বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশালের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্নস্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ দলটির। বিএনপি নেতারা বলছেন, গৌরনদীতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা করে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। এরফলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। রোববার (৬ নভেম্বর) বরিশাল নগরের একটি রেস্টুরেন্টে দলের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
বিএনপির নেতারা বলছেন, বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে হামলায় আহত নেতাকর্মী ভর্তি আছেন। বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনসহ বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগীয় গণসমাবেশের সমন্বয়ক প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কীর্তনখোলার তীরে টাকা উড়ছে বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, টাকা দিয়ে ওবায়দুল কাদের উড়তে পারেন, কিন্তু বরিশালের জনগণ টাকায় ওড়ে না। গণসমাবেশের টিম লিডার হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, সমাবেশস্থলে যাতে নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং সাধারণ জনগণ যাতে না আসতে পারেন, এ জন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার ঠেকাতে পারেনি সরকার। বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে পৌঁছে গেছেন। এ সময় তাদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। কুপিয়ে আহত করা হয়। দলের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছিল। হামলা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। গৌরনদী বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দিয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে গৌরনদীর নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষ হলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. বিলকিস জাহান শিরীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, আকন কুদ্দুসুর রহমান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবীর, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
স্থানীয়সহ বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য, বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিতে ইশরাক হোসেন ৫০ থেকে ৬০টি গাড়ির বহর নিয়ে শনিবার (৫নভেম্বর) সকালে বরিশালে যাচ্ছিলেন। সকাল ৭টার দিকে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. রাসেল রারি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিলাশ কবিরাজ ও মাহিলাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবলীগ–ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁরা বহরে থাকা ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করেন। সূত্রগুলো বলছে, বহরে হামলার পরে ইশরাক হোসেনের সফরসঙ্গীরা জড়ো হয়ে মাহিলাড়া মডার্ন ক্লাবের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৫ নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা থেকে বরিশালের সমাবেশে যাবার পথে গৌরনদীতে পিছন থেকে তার গাড়ি বহরে হামলা করা হয়েছে। ৮টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘সরকার দলীয় লোকজনদের হামলায় ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল হক সহিদ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মামুন ভূঁইয়া, মো. রাসেল, মো. বাবুল ও খোকন এবং ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইমরান, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সদস্য সচিব মাসুদ রানা, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল নেতা রকি ও আল আমিনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
উল্লেখ্য, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজারে মডার্ন ক্লাবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শনিবার (৫ নভেম্বর) রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান মিন্টু, সজল সরকার ও জাফরসহ নামধারী ৭০ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাসেল রাঢ়ী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ইশরাক হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলালউদ্দিন জানান, পেনাল কোড ও বিস্ফোরক দ্রব্যে আইনে মামলা হয়েছে।
মাহিলারা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি শহীদ সরদার জানান, তারা ১০/১২ জন সকাল ৬টার দিকে মাহিলারা বাজারের সামনে রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে ৭০/৭৫টি গাড়ির বহর এসে বাজারের সামনের মহাসড়কে থামে। তখন গাড়ি থেকে ক্যাডাররা নেমে বাজারে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছে। তারা কার্যালয়ের মধ্যে থাকা টিভি, চেয়ার টেবিল ভাংচুর করেছে। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি ছিড়ে ফেলেছে। শহীদ অভিযোগ করেন, হামলাকারীর ৭টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করেছে। তারা মোটর সাইকেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছে। হামলাকারীরা মাহিলারা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বিলাস কবিরাজকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সঙ্গীত সিকদারসহ আরো দুইজন আহত হয়েছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ইশরাকের নেতৃত্বে তার দলের লোকেরা আমাদের দলীয় কার্যালয়, দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। তাদের হামলায় আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়ে গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply