বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। সোমবার (২২ মে) বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে মুক্তি পেয়ে নোবেল হাজতখানা থেকে বের হয়ে আসেন।
তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের প্রোগ্রাম নিয়ে একটি ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। আমি কথা দিলাম উত্তরবঙ্গে গিয়ে পরবর্তীতে প্রোগ্রাম আমি আবার করে দিয়ে আসবো। আপনারা আবার নিউজ করবেন। যা হয়েছে তার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
গত শনিবার (২০ মে) বেলা ১১টার দিকে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় তাকে একদিনের রিমান্ড দেন আদালত।
শনিবার (২২ মে) রিমান্ড শেষে নোবেলকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে জামিন চেয়ে আবেদন করেন নোবেলের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাদীর সঙ্গে আপস করে টাকা বুঝিয়ে দেন তারা। পরে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় নোবেলকে জামিন দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত। নোবেলের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা না থাকায় জামিননামা যাচাই-বাছাই করে আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রতারণার অভিযোগে গত ১৬ মে রাজধানীর মতিঝিল থানায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০১৬-এর প্রতিনিধি মো. সাফায়েত ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। পরদিন গত ১৭ মে আদালত এ মামলার এজাহার গ্রহণ করে ৯ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ব্যাচ ২০১৬-এর প্রথম পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য আসামি মাইনুল আহসান নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যোগাযোগের পর নোবেল তাদের রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন হিরাঝিল হোটেলের দ্বিতীয় তলায় যেতে বলেন। গত ২৫ মার্চ মামলার বাদী সাফায়েত ইসলাম ও তার বন্ধু হাবিবুর রহমান সেখানে যান। এরপর পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে গান গাওয়ার জন্য মোট এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঠিক করা হয়। তখন নোবেলকে নগদ ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ সময় নোবেল অনুষ্ঠানের আগেই অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে জানান এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএসসি ব্যাচের সদস্যদের থেকে টাকা সংগ্রহ করে গত ৩০ মার্চ সিটি ব্যাংক এটিএম বুথ শরীয়তপুর ব্রাঞ্চ থেকে ৪৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এরপর গত ১৪ এপ্রিল একই ব্রাঞ্চ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা নোবেলের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাকে সর্বমোট এক লাখ ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে নোবেল জেনেশুনে অনুষ্ঠানে না গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply