বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বরিশালে মাদক ব্যবসায়ীদের চক্রান্তের শিকার কি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই সদস্য? বিভিন্ন মহলে এরকম প্রশ্ন ধুমায়িত হচ্ছে। কারণ একটি ভিডিও ফুটেজে পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয় যে- পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের ফাঁসাতেই চক্রান্ত করে। এরইধারাবাহিকতায় ব্যাগে মাদক ভর্তি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের কাছে বার বার ব্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করে চক্রান্তকারীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন- যাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে, তারা পলাশপুরের মোহাম্মদপুরে অসংখ্য সফল অভিযান করেছেন। এরফলে ষড়যন্ত্র করে আমাদের দুই সদস্যকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে মাদককারবারীরা।
বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার মোহাম্মদপুর ঘেরের পার এলাকায় সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা এস আই ওবায়দুল্লাহ খান ও সিপাহী সবুর মাদক উদ্ধার অভিযানে যায়।
সূত্রের ভাষ্য, মোহাম্মদপুর ঘেরেরপার এলাকায় সোহাগ ওরফে বাউয়া সোহাগ, জনি, রাকিব, রাজু, দেলু, সোহেল, রাসেল, মোঃ রাজু সহ চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন সংস্থার একাধিক মামলা চলমান।
এরই সূত্র ধরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই সদস্য সকালে ঘেরেরপার এলাকায় গেলে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের ফাঁসানোর জন্য সকল মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে তাদেরকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পৌছানো মাত্রই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা মাদক দিয়ে তাদেরকে মাদক বিক্রেতা বলে ঘিরে ধরে ও মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এবং তাদেরকে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করে।
মুঠোফোনের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়- মাদক ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের কাছে ব্যাগে মাদক ভর্তি করে দেয়ার বার বার চেষ্টা করে।
অসমির্থত একাধিক সূত্র বলছে- মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রায় সময়ই অভিযান চালিয়ে প্রশাসন মাদক উদ্ধার করে। এবং মাদক মামলা দিয়ে থাকে। এতে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক দিয়ে তাদেকেই ফাসানোর ফন্দি আঁটে মাদক ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুন্ড সাংবাদিকদের বলেন, মাদক উদ্ধার অভিযানের উদ্দেশ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের সদস্যরা সকালের দিকে মোহাম্মদপুর এলাকায় যায়। সেখানে গিয়ে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে একটি বিছিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। আমাদের সদস্যরা যদি প্রকৃতপক্ষে কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা ইউনিটের সহকারি পরিচালক ফয়সাল মাহামুদ সাংবাদিকদের জানান, যাদের হেনস্তা করা হয়েছে, সোমবার সকালে তারা কোনো এক মাদক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যনুযায়ী অভিযানে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই সেখানে একটা জটলার পরিবেশ দেখতে পান তারা। তিনি বলেন, যাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে, তারা মোহাম্মদপুরে অসংখ্য সফল অভিযান করেছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজগুলোও নিক্ষুতভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার পর তাদের দুই সদস্যর সাথে কথা বলেছেন, তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এবং তারা জানিয়েছেন এটি একটি ষড়যন্ত্র।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply