বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : দীর্ঘ অপেক্ষা আর সংগ্রামের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যিনি মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দেশটির দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম পরিচিত ছিলেন ক্যারিশম্যাটিক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সংস্কারপন্থী রাজনীতিক হিসেবে। ভাবা হয়ে থাকে, মালয়েশিয়ার আজকের উন্নয়নের পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁকে ভাবা হতো মাহাথিরের উত্তরসূরি। কিন্তু ১৯৯৮ সালে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেন মাহাথির। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে মামলা হয়। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গেল। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তিনি আবার ফিরে এলেন। যিনি তাঁর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন, তাঁকে কারাগারে পুরে রেখেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনই শেষ করে দিচ্ছিলেন, সেই মাহাথিরের সঙ্গে গত নির্বাচনে জোট বেঁধেছিলেন। জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁদের সরকারের আমলে মাহাথির ও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি করে থাকার ছিল। কিন্তু মাহাথির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আবার তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যায়। এত কিছুর পরও তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
এবারও আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ মসৃণ ছিল না। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছিল মালয়েশিয়ার রাজনীতি। সাধারণ নির্বাচনের পর রাজার হস্তক্ষেপে টানা পাঁচ দিনের অচলাবস্থার কেটেছে।
মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ১৯৫৭ সালে দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ার এমন ঘটনা আর ঘটেনি। গত শনিবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনে আনোয়ার ইব্রাহিমের পাকাতান হারাপান (পিএইচ) জোট সর্বোচ্চ ৮২টি আসনে জয় পায়। আর মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন মালয়–মুসলিম পেরিকাতান ন্যাসিওনাল (পিএন) পায় ৭৩টি আসন। কোনো জোটই ২২২ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১১২ আসন পায়নি।
বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট বারিসান ন্যাসিওনাল নির্বাচনে ৩০টি আসন পায়। কিন্তু তারা কোনো জোটকে সমর্থন না দেওয়ায় বিপত্তি বেধেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থা অবসানের দায়িত্ব পড়ে রাজার ওপর। তিনি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বসে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে আগের সরকারপ্রধানদের পরামর্শ নেন। কিন্তু তাতেও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাজা আবার দেশটির রাজকীয় সুলতানদের সঙ্গে বৈঠক করে আনোয়ার ইব্রাহিমকে সরকার গঠন করতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আনোয়ার ইব্রাহিমের দুই দশকের বেশি সময়ের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ৭৫ বছর বয়সী এই নেতা বছরের পর বছর খুব কাছাকাছি এসেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। তিনি ১৯৯০ সালে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মাহাথিরের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
শপথ গ্রহণের পর মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। আমি মালয়েশিয়ার প্রতি আমার সত্যিকারের আনুগত্য প্রকাশ করব।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আনোয়ার ইব্রাহিমকে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করাও তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া গোষ্ঠীগত উদ্বেগ কমাতেও কাজ করতে হবে তাঁকে। তবে তাঁর সামনে এখন বড় বিষয় হচ্ছে আগামী বছরের বাজেট। নির্বাচনের আগেই এ বাজেট উত্থাপন করা হলেও তা পাস হয়নি। এ ছাড়া পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে হবে তাঁকে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে আনোয়ারের সমর্থকেরা আনন্দ উদ্যাপন করছেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply