বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে রয়েছে এলাকাবাসীর অন্তহীন অভিযোগ। অদৃশ্য ক্ষমতার দাপুটে শক্তিতে একের পর এক অন্যায়-অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে চলছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজী, জাল জালিয়াতি, মাদক কারবারী, নারী নির্যাতনকারী, নারী লোভী, দেহ ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নেই যে এই মমিন খান জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় রয়েছে কয়েক ডজনের বেশি অভিযোগ। এলাকার শান্তিপ্রিয় নারী-পুরুষ মমিন খান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের অত্যাচারে অতিষ্ট। অসংখ্য মানুষ তার অত্যাচারের শিকার হয়েছে। নির্যাতিত-ভুক্তভোগী পরিবারের প্রাণের দাবি-এই মমিন খান এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সূত্র বলছে- স্থানীয় কালাম মুন্সির মামলায় ২০১৪ সালে এই মমিন চৌকিদার সাময়িক বরখাস্ত হয়। জিআর মামলা নং- ৩৮২/২০১৪।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, বাউফল থানার চন্দ্রপাড়া গ্রামের মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদার একজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারী হিসেবে পরিচিত। গত ২০১৫ সালে স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন মৃধার বড় ছেলেকে চাঁদার দাবিতে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যার নাম্বার সেশন ৩০১/১৬। আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে এসে বাদী ও ভিকটিমকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন হুমকি-ধামকি প্রদান করে আসছে। মামলার বাদি মুসলিম উদ্দিন সংশ্লিষ্ট আদালতে মমিন খান, দুলাল খান ও রহিম খানের বিরুদ্ধে জামিন বাতিলের দরখাস্ত দিলে আদালত উক্ত দরখাস্ত তদন্তের জন্য বাউফল থানা ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। বাউফল থানার ওসি তদন্ত শেষে মমিন খান, রহিম খান, দুলাল খানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
২১ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত সন্ত্রাস প্রকৃতির মমিন খানের অন্যতম সহযোগী দুলাল খানকে কারাগারে প্রেরণ করেন। মমিন খান এলাকায় এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী, ভিকটিমকে ও সাক্ষীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। বাদি ও ভিকটিম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সাইফুল ইসলামের পালিত মা গত ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর মারা গেলে এই মমিন চৌকিদার মৃত্যুর সনদের খাতায় তিনি নভেম্বর উঠিয়ে রাখে। যার ফলে সাইফুল ইসলাম এই মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে জালজালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং জিয়ার ২৮৭/১৯। স্থানীয় কালাম মুন্সিকে চাঁদার দাবিতে মারধর করে। এরফলে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। যার নাম্বার ৩৮২ /১৪। স্থানীয় ফাতেমা নামক এ নারীকে মারধর করলে ফাতেমার স্বামী সালাম চৌকিদার এই মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। চাঁদার দাবিতে স্থানীয় মসজিদের টিউওবয়েল মমিন খান তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার নাম্বার সি আর ৩৩৯/ ২০১৯।
স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন মৃধার বড় ছেলের নামে নারী নির্যাতন মামলা করেন। মামলার ডিসচার্জ হলে মমিন চৌকিদারের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হয়। মামলা নং সিআর ৪০৬/ ২০২২। কালাইয়া ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর এর স্ত্রীকে ধর্ম বোন ডেকে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে অবৈধ মেলামেশা করেন। অত:পর ধরা খেয়ে জনগণের ধােলাইও খায়।
এরপর মমিন খান সেই মাহফুজা বেগমকে রক্ষিতা বানিয়ে চন্দ্রপাড়া গ্রামের স্কুলের নদীর ওপারে সরকারি জায়গার মধ্যে ঘর নির্মাণ করে। সেখানে মাদক কারবার ও নারী ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
দিনের পর দিন এই যুব সমাজকে মমিন চৌকিদার নষ্ট করতেছে। এ ব্যাপারে মোমিন খানের বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম ও মোসলেম উদ্দিন মৃধা এবং মনির মুন্সি অসংখ্য অপকর্মের হোতা মমিন খানের চাকরি বাতিল করে তাকে কারাগারে প্রেরণের জন্য বাউফল থানার ইউএনও’র কাছে দরখাস্ত দাখিল করেন। বাউফল থানার ইউএনও মোমিন চৌকিদার কে মদনপুরা ইউনিয়নের চৌকিদার থেকে ক্লোজ করে ইউএনও অফিসে নিয়ে যায়। এবং বর্তমানে মমিন খানের সমস্ত কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য বিআরডিপির রুহুল আমিন পিআইওকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য পটুয়াখালীর ডিসির সুপারিশের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এলাকার সহস্রাধিক লোক মমিন খানের চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণের আবেদন জানিয়েছেন।
অন্তহীন অভিযোগ প্রসঙ্গে মমিন খান ওরফে মমিন চৌকিদার ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় আমি জামিনে রয়েছি। আর বাকী মামলায় খালাস পেয়েছি। এছাড়া এলাকায় আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply