বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল কেটে অব্যাহত চুরির রহস্য উদঘাটন হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, কে বা কারা এই চক্রে জড়িত রয়েছে? দ্রুত এদেরকে চিহৃিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি ব্যবসায়ীদের। অপরাধ চক্রের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরফলে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চোরচক্রকে চিহৃিত করে আইনের আওতায় এনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের চৌমাথা এলাকায় ১৯ মে দিবাগত রাতে মিতালী প্লাজা নামে একটি মার্কেটের নয়টি দোকানের টিনের চাল কেটে মালামাল চুরি করে নেয় একটি চোরচক্র। দোকানগুলোর মধ্যে দুটি কসমেটিক্সের, দুটি ভ্যারাইটিজ স্টোর, একটি ফার্মেসি, একটি বইয়ের দোকান, একটি সেলুন, একটি জুতার দোকান। এসব দোকান থেকে নগদ টাকা, মূল্যবান বহনযোগ্য ছোট আকারের মালামাল নিয়ে গেছে চক্রটি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরেন। ২০ মে সকালে দোকান খুলে দেখতে পান সব কিছু এলোমেলো। জিনিসপত্র-নগদ টাকা খোয়া। পরে টিনের চাল কাটা অবস্থায় দেখতে পান তারা। চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ফুটেজে চোর সদস্যদের চেহারা স্পষ্ট। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের চেনে না। চুরির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়। পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজও সরবরাহ করা হয়েছে।
চৌমাথা এলাকায় মিতালী প্লাজা মার্কেটের নয়টি দোকানে ১৯ মে রাতে চুরির আগে ও পরে শহরের বিভিন্নস্থানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সিএন্ডবি রোডের টিটিসি মসজিদ সংলগ্ন ফটোকপি, ফ্লেক্সিলোডের দুটি দোকান, সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন মেজর এম.এ.জলিল সড়ক (করিম কুটির) সংলগ্ন একটি খাবারের দোকান, একটি ফার্মেসি, একটি ভ্যারাইটিজ স্টোর ও একটি বোরকা বিক্রির দোকানের টিনের চাল কেটে চুরি সংগঠিত হয়।
নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার সিঅ্যান্ডবি রোডের খান সড়কের মুখে একসারিতে থাকা একাধিক ফার্মেসি, হার্ডওয়ারসহ ১১টি দোকানের টিনের চাল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে স্থানীয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের টিনের চাল কাটে চক্রটি। অপরদিকে সিঅ্যান্ডবি রোডের সাগরদী এলাকার সিকদার পাড়া সড়কের মুখে আটটি দোকানে একই কায়দায় চুরি হয়। একের পর এক চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে চোরদের চেহারা স্পষ্ট। চোরের মুখে ছোট টর্চলাইটও দেখা গেছে। প্রতিটি আলাদা আলাদা সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকেই বেশিরভাগ দোকানে চুরি করতে দেখা গেছে। টিনের চাল কাটার ধরণ ও চোরের শারীরিক গঠন বলছে, একটি চক্রই এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে। দ্রুত এ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, চুরির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply