বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারী আ: মমিন খানকে গ্রাম পুলিশ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি চন্দ্রপাড়া ৯ নং ওয়ার্ডের চৌকিদারের ছিলেন। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর ২০২৩) বাউফলের ইউএনও বশির গাজী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।
বলাবাহুল্য, এলাকায় নানা অপকর্মের হোতা এই মমিন খানের অপরাধের ফিরিস্তি এরআগে ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ প্রকাশিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চন্দ্রপাড়া গ্রামের মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে এলাকায় রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন এক সংঘবদ্ধ চক্র। এলাকায় সকল ধরণের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত মমিনের গড়ে ওঠা চক্রের সদস্যরা।
ক্রমেই মমিন বাহিনীর চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদককারবারী সহ নানা ধরণের অন্যায় অপকর্মে এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী অতিষ্ঠ হয় পড়ে। অব্যাহতভাবে এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করে সাধারন মানুষকে হয়রানী করে আসলেও অদৃশ্য শক্তিতে বার বার পাড় পেয়ে যেতো।
বরখাস্ত হওয়া মমিন খানের যতো অপকর্ম অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর ভাষ্য, গ্রাম পুলিশ মমিন খানের নেতৃত্বে ২০১৫ সালে স্থানীয় চন্দ্র পাড়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিন মৃধার বড় ছেলেকে চাঁদার দাবিতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছিল। এতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং সেসন ৩০১/ ২০১৬ যা বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে চলমান আছে। মামলা চলমান অবস্থায় মমিন খান তার ভাই ও তার বাবাকে নিয়ে বাঁদিকে হুমকি প্রদান করলে বাদী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে জামিন বাতিলের দরখাস্ত প্রদান করেন। এবং বাদী বাউফল থানার ইউএনও পটুয়াখালী জেলার ডিসির কাছে মমিন খানের চাকরি বাতিলের জন্য দরখাস্ত প্রদান করেন। এলাকার ২০০০ জনগণ মমিন খানের চাকুরী বাতিলের জন্য দরখাস্ত প্রদান করেন। এদিকে, বাউফল থানার ইউএনও শুনানিতে দেখেন তার বিরুদ্ধে থানা থেকে যে চার্জশিট হয়েছে তা আদালতে জামিন অযোগ্য ধারায় গৃহীত হয়েছে। তাই বাউফল থানার ই্উওনও বশির গাজী মমিন খান কে বরখাস্ত করেন। বাউফল ইউএনও অফিস থেকে বরখাস্তের চিঠি ডিসির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে স্থানীয় কালাম মুন্সিকে চাঁদার দাবিতে নির্যাতন চালালে মমিন খানের বিরুদ্ধে জিআর ৩৮২/১৪ মামলা হয়। স্থানীয় ফাতেমা নামের এক নারীকে চাঁদার দাবিতে পিটিয়ে জখম করে মমিন খান। নারীকে নির্যাতনের ঘটনাও মমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। স্থানীয় কালাইয়া ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে ধর্ম বোন ডেকে তার সাথে অবৈধ মেলামেশা করে। একপর্যায়ে জনগণের হাতে ধরা খেয়ে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিল মমিন। এরআগেও বরখাস্ত হন মমিন খান
এরআগে স্থানীয় কালাম মুন্সির মামলায় মমিন খান কারাগারে যায়। সেসময়ও তাকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গোপন বুনিবোনা কিংবা সমাঝোতায় অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে সাময়িক বরখাস্ত স্থগিত করতে সক্ষম হন ধুরন্ধর মমিন খান।
এরমপরিস্থিতে মমিন খানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রাম পুলিশ মমিন খানকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাউফল উপজেলার ইউএনও বশির গাজী।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply