বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
বাউফলে আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলা : বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বাউফলে আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলা : বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বাউফলে আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলা : বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
বাউফলে আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলা : বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : পটুয়াখালীর বাউফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারের দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাউফল শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু দৃষ্টি কামনা করে সাংসদ আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

আ স ম ফিরোজের উপস্থিতিতে তাঁর হুকুমে উপজেলা চেয়ারম্যানকে হত্যাচেষ্টায় হামলা : বক্তারা

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাতির জনকের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। বক্তরা বলেন, আ স ম ফিরোজের উপস্থিতিতে তাঁর হুকুমে উপজেলা চেয়ারম্যানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টায় হামলা চালানো হয়েছে। এমপির ভাতিজা মনির হোসেন মোল্লা ও আলকাচ মোল্লার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দলের ত্যাগী নেতা নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি

হামলার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ আসম ফিরোজ এমপিকে সরাসরি দায়ী করে বলেন, আ.স.ম ফিরোজের নির্দেশে তাঁর পালিত সন্ত্রাসীরা গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে হামলা চালিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত করেছে। এমপির নির্দেশে তাঁর ভাতিজা মনির মোল্লা ও আলকাস মোল্লার নেতৃত্ব ৫০-৬০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এই হামলা চালিয়ে আনন্দ মিছিল পণ্ড করে দেয়। দলের ত্যাগী নেতৃবৃন্দ জাতির জনকের অনুষ্ঠানে পৈশাচিক কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশগ্রহন করে

বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান। বাউফল পৌরসভার কাগুজিরপুল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। গোলাবাড়ি, বাউফল প্রেসক্লাব, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ও বাজার রোড হয়ে বাউফল থানার পাশে ইলিশ চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক সহস্রাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তালুকদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মদনপুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, বাউফল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল কামাল ওরফে পল্টু প্রমুখ।

আ.স.ম ফিরোজ এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

এদিকে,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগের একাংশ আসম ফিরোজ এমপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ইতিমধ্যেই দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেন। এঘটনার পর বাউফলের বগা ইউনিয়নের বগা বন্দরে আসম ফিরোজ এমপির বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশ থেকে আসম ফিরোজ এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন আ স ম ফিরোজ অনুসারীরা

বলাবাহুল্য : একইদিন জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে উপজেলা সদরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তিমিছিল করার কথা ছিল মোতালেব হাওলাদারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আ স ম ফিরোজের অনুসারীদের। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে শান্তিমিছিলের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, বাউফলে শান্তিপূর্ণপরিবেশে কোন ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা ছড়াই মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাউফলে আ স ম ফিরোজ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, সাংসদ আ স ম ফিরোজ বাউফলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়নসহ বিভিন্নসময়ে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছে। পুরো বাউফল আসম ফিরোজের পালিত ক্যাডার বাহিনী জিম্মি করে রেখেছে। নানা অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করেছে আসম ফিরোজের পালিত গুণ্ডা বাহিনী। এতে দলের মধ্যে বড় একাংশে ক্ষোভ জন্মে। একপর্যায়ে আসম ফিরোজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং দলের অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে জােরালো প্রতিবাদ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালোব হাওলাদার। এরপর থেকে আসম ফিরোজ এবং মোতালেব হাওলাদারের মধ্যকার বিরোধে নানা অঘটনার জন্ম দেয়। মধ্যকার বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৬ মে আ স ম ফিরোজ ও আবদুল মোতালেব সমর্থিত পক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন সময়ে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু এবারের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়ার পরও প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে মন্তব্য করেন দলের ত্যাগী নেতারা। এবং জাতির জনকের অনুষ্ঠানে হামলার সময়েও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
বিক্ষুদ্ধ কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার অনুসারীদের অভিযোগ- পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতে এইরকম ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে আ.স.ম ফিরোজ গ্রুপের গুণ্ডাবাহিনী। হামলার সময় উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র‍্যালীতে আ.স.ম ফিরোজের ব্যানারে থাকা সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পেরেছে।

জাতির জনকের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতির জনকের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো মানে জাতির জনকের ওপর হামলা, তাঁর পরিবারের ওপর হামলা। সর্বোপরি এই বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা আওয়ামী লীগের ওপর হামলা।

আসম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলার বর্ণনা দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদ হাসান

শনিবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বগা বন্দরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার ছেলে বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান বলেছেন, পটুয়াখালীর বাউফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালনে আয়োজিত আনন্দ র‍্যালীতে স্থানীয় সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হয়ে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহমুদ হাসান তাঁর বাবার ওপর বর্বর কায়দায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলার হুকুমদাতা ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে ও বগা ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আমার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ মিলিত হয়। এরপর সেখান থেকে আনন্দ মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে পৌঁছালে সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে ও হুকুমে সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাবার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় বাবার ডান পা ভেঙে যায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবং ডান হাতের তৃতীয় আঙুল কেটে যায়।

আ.স.ম ফিরোজ এর নির্দেশে হামলা, ওরা কারা?

জাতির জনকের অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের ভাতিজা ও যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার বিরুদ্ধে। যুবলীগ নেতা অরিবিন্দ সাংবাদিকদের বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্ব একটি আনন্দ মিছিল আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ উপজেলা পরিষদের ফটকের সামনে মিছিলে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার নেতৃত্বে মিছিলকারীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রসহ বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্যমেত, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনের সামনেই ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে মহড়া দিচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে আ স ম ফিরোজের ভাতিজা ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক ওরফে আলকাচ মোল্লা, নানা অপকর্মের হোতা কালাইয়ার বাসিন্দা যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ শফি হাওলাদার, ছাত্রলীগের কর্মী সজীব দাসসহ আরো কয়েকজন। এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যে এরা জড়িত নয়। এরা এলাকায় অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে চললেই শান্তিপ্রিয় মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে আরো আগ থেকেই অভিযোগের পাহাড় থাকলেও এরা সবসময়ই থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এজন্য দিনে দিনে এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাউফলের শান্তিপ্রিয় মানুষ এইসকল সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি রয়েছে। আর এদের ইন্ধনদাতা-নির্দেশদাতা বা শেল্টারদাতা হচ্ছেন সাংসদ আসম ফিরোজ। যদিও হামলাকারীরা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলছেন, তারা হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।

এরআগেও আ স ম ফিরোজের উপস্থিতিতে হামলা চালিয়েছে

বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, এরআগেও সাংসদ আ স ম ফিরোজের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। জাতির জনকের অনুষ্ঠানে এবার পুলিশের সামনে আসম ফিরোজের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরাজী সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ প্রশাসনের সামনে এমপির সমর্থকদের দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অবস্থান করাটা ঘৃনিত কর্মকাণ্ড। এতে প্রমাণিত হয়, এমপি’র লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই এঘটনা ঘটিয়েছে।

৫ আগস্ট : বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শেষে আ.স.ম ফিরোজ এর নেতৃত্বে বরিশালে আনন্দ মিছিল!

আজকে যে বা যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলার নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নেড়েছে, তারাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শেষে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি আ.স.ম ফিরোজ এর নেতৃত্বে সেদিন বরিশাল শহরে আনন্দ মিছিলও বের করেছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা তৎকালীন ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও তৎকালীন ছাত্রনেতা খান আলতাফ হোসেন ভুলুসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ১৫ আগস্টে আ.স.ম ফিরোজের বহুল বিতর্কিত কালো অধ্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যে দিয়ে আসছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আ.স.ম ফিরোজের নেতৃত্বে বরিশাল শহরে আনন্দ মিছিল করেছিলেন। এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননা করেছিলেন সাংসদ ফিরোজ।

শোকাবহ ১৫ আগস্ট : আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক যা বলেছিলেন

শোকাবহ ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সংবাদ মাধ্যম বাংলা ইনসাইডার এর ‘আগস্ট ষড়যন্ত্র ও নেপথ্যের সন্ধানে’ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করার পরে বরিশাল শহরে
আওয়ামী লীগেরই একটি গ্রুপ (নুরুল ইসলাম মঞ্জুর গ্রুপ) আনন্দ মিছিল করেছিল। সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলো পটুয়াখালী ২ আসনের (বাউফল) এমপি ও দশম জাতীয় সংসদের সাবেক চিপ হুইপ আ স ম ফিরোজ। এবং তারা শুধু মিছিল করেন নি, বঙ্গবন্ধুর ছবিতে জুতা ও ঝ্যাটার মালা ঝুলিয়ে সেই ছবি হাতে নিয়ে মিছিল করেছিলো। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “তারা তৎকালীন ডিসির অফিসে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছিলো এবং বরিশাল শহরের এমন সকল স্থানে গিয়ে গিয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছিলো। সেই আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বেই কিন্তু আওয়ামী লীগ করছি আমরা। সেই আ স ম ফিরোজই কিন্তু সংসদের চিপ হুইপ হয়েছে, দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাকে ওই সংসদের সদস্য হিসেবে তার (ফিরোজ) চিপ হুইপিং মেনে নিতে হয়েছে। দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা বর্নচোরাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে।’’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননার অভিযোগে মামলাও দায়ের হয়েছিল

আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাঙচুর-অবমাননার অভিযোগে ২০২১ সালে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। পটুয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বাউফল সদর ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আনন্দ মিছিল করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে মামলার অভিযোগে।
বরিশালের ছাত্রলীগ নেতা থাকাবস্থায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফিরোজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তার ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল ওই মামলায়। বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগও আনা হয় ফিরোজের বিরুদ্ধে।
বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে বাদী জাহিদুল হক খান বলেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকালে বরিশাল শহরে মামলার ২নং সাক্ষী তৎকালীন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদক খান আলতাফ হোসেন ভুলুর নেতৃত্বে বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বরণের সাথে সাথে জাতির পিতার পক্ষ ত্যাগ করে খুনিদের দোসর খন্দকার মোশতাক এবং বরিশালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের পোষ্য ক্যাডার বনে যাওয়া আ স ম ফিরোজ তখন কিছু লোকজন নিয়ে ভুলুর নেতৃত্বাধীন ওই মিছিলে হামলা চালায়। লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করা বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের। তিনি বলেন, এরপর লোকজন নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনায় আনন্দ মিছিল করেন ফিরোজ। একপর্যায়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে নিয়ে ঢোকেন বরিশাল শহরের সদর রোডে টাউন হলের উত্তর পাশে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসে। সেখানে থাকা জাতির পিতার ছবি নামিয়ে তাতে জুতা ও কাঁটার মালা ঝুলিয়ে করেন আনন্দ মিছিল। এরপর বরিশালের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি খুলে ফেলে রাস্তায় এনে শত শত মানুষের সামনে ভাঙচুর পদদলিত করেন আ স ম ফিরোজ।

প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ

উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে (জনতা ভবন) একই সময় এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গত ৯ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার উপজেলা প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়ে প্রথমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এবং তাঁর স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্রও বিতরণ করা হয়।
অপরদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (জনতা ভবন) সকাল ৯ টায় সাংসদ আ স ম ফিরোজ গ্রুপের নেতা-কর্মীরা কেক কাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজনের ঘোষণা দেন। গত ১২ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম ফারুক সাক্ষরিত উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি চিঠির মাধ্যমে একইস্থানে একই সময় পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৩ মার্চ থেকে আ স ম ফিরোজের পক্ষে দিবসটি পালনে ইব্রাহিম ফারুক স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্র বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র আ’লীগ নেতা জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একই দিনে বাউফল প্রেসক্লাব সড়কের পাশে দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেন। মূলত: এরপর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণেই জাতির জনকের অনুষ্ঠানে বর্বর হামলার ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশাসন কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana