বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পটুয়াখালীর বাউফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালনে আয়োজিত আনন্দ র্যালীতে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিতভাবে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা বাউফলে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা এলাকায় ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মহড়া দিয়ে এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষের মাঝে ভয়ার্ত পরিবেশে সৃষ্টি করছে। হুমকি-ধামকি দিচ্ছে হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার এর অনুসারীদের। অজানা আতঙ্কে রয়েছেন কর্মীরা।
জাতির জনকের অনুষ্ঠানে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু দৃষ্টি কামনা করে বলেছেন, সাংসদ আ.স.ম ফিরোজ এবং পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতে জাতির জনকের অনুষ্ঠানে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র্যালীতে আ.স.ম ফিরোজের ব্যানারে থাকা সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পেরেছে। মোতালেব হাওলাদার অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতির জনকের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো মানে জাতির জনকের ওপর হামলা, তাঁর পরিবারের ওপর হামলা। সর্বোপরি এই বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা আওয়ামী লীগের ওপর হামলা।
জাতির জনকের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের ভাতিজা ও যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার বিরুদ্ধে। যুবলীগ নেতা অরিবিন্দ সাংবাদিকদের বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্ব একটি আনন্দ মিছিল আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ উপজেলা পরিষদের ফটকের সামনে মিছিলে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার নেতৃত্বে মিছিলকারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রসহ বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্যমেত, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনের সামনেই ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে মহড়া দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে আ স ম ফিরোজের ভাতিজা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক ওরফে আলকাচ মোল্লা, নানা অপকর্মের হোতা কালাইয়ার বাসিন্দা যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শফি হাওলাদার, ছাত্রলীগের কর্মী সজীব দাসসহ আরো কয়েকজন। এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যে এরা জড়িত নয়। এরা এলাকায় অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে চললেই শান্তিপ্রিয় মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে আরো আগ থেকেই অভিযোগের পাহাড় থাকলেও এরা সবসময়ই থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এজন্য দিনে দিনে এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাউফলের শান্তিপ্রিয় মানুষ এইসকল সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি রয়েছে। আর এদের ইন্ধনদাতা-নির্দেশদাতা বা শেল্টারদাতা হচ্ছেন সাংসদ আসম ফিরোজ। যদিও হামলাকারীরা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলছেন, তারা হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।
সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার ছেলে বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান শনিবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বগা বন্দরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পটুয়াখালীর বাউফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালনে ১৭ মার্চ আয়োজিত আনন্দ র্যালীতে স্থানীয় সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হয়ে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদ হাসান তাঁর বাবার ওপর বর্বর কায়দায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু দৃষ্টি কামনা করে হামলার হুকুমদাতা ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে ও বগা ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আমার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ মিলিত হয়। এরপর সেখান থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে পৌঁছালে সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাবার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় বাবার ডান পা ভেঙে যায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবং ডান হাতের তৃতীয় আঙুল কেটে যায়।
বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এরআগেও সাংসদ আ স ম ফিরোজের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। জাতির জনকের অনুষ্ঠানে এবার পুলিশের সামনে আসম ফিরোজের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরাজী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সামনে এমপির সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অবস্থান করাটা ঘৃনিত কর্মকাণ্ড। এতে প্রমাণিত হয়, এমপি’র লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই এঘটনা ঘটিয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আমরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠাবো, পরবর্তীতে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকে যে বা যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলার নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়েছে, তারাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শেষে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি আ.স.ম ফিরোজ এর নেতৃত্বে সেদিন বরিশাল শহরে আনন্দ মিছিলও বের করেছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা তৎকালীন ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও তৎকালীন ছাত্রনেতা খান আলতাফ হোসেন ভুলুসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ১৫ আগস্টে আ.স.ম ফিরোজের বহুল বিতর্কিত কালো অধ্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে দিয়ে আসছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে বরিশাল শহরে আনন্দ মিছিল করেছিলেন। এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননা করেছিলেন সাংসদ ফিরোজ।
শোকাবহ ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সংবাদ মাধ্যম বাংলা ইনসাইডার এর ‘আগস্ট ষড়যন্ত্র ও নেপথ্যের সন্ধানে’ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার পরে বরিশাল শহরে
আওয়ামী লীগেরই একটি গ্রুপ (নুরুল ইসলাম মঞ্জুর গ্রুপ) আনন্দ মিছিল করেছিল। সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলো পটুয়াখালী ২ আসনের (বাউফল) এমপি ও দশম জাতীয় সংসদের সাবেক চিপ হুইপ আ স ম ফিরোজ। এবং তারা শুধু মিছিল করেন নি, বঙ্গবন্ধুর ছবিতে জুতা ও ঝ্যাটার মালা ঝুলিয়ে সেই ছবি হাতে নিয়ে মিছিল করেছিলো। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “তারা তৎকালীন ডিসির অফিসে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছিলো এবং বরিশাল শহরের এমন সকল স্থানে গিয়ে গিয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছিলো। সেই আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বেই কিন্তু আওয়ামী লীগ করছি আমরা। সেই আ স ম ফিরোজই কিন্তু সংসদের চিপ হুইপ হয়েছে, দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাকে ওই সংসদের সদস্য হিসেবে তার (ফিরোজ) চিপ হুইপিং মেনে নিতে হয়েছে। দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা বর্নচোরাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে।’’
আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননার অভিযোগে ২০২১ সালে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাউফল সদর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আনন্দ মিছিল করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে।
বরিশালের ছাত্রলীগ নেতা থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফিরোজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তার ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল ওই মামলায়। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগও আনা হয় ফিরোজের বিরুদ্ধে।
বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে বাদী জাহিদুল হক খান বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকালে বরিশাল শহরে মামলার ২নং সাক্ষী তৎকালীন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদক খান আলতাফ হোসেন ভুলুর নেতৃত্বে বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বরণের সাথে সাথে জাতির পিতার পক্ষ ত্যাগ করে খুনিদের দোসর খন্দকার মোশতাক এবং বরিশালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের পোষ্য ক্যাডার বনে যাওয়া আ স ম ফিরোজ তখন কিছু লোকজন নিয়ে ভুলুর নেতৃত্বাধীন ওই মিছিলে হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করা বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের।
তিনি বলেন, এরপর লোকজন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনায় আনন্দ মিছিল করেন ফিরোজ। একপর্যায়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে নিয়ে ঢোকেন বরিশাল শহরের সদর রোডে টাউন হলের উত্তর পাশে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসে। সেখানে থাকা জাতির পিতার ছবি নামিয়ে তাতে জুতা ও কাঁটার মালা ঝুলিয়ে করেন আনন্দ মিছিল। এরপর বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি খুলে ফেলে রাস্তায় এনে শত শত মানুষের সামনে ভাঙচুর পদদলিত করেন আ স ম ফিরোজ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বর্বর হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার সমর্থকরা এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু দৃষ্টি কামনা করে বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার শীর্ষ পর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে বর্তমান এমপি আ.স.ম ফিরোজ, ইউএনও, ওসির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বাউফল থেকে ইউএনও ও ওসিকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বলাবাহুল্য, ১৭ মার্চ দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে (জনতা ভবন) একই সময় এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গত ৯ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার উপজেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়ে প্রথমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এবং তাঁর স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্রও বিতরণ করা হয়। অপরদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (জনতা ভবন) সকাল ৯ টায় সাংসদ আ স ম ফিরোজ গ্রুপের নেতা-কর্মীরা কেক কাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজনের ঘোষণা দেন। গত ১২ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম ফারুক সাক্ষরিত উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি চিঠির মাধ্যমে একইস্থানে একই সময় পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৩ মার্চ থেকে আ স ম ফিরোজের পক্ষে দিবসটি পালনে ইব্রাহিম ফারুক স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্র বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র আ’লীগ নেতা জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একই দিনে বাউফল প্রেসক্লাব সড়কের পাশে দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেন। মূলত: এরপর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply