বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার পর মোনাজাতে অংশ নিয়ে বক্তৃতা দিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় কামনা করে পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে। রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গত ১৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সরকারদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতা দলীয় প্রার্থীর জয় কামনা করে মোনাজাত ধরেন। জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানও মোনাজাতে হাত তোলেন। মোনাজাত শেষে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বক্তৃতাও করেন।
নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, মোহাম্মদ মমিনুর রহমানকে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। উনাকে আমরা রাখবো না। সরিয়ে দেব। তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। এজন্য তদন্ত হতে হবে। এটা লঘু শাস্তি নয়। এই মূহূর্তে করণীয় একটাই, তাকে সরিয়ে দেওয়া। পরবর্তীতে পরেরটা দেখা যাবে। এখন কাজ হলো উনাকে সরিয়ে দিয়ে উপযুক্ত অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া, যোগ করেন রাশেদা সুলতানা।
সম্প্রতি জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত এক চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে এলে ডিসি মমিনুর রহমান ওই প্রার্থীর পক্ষে মোনাজাত ও ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হলে নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, বিদ্রোহী যারা আসছে তারা একই দলেরই। দীর্ঘদিন ধরে একটা জেলা পরিষদ নির্বাচন নাই। তারপর প্রশাসক আসলো। এই অবস্থায় তো চলা যায় না। প্রশাসক আর নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে কিন্তু অনেক পার্থক্য আছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলার পর আমরা নির্বাচন দিলাম। আমাদের কাজ শুরু নির্বাচনটা নামানো। তাই দলীয়ভাবে হচ্ছে না কি হচ্ছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। একজন দাঁড়াচ্ছেন, আরেকজন দাঁড়াচ্ছেন না। কাজেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা বে-আইনি নয়। আবার নির্বাচন কেউ অংশ নিতে পারবে না, এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে, তাতো নয়। আমরা চাচ্ছি সবাই নির্বাচনে আসুক। কিন্তু কেউ যদি না আসে, কেমন করে তাদের আমরা আনবো? এ কমিশনার আরও বলেন, দেশে অনেক ঘটনাই ঘটছে, তা কারোই আকাঙ্ক্ষিত নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নয়। কিন্তু অলিখিতভাবে অনেক কিছু হয়ে যায়। এটা বন্ধ করা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোরই কাজ। এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে এখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আওয়ামী লীগ-বিএনপি এগুলো কিন্তু আমরা আমলে নেবো না। ইতিপূর্বেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
মনোনয়নপত্র জমা
গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম শ’খানেক নেতাকর্মী নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শফর আলী প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলামের বিজয় কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারকেও হাত তুলে অংশ নিতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েপড়া ভিডিও ও ছবিতে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর বলেন, ‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এটিএম পেয়ারুল ইসলামের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করলাম। আজ যেন একটি সুযোগ পেয়েছি, এখানে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের সকল পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত আছেন, কিছু কথা বলি।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি, আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে।’
‘আপনারা জানেন, আড়াই বছরের মতো আমরা করোনায় পার করেছি, লকডাউন গেছে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সমস্ত বিশ্বে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইউরোপ-আমেরিকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের রপ্তানি তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমাদের দেশের অর্থনীতিও এখনো সেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এরপরও যারা সবসময় ইস্যু খোঁজে, তারা ইস্যু খুঁজবেই।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার যেন আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়, সেজন্য বিএনপি-জামায়াতেরও দোয়া কামনা করেছেন। এহেন বক্তব্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মমিনুর সেদিন বলেন, “আগামী বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমি মনে করি, বাংলাদেশ সৃষ্টি হবার পর থেকেই এ নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এতে সিদ্ধান্ত হবে রাষ্ট্রক্ষমতা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের শক্তির হাতে থাকবে নাকি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির হাতে যাবে। “আমি মনে করি যে, রাষ্ট্রক্ষমতা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে যদি থাকে; আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ বলি, বিএনপি বলি জামায়াত বলি-সবাই নিরাপদ থাকবে। আমি মনে করি, বিএনপি-জামায়াতেরও এখন দোয়া করা উচিত শেখ হাসিনা যেন আবার ক্ষমতায় আসেন।”
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply