বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাউলদের ওপর হামলা, মারধর এবং উচ্ছেদ তৎপরতায় জড়িতদের বিচার দাবিতে কুষ্টিয়া শহরের এনএনএস রোডস্থ পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লাউবাড়িয়ায় এক ভক্তের বাড়িতে সমবেত হয়েছিলেন কিছু সাধু-বাউল। সেখানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভক্তসহ তাদের রক্তাক্ত জখম করে স্থানীয় একদল লোক।
এলাকাবাসী ও বাউলদের ভাষ্য, উপজেলার লাউবাড়িয়া গ্রামে পলান ফকিরের বাড়িতে বার্ষিক সাধুসঙ্গ চলছিল। জেলা ও জেলার বাইরের বাউলভক্ত সাধুরা সমবেত হয়েছিলেন সেখানে। সন্ধ্যায় তারা নিজস্ব ঘরানায় সাধুসঙ্গের নিয়ম অনুযায়ী আলাপচারিতায় বসেছিলেন; কেউ কেউ তখন সন্ধ্যার খাবার খাচ্ছিলেন। তখন হঠৎ স্থানীয় জামে মসজিদের সভাপতি একরাম হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক লোক অতর্কিতে হামলা চালায় তাদের ওপর। তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সাধুসঙ্গের ওই বাড়িটি ভাংচুর করেন এবং সাধুদের মারধর করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি একরাম হোসেনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে।
আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিরা সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতা কনক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক লালিম হক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কারশেদ আলম, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফ বিশ্বাস, সদস্য সোহেলী পারভিন ঝুমুর, কবি ও লেখক আলম আরা জুঁই, মানবাধিকার কর্মী সৈয়দা হাবিবা, সাংবাদিক হাসান আলী, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রধান হাসিবুর রহমান তামিম।
বক্তরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মবলিদান, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের মধ্য দিয়ে অর্জিত রক্তে ভেজা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার মাটিতে কোনো উগ্র মৌলবাদী-জঙ্গি গোষ্ঠীর স্থান নেই। ৭১ এর পরাজিত অপশক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের নানা জায়গায় লেবাসের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। সুযোগ পেলেই বিষবাষ্পের ফণা তুলে ছোবল মেরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরা কৌশলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে নিজেদের শিকড় গেড়ে বসেছে।
এরা মুক্তচিন্তার মানুষদের দমিয়ে দিতে বাউল-সাধুদের ওপর হামলা, ভাংচুর, মারধর করে তাদের উচ্ছেদের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এদের চিহ্নিত করে নির্মূল করতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে বক্তারা বলেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply