বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, বাউফল : বাউফল থানার এএসআই আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এই পুলিশ কর্তা আসামী পক্ষের সঙ্গে গোপন বুনিবনায় মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী ও স্বাক্ষীগণ। সেশন ৩০১/১৬ মামলার জামিন বাতিলের আবেদনের তদন্ত না করে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দিন। বাদী ও সাক্ষীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে এলাকায় নানা অপকর্মের হোতা আসামী মোমিন খানের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকার সাধারন মানুষ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে না গিয়ে বাদী-স্বাক্ষীদের এড়িয়ে গিয়ে আসামী পক্ষের সঙ্গে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি ন্যাক্কারজনক। এই তদন্ত কর্মকর্তার বিচার দাবী করেন ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের স্থানীয় মুসলিম উদ্দিন মৃধার ছেলেকে ২০১৫ সালে চাঁদার দাবিতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত অসংখ্য মামলার আসামী মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদার এ তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। যার নং সেশন ৩০১/১৬। মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এসে বিভিন্ন সময় বাদীকে হুমকি ধামকি প্রদান করলে বাদী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মমিন খানের বিরুদ্ধে জামিন বাতিলের দরখাস্ত প্রদান করেন। দরখাস্ত তদন্তের জন্য বাউফল থানা ওসির কাছে নির্দেশ প্রদান করা হয়। ওসি তদন্তের জন্য এএসআই আলাউদ্দিনের কাছে তদন্তভার প্রদান করেন। আলাউদ্দিন আসামি মমিন খানের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মামলার ঘটনাস্থানে না গিয়ে বাদী ও সাক্ষীদের কাছে কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করে আসামির পক্ষে মিথ্যা রিপোর্ট প্রদান করেছেন।
সূত্র বলছে- স্থানীয় কালাম মুন্সির মামলায় ২০১৪ সালে এই মমিন চৌকিদার সাময়িক বরখাস্ত হয়। জিআর মামলা নং- ৩৮২/২০১৪।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, বাউফল থানার চন্দ্রপাড়া গ্রামের মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদার একজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারী হিসেবে পরিচিত।
বলাবাহুল্য : গত ২০১৫ সালে স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন মৃধার বড় ছেলেকে চাঁদার দাবিতে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যার নাম্বার সেশন ৩০১/১৬। আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে এসে বাদী ও ভিকটিমকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি-ধামকি প্রদান করে আসছে। মামলার বাদি মুসলিম উদ্দিন সংশ্লিষ্ট আদালতে মমিন খান, দুলাল খান ও রহিম খানের বিরুদ্ধে জামিন বাতিলের দরখাস্ত দিলে আদালত উক্ত দরখাস্ত তদন্তের জন্য বাউফল থানা ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। বাউফল থানার ওসি তদন্ত শেষে মমিন খান, রহিম খান, দুলাল খানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২১ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত সন্ত্রাস প্রকৃতির মমিন খানের অন্যতম সহযোগী দুলাল খানকে কারাগারে প্রেরণ করেন। মমিন খান এলাকায় এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী, ভিকটিমকে ও সাক্ষীদেরকে দফায় দফায় হুমকি দিয়ে আসছে। বাদি ও ভিকটিম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে-স্থানীয় সাইফুল ইসলামের পালিত মা গত ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর মারা গেলে এই মমিন চৌকিদার মৃত্যুর সনদের খাতায় তিনি নভেম্বর উঠিয়ে রাখে। যার ফলে সাইফুল ইসলাম এই মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং জিয়ার ২৮৭/১৯। স্থানীয় কালাম মুন্সিকে চাঁদার দাবিতে মারধর করে। এরফলে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। যার নাম্বার ৩৮২ /১৪। স্থানীয় ফাতেমা নামক এ নারীকে মারধর করলে ফাতেমার স্বামী সালাম চৌকিদার এই মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। চাঁদার দাবিতে স্থানীয় মসজিদের টিউওবয়েল মমিন খান তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার নাম্বার সি আর ৩৩৯/ ২০১৯। স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন মৃধার বড় ছেলের নামে নারী নির্যাতন মামলা করেন। মামলার ডিসচার্জ হলে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হয়। মামলা নং সিআর ৪০৬/ ২০২২। কালাইয়া ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর এর স্ত্রীকে ধর্ম বোন ডেকে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে অবৈধ মেলামেশা করেন। অত:পর ধরা খেয়ে জনগণের ধােলাইও খায়। এরপর মমিন খান সেই মাহফুজা বেগমকে রক্ষিতা বানিয়ে চন্দ্রপাড়া গ্রামের স্কুলের নদীর ওপারে সরকারি জায়গার মধ্যে ঘর নির্মাণ করে। সেখানে মাদক কারবার ও নারী ব্যবসা চালিয়ে আসছে। দিনের পর দিন এই যুব সমাজকে মমিন চৌকিদার নষ্ট করতেছে। এ ব্যাপারে মোমিন খানের বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম ও মোসলেম উদ্দিন মৃধা এবং মনির মুন্সি অসংখ্য অপকর্মের হোতা মমিন খানের চাকরি বাতিল করে তাকে কারাগারে প্রেরণের জন্য বাউফল থানার ইউএনও’র কাছে দরখাস্ত দাখিল করেন। বাউফল থানার ইউএনও মোমিন চৌকিদার কে মদনপুরা ইউনিয়নের চৌকিদার থেকে ক্লোজ করে ইউএনও অফিসে নিয়ে যায়। এবং বর্তমানে মমিন খানের সমস্ত কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য বিআরডিপির রুহুল আমিন পিআইওকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য পটুয়াখালীর ডিসির সুপারিশের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকার সহস্রাধিক লোক মমিন খানের চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণের আবেদন জানিয়েছেন। পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রপাড়া গ্রামে অন্তহীন অভিযোগের হোতা একাধিক মামলার আসামী মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো: মোসলেম উদ্দিন মৃধা।
বাউফল থানার ওসি আরিচুল হক ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, বাদী যদি তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না থাকে সেক্ষেত্রে আদালতে নারাজী দিতে পারবে। নারাজীর পরিপ্রেক্ষিতে পূণরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ আসলে তখন নিখুতভাবে বিষয়টি দেখব বলে মন্তব্য করেন ওসি আরিচুল হক।
ঘুষের মাধ্যমে আসামী পক্ষে মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়া প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আলাউদ্দিন ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, মদনপুরা-চন্দ্রপাড়ার মমিন খানের বিষয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও দাখিল করা হয়নি। ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সামনে তারিখ আছে। এটা সঠিকভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply