বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : টিভি চুরির অপবাদ দিয়ে কাঠ মিস্ত্রি কাওসার আহমেদকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের শাপানিয়া এলাকায় বাসিন্দা কাঠ মিস্ত্রি কাওসার। তিনি মানুষের বাড়িতে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই পার্শবর্তী এলাকা ৩ নং ওয়ার্ডের কাগাশুরা শরীফ বাড়ির রানা শরীফের ঘর থেকে টিভি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় রানা শরীফ কাউনিয়া থানার চুরির অভিযোগ করেন। এরপর ঘটনার দিন গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে একই এলাকার রানা শরীফ সন্দেহের বসে তার ভাগ্নে আলীফকে দিয়ে দিনমজুর কাওসার ও তার স্ত্রীকে ডেকে আনে রানার বাড়িতে। কাওসার ও তার স্ত্রী রানার বাড়িতে আসার পর রানা শরীফ তাদেরকে ঘরে বসিয়ে রেখে এলাকার কয়েকজন বখাটে যুবককে মুঠো ফোনে ডেকে আনে। এরপর রানা শরীফের পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক বাড়ির গেট বন্ধ করে এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে কাওসার ও তার স্ত্রীর মুঠো ফোন কেড়ে নিয়ে চাল পড়া খাইয়ে দোষী সাবস্ত করে রানা ও রানার স্ত্রী দুজনকে দুই রুমে নিয়ে বেধরক মারধর করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাওসার কাঠ মিস্ত্রি ও দিনমজুর কাজ করর স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোনমতে জীবনযাপন করেন। কাঠ মিস্ত্রি আনোয়ারের বয়স পয়ত্রিশ। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে কখন কোন খারাপ রেকর্ড নেই এলাকায়। অপরদিকে রানা শরীফ নিজেকে দাম্ভিকতা সাথে পরিচয় দেয় পরিচয় দেয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি। অথচ দলীয় একাধিক লোকের কাছে জানা যায়. রানাকে ইউনিয়ন সেচ্চাসেবকলীগের কোন পদ এখনও দেয়া হয়নি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য, কাওসারকে যদি সন্দেহ হয়ে থাকে তাহলে রানার তো থানায় অভিযোগ দেয়া উচিৎ ছিল। থানা পুলিশের হাতে তুলে দিত। তারা আইনি ব্যবস্থা নিতেন। এভাবে তো সন্দেহ করে বাড়িতে ডেকে এনে বাড়ির গেট দরজা বন্ধ করে চাল পড়া খাইয়ে দোষী সাবস্ত করে অমানুষিক নির্যাতন করতে পারে না।
কাওসারের স্ত্রী লাইজু আক্তার বলেন, রাত নয়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত আমাকে আর আমার স্বামীকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেধরক মারধর রানা শরীফ, সম্রাট শরীফ, আনোয়ার মুন্সি, আলীফ সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন। এসময় রানা আমার স্বামীকে চুরির ঘটনা স্বীকার করানোর জন্য পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধরক পিটায় এবং সম্রাট শরীফ প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের নখ উপরে ফেলার চেষ্টা করে।
আহত কাওসার বলেন, রানা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে বেধরক মারধর করেছে। রাত দুইটার দিকে আমার স্বজনরা পলিশে খবর দেয়। কাউনিয়া থানা পুলিশ এসে আমাদেকে উদ্ধার না করলে আমাকে মেরেই ফেলত নির্যাতন করতে করতে।
আহতের এক স্বজন বলেন, আমাদের আত্মীয় যদি চুরি করেও থাকে সেজন্য তো পুলিশ প্রশাসন আছে। এভাবে একজনকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে নৃশংস নির্যাতন করবে এটা তো হতে পারে না। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আহত ও তার স্বজনরা। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply