বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, গৌতম কুমার : বানারীপাড়ায় রেলওয়ে কর্মচারী রুবেল হত্যা মামলায় আট আসামি ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারী উপজেলার দড়িকর গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত রেলওয়ে কর্মচারী মো.রুবেলের পিতা অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মচারী মো.সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে পুত্রবধু বিনা আক্তার ও তার ভাই রানা বেপারী, বোন উর্মী খানম, বাবা মিজানুর রহমান বেপারী, মা পারভীন আক্তার ও বোন জামাই জসিম ফকিরকে আসামি করে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পিবিআই ওসি মো. কবির হোসেন ওই মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। পরবর্তীতে মামলার বাদী আদালতে নালিশী বর্হিভূত ওই মামলায় তার নিজ এলাকার আরও দু’জন আসামি মো.আক্তার হোসেন আপন ও মো.সুমন হাওলাদারকে অন্তর্ভূক্ত করার আবেদন করেন। তিনি ওই আবেদনে রেলওয়ে কর্মচারী মো.রুবেলকে নালিশী বর্ণিত আসামিরা পারস্পারিকভাবে বিষপ্রয়োগ বা অন্য কোন উপায়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। আদালতের বিচারক তার ওই অভিযোগ মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি আসামিদেরকে নালিশী বর্হিভূত ওই দুই আসামিকে মামলায় শ্রেণীভূক্ত করার দরখাস্ত নথি সামীলে রাখার আর্দেশ দেন।
অপরদিকে, রুবেল হত্যা মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মচারী মো.সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, তার ছেলে রুবেল হত্যার সুরাতহাল ও ফরেন্সিক রিপোর্টে বিষপান ও গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী উপজেলার দড়িকর গ্রামের বাসিন্দা ও অবসর প্রাপ্ত হিসাব রক্ষণ কর্মচারী মো.সোহরাব হোসেন বলেন, ১৪ জানুয়ারী রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে পুত্রবধু বিনা আক্তার ও অন্যান্য আসািদের যোগশাজসে তার শয়নকক্ষে ছেলে রুবেলকে বিষপান করান। ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রওনা হলে তার করুন অবস্থা দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন রুবেলের মা পারুল বেগম ও তার দুই চাচাতো ভাই মো.আক্তার হোসেন ও মো.সুমন হাওলাদার এবং প্রতিবেশি মো.আবু রায়হান ও মো.শাহিন মোল্লাসহ বানারীপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তার ছেলে রুবেলকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ সময তিনি রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ছেলেকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার পথিমধ্যে তার পুত্রবধু বিনা আক্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজা আক্তার হোসেন ও সুমন হাওলাদার যোগশাজসে ডাক্তারের রেফার পত্র লুকিয়ে রাখেন এবং সেখানে (শেবামেক হাসপাতালে) গিয়ে তাকে হার্টের রোগী হিসেবে ভর্তি করেন। এ সময় সেখানে তার স্ত্রী পারুল বেগম যাতে বানারীপাড়া ডাক্তারের পরামর্শ ও বিষ প্রয়োগের কথা তাদেরকে বলতে না পারেন, সে জন্য তাকে বরিশাল শেবামেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা ছেলে রুবেল ও ডাক্তার-নার্সদের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। এ বিষয় তিনি যাতে কারও সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেজন্য তারা রুবেলের মা পারুল বেগমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরদিন সকালে রুবেলের পিতা মো.সোহরাব হোসেন বরিশাল শেবামেক হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, তার ছেলে রুবেলকে হাসপাতালে ফেলে রেখে সাথে থাকা ভাতিজা আক্তার হোসেন, সুমন হাওলাদার ও স্থানীয় আবু রায়হান এবং শাহীন মোল্লা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছেলে রুবেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৮ জানুয়ারী সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে দায়ের করা ওই নলিশী মামলায় ছয় আসামীর সঙ্গে আরও দু’জনকে সংশোধনী এনে মোট আট আসামি করেন। তিনি ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তারা পরস্পর যোগশাজসে ও পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে রুবেলকে বিষ প্রয়োগ করে অজ্ঞান হওয়ার পর তার গলায় কোন কিছু দিয়ে ফাঁস দেওয়া হয়েছে। তার প্রমাণ হিসেবে রুবেলের সুরাতহাল ও ময়না তদন্ত রিপোর্টে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপর আজ পর্যন্ত ওই মামলার আসামিরা গ্রেফতার হননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল পিবিআই ওসি মো.কবির হোসেন বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply