বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বাউফলে দীর্ঘ সময়ে সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করে অশান্ত করে তুলেছিলেন এই জনপদ। ৮ বারের সাংসদ হয়েও ফিরোজ এলাকায় কোন ধরণের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেননি। বরংচ অন্যায়-অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা জনরোষের ভয়ে এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। আর এই অপকর্মের শেল্টারদাতা আসম ফিরোজ-ই- বা এখন কোথায় আছেন? তিনি কি দেশে আছেন, নাকি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন? এরকম নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ধুমায়িত হচ্ছে। একটি সূত্র বলছে, ৫ আগস্ট তিনি পালিয়ে ভোলার চরফ্যাশনের জ্যাকবের বাগানবাড়িতে অবস্থান নেয়। সেখানে আরো কয়েকজন আ’লীগের নেতা ছিলেন। বর্তমানে সেখানে আছেন নাকি অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার (১৮ আগস্ট) আ স ম ফিরোজের অপকর্মের ঘনিষ্ঠজন জনরোষে সদ্য সাবেক বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মো. মোসারেফ হোসেন খান পালিয়ে যান। তখন উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় উত্তেজিত জনতা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনিচুর রহমানকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেল থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আনিচুর রোববার অফিস করবেন। অপরদিকে তাঁদের প্রতিহত করতে উপজেলা পরিষদ এলাকার চারপাশে শনিবার দিবাগত রাত থেকে পাহারা বসান বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সারারাত পাহারা দেওয়ার পর ভোরে ঘুমিয়ে পড়েন তাঁরা। সেই সুযোগে রোববার সকাল সোয়া সাতটার দিকে চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আনিচুর পরিষদ চত্বরে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে জনরোষে পড়েন তাঁরা। ওই সময় আনিচুরকে আটক করে মারধর করে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মোসারেফ হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁরা (চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান) জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি, ভোট চুরি করে হয়েছেন।
আ’লীগ নেতা মোসারেফ হোসেনসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে, বিশেষ করে ৩ ও ৪ আগস্ট বাউফলে প্রকাশ্যে মিছিল হয়েছে। তাঁদের আমরা বাউফলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। ছাত্র–জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের প্রতিহত করা হবে।’
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, বাউফল উপজেলায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যত লুটপাট ও নিয়োগ-বাণিজ্য হয়েছে, তা মোসারেফ হোসেনের মাধ্যমেই করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। এ কারণে জনগণের অনেক ক্ষোভ রয়েছে মোসারেফ হোসেনের ওপর। জনরোষে পড়ে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদ বলেন, বাউফলের মাটিতে তাঁদের আর কোনো দিন স্থান হবে না।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply