বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় দেশের বিভিন্নস্থানে শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অনেকে বহিষ্কার হতে যাচ্ছেন। ছাত্রলীগ বলছে, সংগঠনের আদর্শবিরোধী কেউ কেউ সংগঠনে জায়গা করে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগে স্বাধীনতাবিরোধীদের যারা সমর্থন করবে তাদের ঠাঁই হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য দেওয়া হলো:
জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় বরিশালের উজিরপুরে ৪ ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ। একইসঙ্গে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করার জন্য জেলা ছাত্রলীগকে সুপারিশ করা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- বামরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান শান্ত, সদস্য সাইদ ফকির, গুঠিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রাজু হাওলাদার, গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম। শনিবার (১৯ আগস্ট) উপজেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সভায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসিম ঘরামী ও সাধারণ সম্পাদক জালিছ মাহমুদ শাওন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাদের দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের কাছে এদের প্রত্যেককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের অনুরোধ করা হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগ একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পরে ফেসবুকে তার ছবিসংবলিত সংবাদ কার্ড শেয়ার করেন ওই চার ছাত্রলীগ নেতা। সেখানে আপত্তিকর কিছু বিষয় থাকায় পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট দিয়ে নেতাদের কাছে উপস্থাপন করে বহিষ্কারের দাবি তোলেন অন্য নেতাকর্মীরা। সূত্রটি জানিয়েছে পোস্ট করার ১ দিন পর আবার সেই পোস্ট মুছে ফেলেন ছাত্রলীগ নেতারা।
বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসিম ঘরামী বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কারর করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শোক জানানোয় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দুই ছাত্রলীগ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- উপজেলার দেউলবাড়ি দোবরা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের গাওখালী গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ও এ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রুম্মান হোসেন এবং একই ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন শেখ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেওয়া এ অব্যাহতির আদেশ রোববার (২০ আগস্ট) সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। তবে অব্যাহতি পত্রে সাঈদী প্রসঙ্গ টানা হয়নি। অব্যাহতি দেওয়ার কারণ হিসেবে এতে বলা হয়েছে, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাদের সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস জানান, ওই দুই নেতা গত ১৪ আগস্ট তাদের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে সাঈদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা রুম্মান হোসেন বলেন, একজন মুসলমানের মৃত্যুর খবর শুনে অন্য মুসলামানের ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পাঠ করা উচিত। সেই হিসেবে আমি ফেসবুকে তা লিখেছি। কোনো জামায়াত নেতার জন্য শোক জানাইনি। সাধারণ সম্পাদক রাকিবও একই কথা জানান।
ছাত্রলীগের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম তাছির মৃধাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম তাছির মৃধাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম তাছির মৃধা বলেন, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুতে আমি ভুলক্রমে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলি। হয়তো সে কারণেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাকে কিছুই জানাননি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে মো. মুজাহিদুল ইসলাম তাছির মৃধাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় দৌলতখান উপজেলা ছাত্রলীগের চার নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ আগস্ট) রাতে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাইহান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব মাহমুদ হিমেল এর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের এ চার নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতি পেয়েছেন, দৌলতখান উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাবিউর রহমান রাফি, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেরাব হোসেন মিরাজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাশরাফি চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক রকিবুল ইসলাম রাজ। জানা গেছে, সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদে এসব উপজেলা ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’ কেউ কেউ লিখেন, ‘নক্ষত্রের বিদায়ে ভূমিকম্প হলো। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতবাসী করুণ।’ এরপরই এ নেতাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অব্যাহতি বিষয় জানানো হয়। ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিব মাহমুদ বলেন, ‘তারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ও সংগঠনের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাদেরকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাইদির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় লালমনিরহাটে ১২ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ জামান ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার (১৯ আগস্ট) রাতে এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, লালমনিরহাট জেলা শাখার এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন কালীগঞ্জের চলবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম সুমন, হাতিবান্ধার গড্ডিমারী ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ভূঁইয়া, হাতিবান্ধার গোতামারী ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোনাবেরুল হক মিশেল, কালীগঞ্জের উত্তরণ ডিগ্রী কলেজের কর্মি মামুনুর রশিদ লিওন খান, হাতিবান্ধার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আল- আমিন হোসেন সাগর, সদরের মোগলহাট ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম রানা, একই ইউনিয়নের আইন বিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবিন, লালমনিরহাট পৌর শাখার ৪ নম্বর ওয়ার্ড সহ-সভাপতি শ্রাবন হোসেন, মোগলহাট ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ইসলাম, লালমনিরহাট পৌ শাখার সদস্য ঈসমাইল হোসেন আদর, পাটগ্রামের জোংরা ইউনিয়নের সদস্য সহিদ ও পাটগ্রাম পৌর শাখার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ইবনে রুসদ। একই সঙ্গে তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট স্থায়ী বহিষ্কারের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কী কারণে মারুফ হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে জেলা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেন তার ফেসবুকে সাঈদীর ছবিসংবলিত সংবাদ শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তার মাগফিরাত কামনা করেন। এর পর থেকে যশোরের আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগ নেতার পোস্টটি স্ক্রিনশট দিয়ে সমালোচনা ও বহিষ্কারের দাবি তোলে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আবার সেই পোস্ট মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৩ আগস্ট আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়। পরে আমার বন্ধুরা জানান, হ্যাককৃত আইডি থেকেই সাঈদীকে নিয়ে একটা পোস্ট হয়েছে। গতকাল রাতে আমার আইডিটা ফিরে পেয়েছি। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাতে জিডিও করেছি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীরা হলেন আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাইজিদ খাঁ, আশুগঞ্জের তালশহর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ সোহান, আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফুরকান আহমেদ, আখাউড়া পৌর ছাত্রলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি রবিন খান, কসবার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য নাজমুল সরকার ও সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী রিয়াজ উদ্দিন খান।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবিসংবলিত পোস্টার, সংবাদ কার্ড শেয়ার করে কেউ শোক প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তাঁর মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার আহ্বান জানান। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর ঘটনার দিন রাতে তাঁরা নিজ নিজ ফেসবুকে পোস্টগুলো দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবার সেই পোস্ট মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাইজিদ খান বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়। আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা পর ফেসবুক আইডি ফিরে পাই। ফেসবুকে ঢুকে এই পোস্ট দেখে সঙ্গে সঙ্গেই তা মুছে ফেলি।’
আরেক ছাত্রলীগ নেতা ফুরকান আহম্মেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। তাঁর (সাঈদী) মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছি। পরে মুছে ফেলেছি। মৃত্যুর সংবাদ শুনে পোস্ট দিয়েছি। এখন রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়ে গেছি।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের ওই নেতারা সংগঠনের আদর্শবিরোধী কাজ করেছেন। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ছাত্রলীগের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কাজ করেছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে জামালপুরে ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ। বুধবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাবিরুল ইসলাম খান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক নাফিউল করিম রাব্বি স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কারকৃতরা হলেন ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সহসম্পাদক মোসা আহমেদ, ইসলামপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোরসালিন উদ্দিন, ইসলামপুর পৌর ছাত্রলীগ কর্মী মো. জয় মামুন ও আব্দুল কাইয়ুম, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির সরকার, চরপুটিমারি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম, নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আশিক, মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, সদস্য আশরাফুল সালেহীন রিয়াদ, মেলান্দহ পৌর শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আহমেদ, সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান সেতু, নাংলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মো. বরকত উল্লাহ ফারাজী, হাজরাবাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম চৌধুরী, কুলিয়া ইউনিয়ন শাখার অন্তর্গত ২ নম্বর ওয়ার্ড শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন ইসলাম সানি, জামালপুর সদর উপজেলা পূর্ব শরিফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইম কবির, বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শোয়েব আল হাসান সজল ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী সাংগঠনিক থানা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মুসা।
কেন তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার উপযুক্ত কারণসহ আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাবে সশরীরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জামালপুর জেলা শাখার দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাফিউল করিম রাব্বি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এটি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের একটি সংগঠন। এ সংগঠনের কেউ যদি সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) স্ট্যাটাস দেওয়ায় সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। এ অপরাধে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১৮ জন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছয় ছাত্রলীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগ। তারা হলেন- কাশিয়ানী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, ইমন সরদার, উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক সোহাগ শরিফ ও নিজামকান্দি ইউনিয়নের সভাপতি মো. সোহাগ মোল্যা।
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রুহের মাগফেরাত কামনায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মুরাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে জাহিদ খানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ‘ইন্না লিল্লাহ’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মদন উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জোবাইদ মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ছাত্রলীগের তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে তাদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ আগস্ট) রাতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন, তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুদ্দীন আজাদ সবুজ ও মাইনুল ইসলাম মাসুম, অপরজন হলেন সীমান্ত আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোম আশিক কবির।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় পাবনায় ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ ও সাধারণ রাব্বিউল ইসলাম সিমান্ত স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়।
সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন-পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শেখ রকি, গয়েশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন খান, চাটমোহরের ফৈলজানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক মামুন হোসেন, আতাইকুলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিক খান, আতাইকুলা থানার ভূলবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, চাটমোহর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী রাকিবুল হাসান, বেড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স, দাপুনিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহানুর রহমান, চাটমোহরের ফৈলজানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সবুজ হোসেন, চাটমোহরের হান্ডিয়াল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য আরিফ খোন্দকার ও আতাইকুলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের শিক্ষা সম্পাদক পারভেজ খান পান্না।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের তিন নেতাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা তিনটার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এ কে এম আসিফুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই তিন নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ওই তিন নেতা সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত আছেন এমন অভিযোগে তাঁদের স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য জেলা ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা হলেন লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি গাজী আমজাদ, মো. তাউসিফ ও উপদপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুম।
প্রসঙ্গত : একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন। সোমবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাঈদী অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার তাকে গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে রাতে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. রেজাউর রহমান। মৃত্যুকালে জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির সাঈদীর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন ঢাকার শাহীনবাগের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন সাঈদী। এরপর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল।
ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়।
সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেয়। তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ আসে। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এরপর থেকে সাঈদী কাশিমপুর কারাগারেই ছিলেন। সেখানে বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানালে রোববার সন্ধ্যায় সাঈদীকে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
তাকে দেখে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বলাবাহুল্য : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply