বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, পিরোজপুর/বরিশাল : স্বরূপকাঠিতে (নেছারাবাদ) ভূমিখেকোদের দৌরাত্ম্যে অবাধে ধ্বংস হচ্ছে তিন ফসলি জমি। মোট ১৪ একর সম্পত্তিতে ফসলি জমি কেটে বালু ফেলার টার্গেট তাদের। এতে হুমকির মুখে পড়ছে উপজেলার সম্ভাবনাময় কৃষিখাত সহ জীববৈচিত্র। অবশ্য অভিযুক্তদের দাবি-এটা ফসলি জমি নয়, বাগান বাড়ির সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। যা কাগজেও আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি খেকোরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কবলা করে নিচ্ছে তাদের তিন ফসলি জমি। পরে সেই জমিতে পুকুর কাটা সহ আশেপাশে বালু ফেলে গড়ে তুলছেন আবাসিক এলাকা। এতে একধারে যেমনি পরিবর্তন হচ্ছে জমির শ্রেনী তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশ এলাকার কৃষি ও জীববৈচিত্র।
অভিযোগ উঠেছে-উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভাধীন আব্দুর রহিম প্রভাবশালি কিছু মহলের লোকদের ম্যানেজ করে এহেন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। আর পকেটে পুরে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বনে গেছেন ক্রোড়পতি।
অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, উপজেলার ভূমি অফিসের কয়েক অসৎ লোক এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তিনি দেদারছেএসব করে দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহিম।
সম্প্রতি আব্দুর রহিমের এই ভূমি সিন্ডিকেটের এই চক্রটি উপজেলার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ রোড সংলগ্ন বিশাল একটি ধানি জমি কবলা করেন। দলিল করেই সেই তিন ফসলি জমির মাটি কেটে বালু ফেলেছেন ক্রয়কৃত বিস্তৃত ফসলি মাঠজুড়ে।
তিন ফসলি জমি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে আশপাশ এলাকার ক্ষতির সম্ভাবনায় ইতোমধ্যে চক্রটির কাজ বন্ধ করে রেখেছেন স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির।
এভাবে অবাধে ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে মাটি কেটে জমির শ্রেনি পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বলেন, কলেজ রোডে ওই জমিটি আমার নয়। জায়গার মালিক কমল দত্ত। তিনি আমাকে বলেছেন জমিটি বেচে দাও তোমাকে কিছু দিব।
আব্দুর রহিম বলেন, ওই সম্পত্তি ফসলি জমি নয় বাগান বাড়ি। এক্ষেত্রে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা নেই। এসএ, বিএস রেকর্ডেও বাগান বাড়ি উল্লেখ রয়েছে।
স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবির ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমি এলাকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ১০ একরের অধিক ধানী সম্পত্তিতে বালু ভরাট করে ফসলি জমি বিনষ্ট করছে। এরপর ফোনে কমল দত্তকে জানালাম-আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হোক। মেয়র বলেন, এ বিষয়টি এ্যাসিল্যান্ডও অবহিত। অতএব পরবর্তীতে বিষয়টির সত্যতা যাচাই বাছাইয়ে সিদ্ধান্ত হোক। ওই সম্পত্তি ফসলি জমি নয় বাগান বাড়ি হিসেবে এসও ও বিএস রেকর্ডে উল্লেখ আছে এমন দাবি করেন সম্পত্তির সঙ্গে জড়িত রহিম এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র গোলাম কবির ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, যদি এসও ও বিএস রেকর্ডে বাগান বাড়ির কথা বলা থাকে সেক্ষেত্রে সতত্যা নিশ্চিতের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ভালো।

১৪ একর সম্পত্তি স্বত্তাধিকারী কমল দত্ত ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, পুরো সম্পত্তি কাগজপত্রে বাগান বাড়ি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বলেন, এটা ফসলি জমি নয়। অর্থনৈতিক ফাঁয়দা লুটতে এক মহল এই কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন, লিগ্যাল যেটা সেটাই আমি করে আসছি, এরপরও কেন হয়রানি করা হচ্ছে। এখানে আমি আমের বাগান করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এবং আমি, আমার ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্তসহ কয়েকজন মিলে একটি প্রজেক্ট দাড় করার চেষ্টা করছি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত বলেন, এটা ফসলি জমি নয়। তবে এটা যে ফসলি জমি নয় সেই বিষয়ে আপনার কাছে কোন ডকুমেন্ট আছে কিনা এরকম প্রশ্নের জবাবে বলেন, আছে। ডকুমেন্ট দেখানো যাবে কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেখানো যাবে। এরপর ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন, আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।

স্বরূপকাঠিতে আব্দুর রহিম ও কমল দত্তের ভূমি সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্যে
নেছারাবাদ সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাপশ পাল বলেছেন, “ইচ্ছে করলেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবেনা। এক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে পিরোজপুর ডিসি মহোদয়ের অনুমতি লাগবে।”
এদিকে, মেয়র গোলাম কবির ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন- আমি খবর পেয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কাজ বন্ধও রেখেছে। এটা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও অবহিত করেছি। এখন বিষয়টি তারা তদন্ত করে খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন ফসলি জমি কোনভাবেই বিনষ্ট করা যাবে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব। এবং ডিসি সাহেব ইউএনওকে এ বিষয়ে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এরা সমাজের টাউট শ্রেনীর। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা হাসিল করে আসছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply