেলে সিফাতের কাছে স্থানীয় এক চক্র মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের নির্ধারিত চাঁদা দিতে অপরগতা প্রকাশ করায় বুধবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মী সিফাতের বসত বাড়িতে হামলা চালায় চাঁদাবাজরা। সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র ভাঙচুর চালায় এবং সিফাতকে খুঁজতে থাকে। আসবাবপত্র ভাঙচুরে বাধা দিলে সিফাতের বৃদ্ধ মা ও বোনকে মারধর করে। এসময় সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র (রামদা, লোহার রড) দিয়ে ঘরের ফ্রিজ, টিভি, সোফা, আলমিরা, সুকেজ, খাট, ড্রেসিং টেবিল কুপিয়ে ও পিটিয়ে চুর্নবিচুর্ন করে।
ভুক্তভোগী পরিবার সিফাতের বৃদ্ধ মা রাহিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো: সুলতান খান ২০১৮ সালে অবসর নেয়। ২০২০ সালে তিনি মারা যান। আমার ছেলে সিফাত বাবার চাকরির অবসরের টাকা দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক রইজ আহমেদ মান্নার সঙ্গে ছাত্রলীগ করে আসছে।
সিফাতের মা রাহিমা বেগমের ভাষ্য, আমার ছেলে ঠিকাদারী ব্যবসায় লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনের অনুসারী রবীনের। এরইপরিপ্রেক্ষিতে রবীন বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। আমার ছেলে সিফাত চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষীকীতে মান্নার সাথে যাওয়ায় সুজন অনুসারী রবীন এতে আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। এরই জেরধরে আমার বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট ও ভাঙচুরের তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। ভূক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, প্রতিপক্ষরা এমনভাবে ভাঙচুর করেছে যে, এক গ্লাস পানি খাবো সে সুযোগও রাখেনি। আক্ষেপ করে সিফাতের মা বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি করাই আমার ছেলের ও পরিবারের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী সিফাতের বোন নুপুর বেগম বলেন, গত ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত যুব সমাবেশে যোগ দিতে সিফাত এবং রবীন যে যার রাজনৈতিক নেতার সাথে সমাবেশে অংশ নেয়। সিফাতের সাথে রবীন খানের বাড়ির জয় খান সমাবেশে যায়। জয় সিফাতের মাধ্যমে মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক রইজ আহমেদ মান্নার সাথে সমাবেশে যাওয়ায় সিফাতের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয় রবীন। এবং জয় খানকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিফাতকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এর পিছনে ছাত্রলীগ নেতা সুজনের মদদ রয়েছে। এরইধারাবাহিকতায় গত বুধবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা রাতে পূর্ব পারিকল্পনা মোতাবেক সিফাতকে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। স্থানীয় সন্ত্রাস প্রকৃতির সাদেকুর রহমান খলিল খান ও তার ছেলে খালেদ খান রবীনের নেতৃত্বে ছালাম আকনের ছেলে ইমন আকন, রশিদ আকনের ছেলে রাজিব আকন, আবুল মিরার ছেলে সফিক মীরা, প্রিন্স হাওলাদার সহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হঠাৎ করে বসত ঘরের গ্লাসে ইট মারতে থাকে। এরপর সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরের সদর দরজায় আঘাত করতে থাকে। ঘরে তখন সিফাতের বৃদ্ধ মা ও বোন ছিল। একপর্যায়ে দরজা ভেঙে সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র ভাঙচুর চালায় এবং সিফাতকে খুঁজতে থাকে। আসবাবপত্র ভাঙচুরে বাধা দিলে বৃদ্ধ মা ও বোনকে মারধর করে। এসময় সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র (রামদা, লোহার রড) দিয়ে ঘরের ফ্রিজ, টিভি, সোফা, আলমিরা, সুকেজ, খাট, ড্রেসিং টেবিল কুপিয়ে ও পিটিয়ে চুর্নবিচুর্ন করে। আলমিরা ভেঙে স্বর্নালঙ্কারসহ নগদ টাকা নিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় উপায়ন্তর না পেয়ে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশি সহায়তা চাইলে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে বহিস্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ খান রবীন বলেন, সিফাতের বাড়িতে হামলা-লুটপাটের ঘটনা আমি শুনেছি, কিন্তু ওই হামলার সঙ্গে আমার কোন সম্পূক্ততা নেই। রবীন দাবী করেন, বুধবার সন্ধ্যায় আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি বর্তমানে মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, চরআইচা এলাকার সিফাতের বাড়িতে হামলা-লুটপাটের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply