বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশালে শিক্ষাখাতে নানা কায়দায় স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়লে উল্টো বিতর্কিত ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষ একমহল মিথ্যাচার চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বোর্ড চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযােগ করেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরকে বরিশাল নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডস্থ আব্দুল ওয়াহেদ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশেষ এক মহল। প্রস্তাবিত তালিকায় স্বৈরাচারের দোসরকে এক নাম্বারে রাখার অভিযোগে স্থানীয় সচেতনমহল সহ ছাত্র-জনতা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ভাষ্য, শিক্ষাখাতে স্বৈরাচারের দোসরদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে একমহল।এরইধারাবাহিকতায় কমিটি গঠনে প্রস্তাবিত তালিকায় সাবেক চেয়ারম্যান ছালাম মিয়ার স্ত্রীর নাম এক নম্বরে রাখা হয়। তিনি পতিত আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত এবং মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তালিকায় প্রথম থাকা ব্যক্তিই মূলত: সভাপতি পদে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে কমিটি গঠনে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত ওই ব্যক্তিকে চুড়ান্ত এক নম্বরে রেখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে তালিকা প্রেরণ করা হয়। এ খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোন দোসর যাতে সভাপতি পদে মনোনীত না করা হয়, সেজন্য
সোমবার (১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলী সিদ্দিকীকে বিষয়টি অবহিত করেন ক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা।
স্বৈরাচারের দোসরদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের পাঁয়তারায় বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিশেষ মহলটি উঠেপড়ে লেগেছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির তালিকায় নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারকে দুই নম্বরে রাখা হয়। স্বৈরাচারের দোসরের নাম বাদ দিতে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে জিয়াউদ্দিন সিকদারকে দুই নম্বরে রাখার ইস্যুকে সামনে রেখে মহলটি বিভিন্ন মাধ্যমে ফলাউ করে প্রকাশ ঘটান যে- বোর্ড চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তালিকায় স্বৈরাচারের দোসরের নাম রাখা নিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে যাওয়া ছাত্র-জনতাকে জিয়াউদ্দিন সিকদারের লোকজন বলে আখ্যায়িত করা হয়।
এদিকে, ঘটনার আগ থেকেই থেকেই জিয়াউদ্দিন সিকদার ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি জানান, নিয়ম মেনেই বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। তালিকার ১ নং, ২ নং এগুলো গোপনীয় বিষয়। এটি আমাদের পক্ষে কোন মাধ্যমে প্রকাশে নিয়ম নেই। আমরা বিভাগীয় কমিশনার স্যারের কাছে দিয়েছি। তিনি যেভাবে ভাল মনে করেছেন সেভাবেই করেছেন।
বোর্ডের সহকারি সচিব এবং কর্মচারী সংঘের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ওয়াহেদ বিদ্যালয়ের যে কমিটি দেয়া হয়েছে তাতে যার নাম ১ নম্বরে রাখা হয়েছে তিনি ফ্যাসিস্ট। এজন্য ছাত্র-জনতা গিয়ে বলেছেন যে- ফ্যাসিস্ট কাউকে রাখা যাবে না। তিনি দাবি করেন, অবরুদ্ধ নয় অনেক মানুষ তাই এমন মনে হয়েছে।
শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইউনুস আলী সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এ ওয়াহেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির প্যানেলে ১ নম্বরে রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ: ছালামের স্ত্রীকে। আর ২ নম্বরে রাখা হয়েছে বিএনপি নেতা জিয়াউদ্দিন সিকদারকে। তিনি বলেন, একদল কর্মী জানতে চেয়েছেন কেন জিয়া ভাইয়ের নাম ২ নম্বরে গেল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কে আহবায়ক হবেন তা বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় নির্ধারণ করে তালিকা পাঠান। এখানে আমাদের হাতে কিছুই নেই। আমি এ বিষয়টি নিয়ে আবারও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে মন্তব্য করেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply