বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, মনিরুল ইসলাম শাহিন, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফলে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কর্তৃক স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ কিংবা গোপন বুনিবনার যোগশাজসে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মার্কশীট ও প্রশংসাপত্র আটকিয়ে ৫’শ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জিম্মিদশায় পড়ে অভিভাবকগণ টাকা দিয়ে কাগজপত্র ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হন। এ বিষয়টি নিয়ে বাউফলের বিভিন্ন মহলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্দেশে প্রায় প্রতিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির জন্য বাধ্য হয়ে ধার্যকৃত টাকা দিয়ে মার্কশীট ও প্রশংসাপত্র নিচ্ছে।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী শিরিন বলেন, শিক্ষক সমিতি থেকে মার্কশীটের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কালাইয়া হায়াতুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য বিদ্যালয় ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। আমার প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বিষয় বিবেচনা করে ৪০০ টাকা করে নিচ্ছি।
উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা জানান, ‘তাদের কাছ থেকে মার্কশীট ও প্রশংসাপত্র বাবদ ৪০০/৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হচ্ছে- এটা সংরক্ষণ ফি বাবদ লাগবে। তবে টাকা নেওয়ার কোনো রিসিভ চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। টাকা ছাড়া কাউকে মার্কশীট ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয় না।
উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকগণ বলেন, এই ফি সেই ফি, এখন আবার মার্কশীট ও প্রশংসাপত্র নিতে ফি, যার শেষ নেই। আজ আমরা অতিষ্ট। আমরা কোনও কথাও বলতে পারিনা, যেন তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমরা সরকারের কাছে দাবি করছি যেন কোনও প্রকার ফি ছাড়া যেন আমাদের সন্তানদেরকে নির্বিঘ্নে পড়ালেখা করাতে পারি।
বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি মোঃ আবু জাফর, যিনি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ মন্জুর মোর্শেদ, যিনি ধানদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি মোঃ আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, ৫০০ টাকা করে নিতে বলেছি এটা সত্য, তবে রিসিভ দেওয়ার জন্য বলেছি। এ টাকা কিসের জন্য দিতে হবে এবং কোনও বিধি বিধান আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মার্কশীট বা প্রশংসাপত্রের জন্য কোনও টাকা নেওয়ার বিধি বিধান নেই। এবং সরকারি কোনও রেটও নেই। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বশির গাজী ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমি প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠি ইস্যু করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামকে বলেছি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য, ই্উএনও সাহেবের মুখের কথায় আমি চিঠি ইস্যু করতে পারিনা।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply