বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
আব্দুল আউয়াল, বানারীপাড়া, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজলাহার গ্রামের ১২ টি হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক বসতভিটা জোর পূর্বক উচ্ছেদ করে সরকারিভাবে ভূমিহীনদের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই কাজ বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ মহাসিন-উল-হাসান। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার গুলো বলছে, জোরপূর্বক বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করায় মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে গৃহহীনদের জন্য আবাসন নির্মাণ হোক ভুক্তভোগীরা তার পক্ষে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের পৈত্রিক সম্পত্তি উপজেলা প্রশাসন দখল করে নয়।
এ ব্যাপারে ১৯ নভেম্বর শনিবার সকালে ১০টায় সরেজমিনে কমিশন নেতৃত্ববৃন্দ উপস্থিত হলে ক্ষতিগ্রস্থ পিন্টু বড়াল, ধীরেন বড়াল, পরেশ, সুধান্য বড়াল, সুভাষ সহ কয়েকটি মুসলমান পরিবারের ইদ্রিস আলী আকন, শাহাদাত সরদার একই অভিযোগ করেন। সেখানে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ও অন্যান্য পরিবার বসবাস করে আসছে।
তারা বলেন, আমাদের দলিল, রেকর্ড এবং পর্চা থাকা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন ১৫ নভেম্বর হঠাৎ করে আমাদের ধানের ক্ষেত, পানের বর, ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙ্গে এবং পুকুর ভড়াটের কাজ শুরু করে। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ সুমন এক তরফা এবং জমি চিহ্নিত করেন। সরকারি মাপে যে জমি তাতে কোনভাবেই আবাসনের ঘর নির্মাণ করা যায়না। এ জন্যই আমাদের উচ্ছেদ করে জমি বেশি দেখিয়ে এ কাজ শুরু করে। তারা বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়ে সরকারি সম্পত্তিতে আবাসন নির্মাণ করলে কোন আপত্তি নেই। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ভাবে জানালে তারা কোন গুরুত্ব দেননি।
বরিশাল জেলা মানবাধিকার প্লাটফরম সদস্য এবং বানারীপাড়া উপজেলা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক এস মিজানুল ইসলাম এবং সভাপতি এটিএম মোস্তফা সরদার জানান, অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। অভিযোগকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে উচ্ছেদ করা মানবাধিকার লংঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহাসিন-উল -হাসান বলেন সরকারি সার্ভেয়ারের মাপ অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন কুমার সাহা বলেন, আমরা ৪ মাস পূর্বে জমি মেপে লাল নিশান দিয়েছি। তখন কেউ আপত্তি করেনি। এখন কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা পেলে বিষয়টি দেখা হবে।
এদিকে, কমিশনের অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল প্রমুখ।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply