বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল সিটি নির্বাচনে হাকডাক দিয়ে মাঠে নামা মেয়র হওয়ার স্বপ্নে বিভোর জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জোরেশোরে বলে আসছিলেন-তিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন। ভদ্রবেশি জাপার প্রার্থী অনেকটা বিজয় নিশ্চিতে স্বপ্নে বিভোর হয়ে নির্বাচনী মাঠে তার মধ্যে দ্বাম্ভিকতাও প্রদর্শন করেছিলেন। নগরজুড়ে স্বল্প সংখ্যক কর্মী নিয়ে মাঠ দাবড়িয়ে বেড়িয়েছিলেন তিনি। টানা কয়েকদিনের প্রচারণা শেষে মেয়র হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ফুরফুরে মেজাজেও ছিলেন তাপস। বাস্তবে দেখা গেলো বরিশাল সিটিতে লাঙ্গলের এই প্রার্থীর নিজস্ব কোন ভোট ব্যাংক নেই। নেই কোন জনপ্রিয়তা। শুধু নির্বাচনের মাঠে ফাঁকা বুলি আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি আওড়িয়াছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে জামানাতই হারিয়েছেন তিনি।
জাপা প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস এর ছোট ভাই এইচ এম তসলিম উদ্দিন বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন রয়েছেন। এই যুবদল নেতা তসলিম উদ্দিনের ভক্ত-সমর্থকরা বড় ভাই ইকবাল হোসেন তাপসের পক্ষেই কাজ করেছিলেন বলে চাউর ঘটে। সেক্ষেত্রে বিএনপির একটি অংশের ভোট পাওয়ার বেশ আশাবাদী ছিলেন তাপস সমর্থকরা। কিন্তু সেই আশায়ও গুড়েবালি হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৬৫ ভোট পেয়ে জামানাত হারিয়েছেন। এছাড়া টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৯ ভোট, হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান ৫২৯টি ভোট, হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী হোসেন হাওলাদার ২ হাজার ৩৮১ ভোট, জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের মিজানুর রহমান বাচ্চু ২ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে জামানাত হারিয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে দ্বিগুণ ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত।তিনি পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৮০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট। সোমবার (১২ জুন) রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর।
তিনি জানান, এ নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৫১.৪৬%। অর্থাৎ ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৭টি ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ১৭৭টি। প্রদত্ত এ ভোটের মধ্যে ৪২১টি ভোট বাতিল হয়েছে। সেই হিসেবে বৈধ ভোটের সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৭৫৬টি।
প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগও ভোট না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ তথ্যানুযায়ী, মেয়র প্রার্থীদের প্রত্যেককে জামানতের টাকা ফেরত নিতে হলে ১৭ হাজার ৭৭২টির মতো ভোট পেতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদ্বয় ছাড়া এই কোটা পূরণ করতে পারেননি আর কেউই। তাই জামানত হারাতে হচ্ছে বাকী ৫ প্রার্থীকেই। যে টাকা অর্থ চলে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের আয়ের খাতে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলেন জাপার প্রার্থী তাপস
যদিও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল বরিশাল নগরের অক্সফোর্ড মিশন রোডে নিজ বাসভবন সংলগ্ন নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। নগরবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আশা আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা ও আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। আপনারা আমাকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং দিয়েছিলেনও। কিন্তু এই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন তাদের কথা রাখেনি। মেরুদণ্ডহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছিলেন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনসহ সরকার ও সরকারের সকল সংস্থাগুলো আপনাদের সাথে ডিজিটাল প্রতারণা করেছে। ভোটের ফলাফল আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। সরকারের সকল সংস্থাগুলো ইভিএম’র সর্বোচ্চ নগ্ন ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। তাপস বলেন, আমি সব সময় তাদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলেছি। বিধায় আমাকে ফলাফলে চতুর্থস্থানে রাখা হয়েছে। মেয়র পদে বরিশাল সিটি নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে প্রভাবিত করে ফলাফল তাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, জামানত জব্দের আইন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য একই। তবে মেয়রের ভোটের হিসাব হবে ৩০টি ওয়ার্ডের মোট কাস্টিং ভোটের ওপর। আর কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে হিসাব হবে প্রতি ওয়ার্ডের মোট কাস্টিং ভোটের ওপর।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল ও নিয়মানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ১১৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৪৭ জন এবং ৪১ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
অর্থাৎ জামানত বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছেন মোট ৬২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। যেখানে সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে একজনও নেই ৮, ৯, ১০ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জামানত হারাচ্ছেন সর্বোচ্চ ৫ জন। তবে সংরক্ষিত ৭, ৮, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নেই একজনও।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply