বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম কর্তৃক রাস্তা, ড্রেন এবং কবরস্থানের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন (মামা খোকন)। এরপর তিনি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মাপঝোঁক করে কারারক্ষী কর্তৃক দখল করা অংশ চিহৃিত করে দিয়ে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বিকেলে নগরীর ভাটিখানা সৈয়দ হাতেম আলী মিরার পুরান বাড়িতে নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মাপঝোঁকের মাধ্যমে এই নির্দেশ দেন তিনি। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কারারক্ষী শহিদুল ইসলাম কর্তৃক ভাটিখানায় শত শত মানুষের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যােগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। কারারক্ষী শহিদুলের এতো অর্থের উৎসের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী। এবং রাস্তা, ড্রেন ও কবরস্থানের জায়গা দখল করায় তার বিচার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এরওআগে স্থানীয়রা কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বরিশাল সিটি মেয়র, বরিশাল জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু কারারক্ষী শহিদুল নিয়ম কানুনকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা, ড্রেন ও কবরস্থানের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রাখে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কারারক্ষী শহিদুল ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকনের নাম ভাঙ্গিয়ে বা দোহাই দিয়ে এসব দখল দ্বারিত্ব এবং দ্বাম্ভিকতা প্রদর্শন করে আসছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এ বিষয়টিও কাউন্সিলরের নখদর্পনে দেন স্থানীয়রা। তখন কাউন্সিলর বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করে পাড় পাবে না।
এসব প্রসঙ্গে বিসিসির ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকন ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে ওই কারারক্ষী জনগণের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ করছে। এমনকি সেখানে কবরস্থানের জায়গাও দখল করেছে কারারক্ষী। এজন্য দখল করা অংশ চিহৃিত করে ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছে।
কারারক্ষী শহিদুল এরআগে ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেছিলেন, আমি আমার সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছি। ওই ড্রেনও আমার সম্পত্তির মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়টি কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকনও (মামা খোকন) অবিহত বলে মন্তব্য করেন কারারক্ষী শহিদুল। তিনি আমার বিষয়ে সব জানেন। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। কাউন্সিলর মামা খোকনের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। যদিও এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেছেন, শহিদুল নামের কারারক্ষীকে আমি চিনি না। আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপরাধ করলে পাড় পাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কারারক্ষী শহিদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাউফলের কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল গ্রামে। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘুরে ফিরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কিভাবে অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারারক্ষী শহিদুলের বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply