বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : ভারতের ‘নূরজাহান’ চালের দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে আসছে বরিশালে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রটি বরিশাল শহর, বাকেরগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় নুরজাহানের লোগো ব্যবহার করে সরকারি চাল দেদারছে বিক্রি করে প্রতারণা চালিয়ে আসলেও এদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি চাল নুরজাহানের বস্তায় প্যাকেট করে বিক্রি করে আসছেন। এছাড়া বাকেরগঞ্জের আরো কয়েকটি চালের দোকানে এহেন প্রতারণা করে আসছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৯ নং কলসকাঠি ইউনিয়ন কলসকাঠি বাজারের চাল ব্যবসায়ী মোঃ তৈয়ব আলী, পরিমল কুন্ড, মোঃ আল আমিনের চালের দোকানে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল নুরজাহান বস্তায় প্যাকেট করে বিক্রি করে আসছে।
একাধিক সূত্রের ভাষ্য, কলসকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে কাবিখা, পূজাসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের চাল এই চাল সিন্ডিকেট সরকারি চালের বস্তা পরিবর্তন করে নুরজাহান বস্তায় দেদারসে বিক্রি করছে।
ভারতীয় চিকন চালের’নুরজাহান’, দেশীয় জোড়া কবুতরসহ বিভিন্ন নামিদামী কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে দেশে উৎপাদিত চাল প্লাস্টিক বস্তায় ভরে বাজারজাত করার এই চাল সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে কলসকাঠি বাজার এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে এর তথ্য মেলে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তারা চাল বিক্রি করছে এ যেনো দেখার কেউ নেই।
অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কর্তব্যরত ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে নির্লিপ্ততার।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এভাবে দেশীয় মোটা চালকে প্রসেস করে বিভিন্ন নামিদামী ব্রান্ডের মোড়কে প্যাকেট করে বিক্রি করছে এসব চাল।
পরবর্তীতে ভারতীয় চিকন চালের জনপ্রিয় ব্রান্ড ’নুরজাহান’ দেশীয় ‘জোড়া কবুতর’ সহ বিভিন্ন নামিদামী কোম্পানির লোগো ব্যবহার করে ২৫ ও ৫০ কেজির বস্তায় বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিসহ সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন।
এ বিষয় চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করে যাচ্ছি বাংলাদেশী সেনাবাহিনীর চাল ছাড়িয়ে বিক্রি করে থাকি। তবে আমার জানা নেই এই কাজটি অবৈধ কিনা, এখানে গ্রাহক যেমন চাচ্ছেন আমরা সেই রকম প্রস্তুত করে দিচ্ছি। উপজেলা থেকে গ্রাহক কম খরচে আমাদের নূরজাহানের বস্তায় দেশী চাল প্রস্তুুত করে দিতে বলেন আমরা দেই। সেটা বৈধ কি না আমি জানি না।
কলসকাঠি বাজারের ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী বলেন, আমরা চাল বস্তায় করে যেভাবে কিনে আনি সেভাবেই বিক্রি করে আসছে।
পরিমল কুন্ড বলেন, আমি বরিশাল ফড়িয়া পট্টি স্বপন ঘোষের চালের আড়ৎ থেকে এই নুরজাহান বস্তার চাল কিনে থাকি। চাল ব্যবসায়ী আল আমিন সাংবাদিক দেখে সটকে পড়েন।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক সুমি রাণী মিত্র মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের পণ্য অন্য কারো মোড়ক কিংবা লোগোতে ব্যাবহার করে বাজারজাত করা সম্পূর্ণ বেআইনী। এ ব্যপারে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ চাল ব্যবসায়ী আছেন তাদের চিহ্নিতপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী মোঃ জামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, বাকেরগঞ্জ পৌরসভা, ৪নং ওয়াডে রাকিব রাইজের মালিক কালা জাহাঙ্গীর একই কায়দায় সরকারি গোডাউনের চাল নুরজাহান বস্তায় ভরে বেশি দামে বিক্রি করছে।
এদিকে চাল নিয়ে এরকম ন্যাক্কারজনক প্রতারণার বিষয়ে সচেতন মহল গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতনমহল।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply