বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
বাউফল প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর বাউফলস্থ নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পালিত হয়েছে ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণজয়ন্তী। এ নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সুবর্ণজয়ন্তী পালনের আয়োজনে ছিল এলাকার প্রভাবশালী এক আওয়ামী পরিবার। ওই পরিবারে একজন বিচারক থাকায় তারা কোন আইন-কানুন বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না।
সরেজমিনে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০ বছর সুবর্ণজয়ন্তী নামেমাত্র উদযাপন করা হয়েছে। এটা একটি পরিবারের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে সুবর্ণ জয়ন্তীর নামে গান বাজনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করেছেন। তাদের সাথে ছিল কিছুসংখ্যক ছাত্র-অছাত্র, নিকটাত্মীয়। এছাড়া এলাকার কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ আশেপাশের ইউনিয়ন থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসা কিছু ভক্তবৃন্দ।
সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের নাম করে ওইদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নাচ-গানের আসর জমিয়ে মুসুল্লীদের নামাজে সমস্যা করেছে। বিরক্ত এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক মুসুল্লী।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়েছে। যেখানে বর্তমান সরকার লেখাপড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিয়ে থাকেন বাবা-মা এর সুবিধার জন্য। সেখানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কিভাবে ১০০ করে টাকা চাঁদা নেন? এ প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের।
এছাড়া প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ এমনকি প্রবাসীদের নিকট থেকে টাকা আদায়, ডোনেশন, চাঁদা কালেকশন করে লক্ষ লক্ষ টাকা সুবর্ণজয়ন্তীর নামে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকে দিতে বাধ্য হয়েছে। যার হিসেব মিলবে না কখনও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুবর্ণজয়ন্তীর নামে তারা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, বাড়ি-বাড়ি, ঘরে-ঘরে, অফিস-আদালত, দোকানপাটে, রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ফরমে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে। ওই স্কুলের প্রাক্তন এবং বর্তমান অধ্যয়নরত ছাত্রদের দাবি, যদি ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী হতো তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে পালন করবে। যদি পারিবারিক না হতো তাহলে বাড়ি বাড়ি ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাক্তন ছাত্রদেরকে দাঁড় করিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে কেন?
অভিযোগ উঠেছে, একজন জনপ্রতিনিধি ১৯৯৯ ব্যাচের রেজিস্ট্রেশন করেছেন । কিন্তু তার ছেলে এসএসসি পাস করেছে ১৯৯৩ ব্যাচে। এছাড়া বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে নাই তাদেরকে ছাত্র বানিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে টাকা আদায় করে কলঙ্কিত করেছেন বিদ্যালয়কে লেখাপড়ার মানকে। ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান যদি না হতো তাহলে এখানে সবাই আগ্রহ প্রকাশ করে আনন্দিত হয়ে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে। স্কুলের নাম ব্যবহার করে সুকৌশল অবলম্বন করেছেন।
ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মূলত সুবর্ণজয়ন্তী ৫০ বছর পালন করবে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এসোসিয়েশন। সুবিধাবাদীরা সুযোগ বুঝে কোপ মেরেছে। কারণ কাউকে কোন হিসাব দিতে হবে না। যদি ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠান না হতো তাহলে বিদ্যালয়ের প্রতিটি ব্যাচ থেকে কেন ৩/৪/৮/১০/১২/১৫ জন করে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত থাকবে। ঠিকই প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যালামনাই কর্তৃক সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হলে এখানে বিদ্যালয়ের শতকরা ৮০ জন ছাত্র/ছাত্রী উপস্থিত থাকত। এলাকায় যাদের ন্যূনতম কোন দান নেই, তারা অন্যের তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের উপর নাক গলায় এবং সুবিধা নেয়। সবই একদিন প্রকাশ পাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এ ব্যাপারে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের
সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সম্মিলিতভাবে স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। এলাকার গ্রুপিংয়ের কারনে তা সম্ভব হয়নি।
আমরা যে কমিটি করেছিলাম তা বিলুপ্ত করার পর সুবর্ণজয়ন্তী পালনে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহন কম ছিল।
এ বিষয়ে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের
সাধারণ সম্পাদক মো: মমিন উদ্দিন খান বলেন, আমরা ২০১৭ সালে সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে কমিটি গঠন করেছি। একটি পরিবারের খামখেয়ালীপনায় আমরা এই সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ গ্রহন করি নাই।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply