বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, আব্দুল আউয়াল, বানারীপাড়া : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের পূর্ব দিদিহার গ্রামের মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামী কে গুরুতর আহত অবস্থায় জখম করে ফেলে রেখে চলে যায় দিদিহার গ্রামের বটতলা বাজারের সন্ত্রাস প্রকৃতির মনির ও তার সহযোগীরা। হামলার শিকার পরিবার সন্ত্রাসী মনির ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা এই মনির বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, মৃত আশরাফ মাঝির ছেলে আহত সোহাগ ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাসরিন দীর্ঘদিন এই জায়গার খৈলানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিকেলে আছর নামাজবাদ কাউকে কিছু না জানিয়ে একটি মাদ্রাসা নির্মাণের ব্যানার সাঁটানো ও মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ শেষে মিষ্টি বিতরণের সময় আহত সোহাগ মিষ্টি আনতে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মনির সহ কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে এই খৈলানের বসবাসকারীদের বলে তোদের কি মিষ্টি দেব তোরা ঘর ছেড়ে চলে যা, এ জায়গা এখন আমাদের। একপর্যায়ে সোহাগ ও তার স্ত্রী নাসরিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।পূর্ব শত্রুতার জেরে মনিরের হাতে থাকা বাংলা দাও দিয়ে সোহাগের মাথায় কোপ দেয়। তাৎক্ষণিক সোহাগ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটে পড়ে যায় ওই অবস্থায় তার স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে দৌড়িয়ে যায় । ঐ সময় নাসরিনকে ধাক্কা মেরে মনির ও তার লোকজন তার হাতে থাকা বাংলা দাও রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা সোহাগ ও তার স্ত্রী কে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে সোহাগের জখম মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে।
এদিকে, এই মাঠে বসবাসকৃত ১০ টি পরিবার সম্মিলিত এক হয়ে বলেন আমরা মনিরের হাত থেকে বাঁচতে চাই। এ পর্যন্ত মনির প্রায়ই দা কুড়াল নিয়ে এসে আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে যায়।
এছাড়াও মনির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমড়া গাছ সুপারি গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ খৈলানের আশেপাশে অবৈধ ভাবে রোপণ করে যায়। আমরা আতংকে আছি মনির যে কোন সময় আমাদের বড় ক্ষতি করতে পারে।
এ বিষয়ে বর্তমান জায়গার মালিক মরহুম আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন এ জায়গা বর্তমানে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিসের জোরে মনির ও তার লোকজন আমার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে এই জায়গায় গাছ রোপণ করে। মনিরের জোরের খুঁটি কোথায় আমি এর বিচার চাই। তিনি আরো বলেন, যেহেতু আদালতে মামলা চলমান। সেহেতু আদালত যে রায় দেবে আমি সেই রায় মেনে নেব।
এ ব্যাপারে মনিরকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন আমি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।
এ ব্যাপারে বানারীপাড়া থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, আহত অবস্থায় সৈয়দ কাঠি থেকে সোহাগ নামে এক লোক হাসপাতালে আসছিল পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। এরপর আমাদের কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply