বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!

তারুণ্যের মনোজগৎ দখলে নিচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি!

Jalal-Ahmed-Mridha-Journalist-Ahmed-Jalal
Jalal Ahmed Mridha (Journalist Ahmed Jalal)

আহমেদ জালাল : দেশে দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সহিংস উগ্রবাদ আর কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা। এই বঙ্গদেশজুড়ে জোরেশোরেই চলছে ধর্মীয় উন্মাদনার বিষবাষ্প। জনযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে উঠা স্বাধের স্বাধীন বাংলাদেশে তারুণ্যের মনোজগৎ দখলে নিচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি! এ যেনো সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র!! বিশেষ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেকে চরিতার্থ করার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের সাধারন মানুষ উগ্র সাম্প্রদায়িকতাকে কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি। কিন্তু স্বার্থানেষী মহল কখনো কখনো ধর্মীয় সুরসুরির জিগির তুলে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করে। সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা বা গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামার মতো ঘটনা সৃষ্টি করে ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের লোকদের মধ্যে বিভাজন ও ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। অবাক! পাড়ায়-মহল্লায়, অলি-গলিতে মাইক লাগিয়ে সর্বত্র ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে! ভণ্ডরা দ্বাম্ভিকতার সুরে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিধর্মী, ইহুদি, কাফের, নাস্তিক তকমাজুড়ে দিয়ে মগজ ধোলাইয়ে তারুণ্যের মনোজগতে মানুষ হত্যায় মত্ত করে তোলা হয়!! এরফলে উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার উত্থানে ডালপালা বিস্তার করে রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবন ভয়াবহ অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে! শান্তির বার্তার বিপরীতে বীরপদর্পে ধর্মের নামে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যত সময় এগিয়েছে, ততই বিভিন্ন দল ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়েছে। এ কারণে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি আবারো ফণা তুলছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। ধর্মকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ মহল সবসময় উদগ্রীব থাকে। ধর্মীয় উন্মাদনা সাম্প্রদায়িকতাকে তীব্রভাবে উসকে দেয়। মানুষকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা না করে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোত্র ইত্যাদিতে পার্থক্য করে দেখাই সাম্প্রদায়িকতা। সাম্প্রদায়িকতা এমন এক উগ্র সংস্কৃতি যা এক গোত্র, ধর্ম, বর্ণ ও জাতির ওপর অন্য গোত্র, ধর্ম, বর্ণ ও জাতির আধিপত্যের লড়াই। সাম্প্রদায়িকতা মানুষের মনে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ ও আক্রোশের জন্ম দেয়। বাংলার মধ্যযুগীয় কবি বড়ু চণ্ডীদাসের বাণী, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। শৈশব থেকে এই মাটির দার্শনিকতার সঙ্গে পরিচয় যদি আন্তরিকভাবে করানো যায়, তবে শ্রেষ্ঠত্বের জঙ্গিবাদি ধারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ খুন করার কথা না।

আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের দলিলবদ্ধ রূপ

আমাদের চলমান সংস্কৃতিকে যদি আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের যে দলিলবদ্ধ রূপ, তার নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বমূলক অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, সেখানেই দেখা মিলবে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বর্ণিল রূপ। অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বসহই ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শত ঝর্ণার জল।
গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্‌ফুসিয়াস্‌? চার্বআখ চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, য্ত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি?-পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
সাম্যবাদী কবিতায় এভাবেই মানুষে মানুষে সমতার স্বপ্ন জাগিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সৃষ্টির আলোয় ধারণ করেছিলেন প্রেম ও মানবতাকে। সত্য ও সুন্দরের আরাধনা ছিল তাঁর সৃষ্টিশীলতার মন্ত্র। অন্যায় কিংবা শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে সাম্যবাদী কবির কলম। গান ও কবিতায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে স্বদেশমুক্তির আকাঙ্খা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
‘মানুষ’ কবিতায় মানবতার কবি কাজী নজরুল লিখেছেন :
গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
পূজারী, দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!-
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনিকো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
ভুখারি ফুকারি কয়,
ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’
মসজিদে কাল শিরনি আছিল, অঢেল গোস্ত-রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন,
বলে ‘বাবা, আমি ভুকা-ফাঁকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা – ‘ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছো মরো গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?’
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – ‘তা হলে শালা,
সোজা পথ দেখ!’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
ভুখারি ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়!
মানুষেরে ঘৃণা করি
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে,
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে,
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল! -মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ; -গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মাদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ, এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশি করে প্রতি ধমনীতে রাজে!
আমরা তাঁদেরি সন্তান, জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহ,
কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ।
হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীম,
আমিই কি জানি কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?
কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাথি?
হয়ত উহারই বুকে ভগবান্‌ জাগিছেন দিবারাতি!
অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান উচ্চ নহে,
আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ-দহে,
তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন্থ ভজনালয়
ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র নয়!
হয়তো ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটির-বাসে
জন্মিছে কেহ- জোড়া নাই যার জগতের ইতিহাসে!
যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ, যে মহাশক্তিধরে
আজিও বিশ্ব দেখনি,-হয়ত আসিছে সে এরই ঘরে!
ও কে? চন্ডাল? চম্‌কাও কেন? নহে ও ঘৃণ্য জীব!
ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব।
আজ চন্ডাল, কাল হ’তে পারে মহাযোগী-সম্রাট,
তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দীপাঠ।
রাখাল বলিয়া কারে করো হেলা, ও-হেলা কাহারে বাজে!
হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল এসেছে রাখাল সাজে!
চাষা বলে কর ঘৃণা!
দেখো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না!
যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও ধরিল হাল,
তারাই আনিল অমর বাণী-যা আছে রবে চিরকাল।
দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায় নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,
তারি মাঝে কবে এলো ভোলা-নাথ গিরিজায়া, তা কি চিনি!
তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-মুষ্টি দিলে,
দ্বারী দিয়ে তাই মার দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলে।
সে মার রহিল জমা-
কে জানে তোমায় লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কিনা ক্ষমা!
বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ, দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি,
নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হ’য়েছে কুলি।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা-মথিত-সুধা,
তাই লুটে তুমি খাবে পশু? তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের কোনোখানে!
তোমারি কামনা-রানি
যুগে যুগে, পশু, ফেলেছে তোমায় মৃত্যু-বিবরে টানি।
প্রাচীন গ্রিক সোফিস্টরা সবার উপরে মানুষকে স্থান দিয়েছেন। তাঁদের মতে মানুষ সবকিছুর পরিমাপক। সমাজবদ্ধ মানুষ নানা ধর্মে বিভক্ত থাকে। কিন্তু সব ধর্মের মানুষ একইসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করবে, এ জন্যই অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেওয়া হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনা হলো এমন একটি বিষয় বা আদর্শিক ভাবাদর্শ, যেটি দেশ-কাল-পাত্রভেদে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে।
মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ থাকতে পারে না, সেটাই ফুটে উঠেছে মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক ও মরমি কবি লালনের উক্তিতে-
‘হিন্দু খ্রিস্টান আর মুসলমান
রক্তে বর্ণে নেই ব্যবধান
সুন্নত দিলে হয় মুসলমান
বামুন চিনি পৈতার প্রমাণ
বামুনি চিনি কি ধরে।’
অসম্প্রদায়িক,বাঙ্গালি সংস্কৃতি নির্ভর সমাজ কাঠামোতে প্রতিটা মানুষ তার ধর্ম,বর্ণ, গোত্র ও বিশ্বাস নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করার স্বপ্নে মহান মুক্তি সংগ্রামে দেশের অগণিত মানুষ আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন। মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। কথা ছিল বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, অন্যায়, অবিচার, শোষণ, নিষ্পেষণমুক্ত সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এরফলে এখানকার রাজনীতি, সংস্কৃতি, দর্শন, আদর্শ, মূল্যবোধ, তথা যাবতীয় কর্মধারা আবর্তিত হওয়ার কথা সেই আদর্শ-কে ঘিরে। প্রশ্ন হচ্ছে-স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় অতিক্রম হলেও আদর্শবাদী সমাজ ব্যবস্থার পথ বয়ে কি চলছে? নাকি আবহমান বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিপরীতে দেশে ধর্মীয় উন্মাদনায় উগ্রবাদের চাষাবাদ হচ্ছে? একটা সমাজের বাস্তবতা ঠিক করে দেয় সমাজে বাসকারী মানুষের সাথে মানুষের কি সম্পর্ক দাঁড়াবে, কোন মতাদর্শের মাঝ দিয়ে সমাজটা এগুবে।
সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণের সমষ্টি, মানুষের জাগতিক নৈপুণ্য ও কর্মকুশলতা। তার বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা, নৈতিকতা, রাজনীতির ভাষা, কলা, মূল্যবোধ সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা সোনার বাংলায়, বিচিত্র মানুষ, বিচিত্রভাবে বসবাস করে। এটাও এদেশের সংস্কৃতি। সময়ের পরিক্রমায় অনেক গ্রহণ, বর্জন, পরিবর্তন, পরিমার্জনের মধ্যদিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে অনেক নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে, আবার হারিয়ে গেছে অনেক উপাদান। যুগে যুগে মানবের কল্যাণ কামনায় গীত হয় সাম্যের গান। জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সংস্কৃতি হয়ে ওঠে মানুষের জীবন ও জাতিসত্তা নির্মাণের প্রধানতম নিয়ামক। সম্প্রদায় ও সাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা বিলুপ্ত হয় মানবজীবন থেকে উৎসারিত ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কাছে। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় বিভাজন অনুমোদন করে না। আর তাই এই অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ অনেক মানবিক ও শান্তি মুখাপেক্ষী। বন্ধ হোক ধর্মীয় উন্মাদনায় উগ্রবাদের চাষাবাদ। ছিন্নভিন্ন করো বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী মৌলবাদের হিংস্র থাবা। উপরে ফেলা হোক ধর্মীয় উন্মাদনা। ছিন্নভিন্ন করো দুর্নীতি-অনিয়মের যাতাকল। বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার প্রত্যায়ে….

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana