বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
বাউফল প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন ঘিরে নানা প্রশ্নে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরফলে প্রাত্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম বিভাজন দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ বহু বিতর্কে বিভক্ত অবস্থা । বলাবাহুল্য, নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারী ৫৬ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছে। কথা উঠেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপ দিতে পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী। এতে করে দ্বিধা-দ্বন্ধ দেখা দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা ডজন খানেক বিসিএস ক্যাডার, অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পদস্থ কর্মকর্তাসহ অনেকের মধ্যে নেই ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তীর উৎসাহ-উদ্দীপনা।সুবর্ণ জয়ন্তী পালন ঘিরে যত বিতর্ক!
বলা হচ্ছে, স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের পকেট ভরার জন্যই নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সূবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষ্যে ব্যাপক চাঁদা তোলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি চলছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য, নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯৬৮ খিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে বিদ্যালয় বর্তমান বয়স ৫৫ বছর। অর্থাৎ আগামী ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি ৫৬ বছরে পা রাখবে । এরকম অবস্থায় ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের যুক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন করার ফরম পূরণ শেষ দিন হলেও কত ফরম বিক্রি হয়েছে এবং চাঁদার টাকা কালেকশন হয়েছে, সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রভাববিস্তারকারী এই পরিবারের দাপটে মুখ খুলতে ভয় পায় শান্তিপ্রিয় মানুষ।
ওই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ আফছার উদ্দিন মৃধা বলেন, আমরা ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা কোন দ্বিধা-দ্বন্ধ চাই না। একটি মহল হিংসাত্মকভাবে স্কুলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সবার, একক পরিবারের হওয়া উচিত নয়। কেন এবং কি জন্য ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করছেন তা আমার বোধগম্য নয়।
ওই বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তি পালন কমিটির ঘোষিত সভাপতি মোঃ টিপু সুলতান এবং সাধারণ সম্পাদক মমিন খান বলেন, আমরা ২০১৭ সালে এই সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু পারিবারিক ভাবে ওই ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান পরিবারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমরা ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খম মশিউর রহমান লাভলু বলেন, সুবর্ণ জয়ন্তি যে কোন সময় করা যায়। ভালো কাজ করতে গেলে কিছু দুষ্ট লোকদের অভিযোগ থাকবেই। সুবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষ্যে সমস্ত ব্যয় আমি নিজেই বহন করবো । কারো কাছ থেকে কোন প্রকার অর্থ নেয়া হচ্ছে না।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply