বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে একইস্থানে কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে কর্মীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজমান। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশংকা করছেন উভয়পক্ষের কর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের পক্ষে এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে ।
১৭ মার্চ দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে (জনতা ভবন) একই সময় এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৯ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার উপজেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়ে প্রথমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এবং তাঁর স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্রও বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (জনতা ভবন) সকাল ৯ টায় সাংসদ আ স ম ফিরোজ গ্রুপের নেতা-কর্মীরা কেক কাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজনের ঘোষণা দেন। গত ১২ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম ফারুক সাক্ষরিত উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি চিঠির মাধ্যমে একইস্থানে একই সময় পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৩ মার্চ থেকে আ স ম ফিরোজের পক্ষে দিবসটি পালনে ইব্রাহিম ফারুক স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্র বিতরণ করা হয়। যদিও দাওয়াতপত্রে ইব্রাহিম ফারুক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজেকে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, বাউফল পৌর মেয়র আ’লীগ নেতা জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একই দিনে একই সময়ে বাউফল প্রেসক্লাব সড়কের পাশে দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা হবে। এক্ষেত্রে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রশাসন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
প্রসঙ্গত : দীর্ঘ সময়ব্যাপী উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যকার বিভাজন চলে আসছে। মূলত : ২০১২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। যদিও এরও আগ থেকে বাউফল আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীন কোন্দলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপ্রতিকর ঘটনার জন্ম দেয়।
এরমধ্যে সাংসদ আ স ম ফিরোজ ও আবদুল মোতালেব হাওলাদার গ্রুপের বিপরীত গ্রুপ ছিলেন পৌর মেয়র জিয়াউল হক এবং সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুজিবুর রহমান।
একপর্যায়ে আ স ম ফিরোজ ও আবদুল মোতালেব এর মধ্যকার দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ২০২১ সালে আ স ম ফিরোজ ও আবদুল মোতালেবের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে জোরেশোরে চাউর হয়। ২০২২ সালের ৬ মে আ স ম ফিরোজ গ্রুপ ও আবদুল মোতালে গ্রুপ একইস্থানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করায় উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। তৎকালীন সময়ে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
বলাবাহুল্য, বাউফল থানা-সংলগ্ন সড়কের ওপর তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ২৪ মে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী তাপস নিহত হন।
বর্তমানে বাউফল আওয়ামী লীগে তিনটি গ্রুপ দৃশ্যমান। একপক্ষের নেতৃেত্ব সাংসদ আ স ম ফিরোজ। আরেকপক্ষের নেতৃত্বে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব। অপর আরেকটি পক্ষের নেতৃত্বে পৌর মেয়র জিয়াউল হক।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply