বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশাল সদর রোডস্থ সেইভ হেলথ হসপিটাল ইনস্টিটিউটে সাবেক কমিশনার মোঃ ইউনুস মিয়ার হুকুমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল শের-বাংলা-মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও বরিশাল সদর রোডস্থ সেইভ হেলথ হসপিটাল ইনস্টিউট এর চীফ কনসালটেন্ট ডা : এ,কে, এম আমিনুল হক বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০২, ২০২২। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরআগে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্য জালিয়াতির মামলায় হাবিব স্টোর্সের ইউনুস মিয়া ও মধুবন ট্রেডার্সের নুরে আলম খোকনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সেইভ হেলথ হসপিটাল ইনস্টিউটে ভর্তি রোগীদের সাথে থাকা লোকদের সামনে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসর প্রাপ্ত প্রফেসর ডা : এ,কে. এম আমিনুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
মামলার বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফজলে মাশরুর খানের কাছ থেকে এওয়াজ বদল করে বরিশাল কোতয়ালী থানাধীন বরিশাল শহরের সদর রোডস্থ জে.এল নং ৪৯, খতিয়ান নং ১২১৪, দাগ নং ১২৬৭ এর হাবিব স্টোর, মধুবন ট্রেডার্স ও গোডাউনের মালিক হয়ে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছি।
ইউনুস মিয়া, নুরে আলম খোকন, মামুন খন্দকার, মো: রহমান
পূর্ববর্তী মালিক হতে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি তারিখ ১ বছরের উচ্ছেদ যোগ্য, স্বেচ্ছাধীন মাসিক ভাড়া চুক্তি করে উপরোক্ত দোকান ঘর ভাড়া ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। উক্ত চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে কোন চুক্তিপত্র করে নাই।
বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে আমি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখিত দোকান ঘরে উপস্থিত হয়ে আমার দোকান ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললে আসামীরা তাদের দলীয় সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়া আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দিয়া আতঙ্ক সৃষ্টির পরিবেশ অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় ঘটনার আগের দিন গত ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসামী মামুন খন্দকার, মো: রহমান, গোলাম সরোয়ার, তানভীর আসামীদেরকে আমার মালিকানাধীন উল্লেখিত পাশাপাশি দোকানগুলিতে পেয়ে সাক্ষীদের মোকাবেলায় দোকানের বকেয়া ভাড়াসহ বর্তমান ভাড়া পরিশোধ করার কথা বলায় আসামীরা সকলেই আমার সহিত অশালীন ভাষা ব্যবহারসহ মারমুখী আচরন করে। এবং বলে যে, “আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দোকান ঘর থেকে ভাড়া চাওয়ার সাধ জনমের মত মিটাইয়া দিব”। আসামীদের মারমুখী অবস্থা দেখে মান সম্মান রক্ষার্থে সাক্ষীদের সহ বাসায় চলে আসি। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ১৮ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৫ টার টার দিকে আসামী মো: ইউনুস মিয়া ও নুরে আলম খোকনের হুকুমে অন্যান্য আসামীরা ও তাদের সঙ্গীয় অজ্ঞাত নামা আরো ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী বে-আইনী জনতাবদ্ধে বিভিন্ন প্রাণনাশক অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া যথা রামদা, ছোড়া, চা-পাতি, লোহার রড ইত্যাদি সহ ঘটনাস্থলে অর্থাৎ বরিশাল শহরের ১৩৪ সদর রোডস্থ সেইভ হেলথ হসপিটাল ইনষ্টিটিউটের” গেটে ও আমার বাসার সামনের গেটে আসে। এরপর আমার ও আমার স্ত্রীর নাম অধ্যাপক ডাঃ সেলিনা পারভীন নাম উচ্চারন করে অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করে। আসামীরা আমার বসত বাসায় ও উল্লেখিত হসপিটালে পরিকল্পিতভাবে, আকর্ষিকভাবে, দলবদ্ধ ভাবে, শক্তির মহড়া, দাপট প্রদর্শন করিয়া ভয়ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থির সৃষ্টি করে আমার পরিবারের সদস্যেদের, হাসপাতালের কর্মচারী, নার্স এবং রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনার দিন ও সময় অবরূদ্ধ করে রাখে। এবং আসামীরা মারমুখীরূপ ধারণ করে আমাদের মালিকানাধীন সেইভ ইনষ্টিটিউটে ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে থাকা লোকদের সামনে আমাকে ও আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ক্লিনিকে ও বাসার মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সকাল ৫ টা থেকে বেলা ১০ টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে।
আমাদের না পেয়ে এই বলে হুমকি দেয় যে, দোকানে পূণরায় ভাড়া চাইতে গেলে আমাদের হাত পা কেটে ফেলবে। আসামীরা ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত্ত অনুমান ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত আমার বাসা সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে আমার মালিকানাধীন গোডাউনের দক্ষিণ পার্শ্বে বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিকল্পিতভাবে, আকর্ষিক ভাবে, দলবদ্ধ ভাবে শক্তির মহড়া, দাপট প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টিতে বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আমাকে ও আমার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে অবৈধভাবে দেয়াল নির্মাণ করে। অবৈধভাবে হাবিব ষ্টোর্স ও এইচ. আর নেভিকেশন, মধুবন ট্রেডার্স নামীয় দোকানে আসামীরা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ফিটার থেকে লাইন (মিটার বিহীন) সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করে আসছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply