বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বরিশালের লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে । শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে লাকুটিয়া গ্রামে অবস্থিত জমিদার বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ইতিহাস। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মঠ, সুবিশাল দিঘি, মাঠ এবং কারুকার্য মণ্ডিত জমিদার বাড়ি।
জমিদার বাড়ির শিলালিপি থেকে জানা গেছে, প্রায় ১৭০০ সালে রুপচন্দ্র রায়ের ছেলে রাজচন্ত্র রায়ের হাত ধরে ইট, পাথর আর সুড়কির গাঁথুনিতে নির্মাণ করা হয় লাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি। চারশ বছরের পুরাতন এই বাড়িটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী ও কারুকার্য ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
বাড়ির মূল প্রবেশপথের বাঁ পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরটিতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শান বাঁধানো সুন্দর একটি ঘাট। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে আছে। বাড়ির তিন ধারে রয়েছে ধানের জমি। বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি আমবাগান। বাগানটির পাশেই রয়েছে বিশাল এক দীঘি। একে সবাই রাণীর দীঘি বলে। শীতের সময় এখানে অনেকেই পিকনিক করতে আসেন। এই দীঘিতে প্রতি বছর ফোটে পদ্মফুল। যেমন বড় তেমন এর রং। পাতাগুলোও ভীষণ বড় বড়। বরিশালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ্মফুল ফোটে এই দীঘিতেই।
পুরানো হওয়ার কারণে বাড়ির চারদিকের পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করছে। রাজা রাজচন্দ্র রায়ের এ বাড়িটি উনিশ শতকেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পীঠস্থান হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিল, কালের গর্ভে আজ তা শুধুই স্মৃতি।
জানা যায়, প্রজাকল্যাণ ও বিভিন্ন ধরনের জনহিতকর কাজে জমিদার পরিবারের সদস্যদের খ্যাতি ছিল। লাকুটিয়া থেকে বরিশাল অবধি রাস্তা তার আমলেই তৈরি হয়েছিল। তখন বেশ ঘটা করে তিনি রাস উৎসব করতেন। তার দুই পুত্র রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন বরিশাল শহরেই নির্মিত হয়েছিল রাজচন্দ্র কলেজ। পাকিস্তান আমলে ওই এলাকায় পুষ্পরানী বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এই জমিদার বাড়ির লোকেরা।
আজ সেই জমিদার বাড়ির জমিদারি নেই, নেই কোনো উত্তরসূরিও। জমিদার বংশের শেষ উত্তরাধিকারী দেবেন রায় চৌধুরী বহুকাল আগে সপরিবারে কলকাতায় চলে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে প্রাসাদের অনেকাংশ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, ভবনগুলো শ্যাওলা পরে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, জমিদার বাড়িটি অবহেলিত থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে সব সময়। সংস্কারের মাধ্যমে এটা হতে পারে বরিশালের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply