বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বরিশালের বিভাগীয় রোডমার্চে মোটরসাইকেল, পিকআপভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে চেপে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিরোজপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নগরীর বঙ্গব্ন্ধু উদ্যান থেকে রোডমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এরপর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে রোডমার্চের গাড়িবহর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজেই নেতাকর্মীরা পিরোজপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। দলীয় সূত্র বলছে, বরিশাল শহর থেকে শুরু হওয়া রোডমার্চ ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুরে গিয়ে আবার সেখান থেকে নেতাকর্মীরা বরিশালে আসেন। রোডমার্চে বরিশাল শহর ছাড়াও ৬ জেলার নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল, পিকআপভ্যান, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে অংশ নিয়েছেন। বিএনপির রোডমার্চ ঘিরে বরিশাল নগরীর দক্ষিণ জনপদে দীর্ঘ ২ ঘণ্টার অধিক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। শহরের অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়ক বান্দরোড, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে নগর অংশে আমতলার মোড় থেকে রূপাতলী এবং রূপাতলী থেকে ঝালকাঠি সড়কের কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
রোডমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান। তাদের সঙ্গে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, সাবেক বিমানবাহিনীর প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাবেক এমপি হারুন অর রশিদ সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেতা আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আবুল হোসেন, নাজিমুদ্দিন আলম, রফিকুল ইসলাম জামাল, এবাদুল হক চান, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আজ মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করে কিছু কিছু মানুষ বড়লোক হয়েছে, কোটিপতি হয়েছে, শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আর সাধারণ মানুষ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশের এই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পরামর্শে আমরা বিএনপি এবং দেশের সব রাজনৈতিক দল একদফা দাবির আন্দোলন করছি। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে একটা নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে। আর এই দাবিতে সারা দেশের মানুষ রোডমার্চ সভা, সমাবেশ, মিটিং করছে। যার অংশ হিসেবে আজ বরিশালে জনতার ভিড়। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নগরীর বঙ্গব্ন্ধু উদ্যান থেকে বরিশাল বিভাগে বিএনপির এক দফার দাবিতে রোড মার্চ উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষের চরম দুঃসময়। একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে ১ লাখ টাকার মতো ঋণ মাথায় নিয়ে। বলেন, একটি ডিমের দাম ১৬ টাকা, ৫০ টাকা সের ভাঙা ও পোকা খাওয়া চালও পাওয়া যায় না। সব জিনিসের দাম বেশি। নির্দিষ্ট নিম্ন আয়ের মানুষ হালাল উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে না। আর এসব অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যেটার নাম বদলে এখন করা হয়েছে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সেই আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, শিশু, নারী ও সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। আর অন্য দিকে সাগর রুনির মতো নামকরা সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, কিন্তু তাদের মামলায় চার্জশিট পর্যন্ত দেওয়া হয় না। একশত বারেরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। দেশের ভবিষ্যত রক্ষা করার জন্য এই অবস্থা থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগের এই রোড মার্চের মাধ্যমে আমরা জনগণকে একত্রিত করে বর্তমান অবৈধ সরকারের শেখ হাসিনাকে দেখিয়ে দেব বাংলাদেশের জনগণ তাকে আর চায় না। তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, বরিশালের এই রোডমার্চের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে যেন এই সরকারের পতন ঘটে।
সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বরিশাল মহানগর বিএনপি আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যার বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, রোড মার্চ সমন্বয়কারী আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মহাবুবুল হক নান্নুসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চে যাওয়ার পথে গৌরনদী উপজেলা বিএনপি ও যুবদল নেতাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মার্চ) সকালে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনার পর আহতদের বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় আহতরা হলেন, জেলা উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল, পৌর বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, মহিম, যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম, মামুন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন।
জানা গেছে, শনিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চে যোগ দিতে যাওয়ার পথে একটি গাড়ি বহর ঢাকা-বরিশাল হাইওয়ের গৌরনদী বাসস্টান্ডে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। যেখানে স্থানীয় অর্ধশতাধিক ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রোডমার্চে অংশ নিতে রওয়ানা দেওয়া বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
জেলা উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু জানান, হামলাকারীদের ভয়ে তাদের রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অপরদিকে উপজেলার মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক আকন ও ডিএসবি বাজারে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন হাওলাদারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
তবে বিএনপি ও যুবদল নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের কোনোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রোডমার্চে যোগদানের উদ্দেশ্যে পথিমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় বরিশাল জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্লিপ্ততাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও স্থানীয় সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন।
এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন, মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধাপ্রদানের অপরাধে মার্কিন প্রশাসন যেদিন সরকারি দলের নেতৃত্ব, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগসহ দায়িত্বশীলদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, ঠিক তার ১২ ঘণ্টার মাথায় গৌরনদীতে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের এ তাণ্ডবলীলা প্রমাণ করে কী ভয়ংকর বিভীষিকাময় রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে এ জনপদে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের বিরামহীন নির্লিপ্ততায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সমগ্র অঞ্চল আজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি গৌরনদীতে হামলাকারীদের মূলহোতাদের খুঁজে বের অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত : এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে সিলেট অভিমুখে রোডমার্চ করে বিএনপি। বরিশালের এই রোডমার্চ দ্বিতীয়। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগে, ১ অক্টোবর ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, ৩ অক্টোবর ফরিদপুর বিভাগীয় রোডমার্চ, ৫ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রোডমার্চ করবে বিএনপি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply