বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : ভোট জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার চাচাতো ভাই ও বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, আক্তার হোসেন আকেজ, বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুয়াল হোসেন অরুণ, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আড়াইশ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ২০১৪ সালে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্র দখল, বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো, ব্যালটে সিল জালিয়াতিসহ নৈরাজ্যে সৃষ্টির অভিযোগে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন ওই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক মনিরুজ্জামান জামাল।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার বাদী মনিরুজ্জামান জামাল অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের চাচাতো বাই সাইদুর রহমান রিন্টু। তাই অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন তিনি। তারা বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যা-জখমের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে উপজেলায় রিন্টুর প্রতিটি নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে ভোট ডাকাতি করেন। ভোটের আগে যে ভোটারের জানাজা নামাজ আদায় করেন প্রার্থী রিন্টু, সেই ভোটারের ভোট কেন্দ্রে শতভাগ ভোটগ্রহণ দেখানো হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা দুলাল তালুকদারের সঙ্গে সভা করে ৩০টি কেন্দ্রে বোমা ও অস্ত্রের ব্যবহার করে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্স ভর্তি করেছেন। দেশে মামলা করার পরিবেশ না থাকায় এতদিন মামলা করা হয়নি। বর্তমানে আইনের শাসন ও জীবনের নিশ্চয়তা থাকায় ন্যায়বিচার পেতে মামলা করা হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ওই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন মো. দুলাল তালুকদার। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
এরআগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতা ও নেত্রীকে মারধরের ঘটনায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় তিনশ নেতাকর্মীর নামে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দুইটি করা হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী হলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফারজানা খান রোজী। মামলায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গির, সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ ২৬ জন নামধারী ও ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি, চুরি, খুন জখমের হুমকিসহ বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী অভিযোগ করেন কালো পতাকা দিবস পালন করতে সদর রোড গেলে আসামিরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গুলি চোরে, বোমা নিক্ষেপ করেন। এসময় নামধারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা বাদীকে আটকে মারধর, শ্লীলতাহানি চুরি ও খুন জখমের হুমকি দিয়েছেন।
অপর মামলার বাদী হলেন সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মিন্টু। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় আসেন। তখন আওয়ামী লীগের নামধারী ৩৮ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২শ নেতাকর্মী হামলা করে। তারা গুলি করে জখম করাসহ খুন জখমের হুমকি দিয়েছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply