শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উভয়পক্ষ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, ‘রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর’ এমন সংবাদ সম্মেলন নজিরবিহীন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মনি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নুরুল ইসলাম মনিকে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, প্রায় দেড়ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক হয়েছে। এতে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, দেশে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত চলমান প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ ও বন্ধ থাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জাতিসংঘের সমন্বয়কারী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের বৈঠক করলেও সংবাদ সম্মেলন করেননি। আগের দুটো বৈঠকে অংশ নেওয়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে আজকের বৈঠকে আমির খসরু ছিলেন না।
বুধবার চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে চীনের রাষ্ট্রদূতের আসাটা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা মনে করি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনের যে কমিটমেন্ট, তাদের প্রতিশ্রুতি ডেভেলপমেন্টে এবং একইসঙ্গে তারা পরিষ্কার করে বলেছেন যে তারা (চীন) আধিপত্যবাদে বিশ্বাস করেন না।’
তিনি বলেন, ‘চীন সবসময় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি আগেও দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে, একইসঙ্গে চীন সারা বিশ্বে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সেটাও আমরা অ্যাপ্রিসিয়েট করছি। বিশেষ করে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চীন যেভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছে, সেটার জন্য তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’
চীনের রাষ্ট্রদূত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানান ফখরুল।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সঙ্গে চীনের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হবে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ‘ওয়ান চায়না’ পলিসিতে বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছে, আমরা এখনও সেই ঘোষণাটা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই।’
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করেছি। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করতে চায়। এ ব্যাপারে আমরা আজকে আলোচনাও করেছি। এই সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও সুদৃঢ় করে আমরা কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply