বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবাহী ড্রেজার ডুবিতে নিহত শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে সর্বত্র শোকের আবহ বিরাজমান। পটুয়াখালী সদরের কাটাখালী গ্রামের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশিদের মাঝে শােকের মাতম বিরাজ করছে।
স্বজনরা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সাগরে থাকা ড্রেজার ডুবে মারা যাওয়া শ্রমিকরা বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের বেপজা ও একটি কোম্পানির বালু সরবরাহ করতে সাগরে ড্রেজারে কাজ করতেন। তাঁরা সবাই সাগরের মধ্যে রাখা বালু উত্তোলনের ড্রেজারে অবস্থান করছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ হন শ্রমিকরা। সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ার পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ায় ওই স্থানে রাখা বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন সৈকত-২ পানিতে ভেসে গিয়ে ডুবে যায়।
এদিকে, নিহতদের মধ্যে চার জনের জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় উপজেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের চর জৈনকাঠীর কাটাখালী গ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন ইমাম মোল্লা (৩২), মাহামুদ মোল্লা (৩২) আল-আমীন (২৫) এবং জাহিদ ফকির (২৮) । বুধবার গভীর রাতে আলম সরদার (৪০) এবং বৃহস্পতিবার সকালে শাহীন মোল্লা (৩৭), মো. তারেক (২০) ও আবুল বাশারের (৪০) লাশ উদ্ধার হলেও তা এখনো গ্রামে এসে পৌঁছায়নি। এদের মধ্যে ইমাম মোল্লা ও শাহিন মোল্লা এই গ্রামের মো. আনিচ মোল্লার ছেলে। বুধবার ভোরে ছোট ছেলে ইমামের মরদেহ এসে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দু’ সন্তানকে হারানো মা হাসিনা বেগম। তার সঙ্গে শাহিনের নাবালক তিন সন্তান ও তার গর্ভবতী স্ত্রী খাদিজা বেগমের কান্নায় গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এমন কান্নার রোলে উপস্থিতরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
আহাজারি করে হাসিনা বেগম বলেন, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে ওই বাল্ক হেডে কাজ করতেন। কোরবানির পরে তার বড় সন্তান শাহিন কাজে যায়। এর একমাস পরে ছোট ছেলেও কাজে যায়। ছোট ছেলে বিয়ে করলেও এখনো বউ উঠিয়ে আনা হয়নি।
এই দুই সহোদরের বাবা মো. আনিচ মোল্লা বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহিন ও ইমামের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। ঝড়ের মধ্যেও তখনো তারা ভালোই ছিল। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে ওদের বন্ধু ও একই এলাকায় অপর বাল্কহেডে কর্মরত জহিরুল নিখোঁজের দুঃসংবাদ জানায়। এরপর ঘটনাস্থলে ছুটে যায় তার মেঝ ছেলে এনায়েত।
তিনি বলেন, বেঁচে থাকতে দুই সন্তানের লাশ দেখা কোনো বাবাই এমন শোকের ভার সহ্য করতে পারে না। আমার নাতি-নাতিনরা আজ এতিম। আমার বয়স হয়েছে, ওদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কে নেবে?
উদ্ধার হওয়ার পর তার বড় ছেলে শাহিন মোল্লার মরদেহও পটুয়াখালীর পথে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাহমুদ মোল্লার মা মনোয়ারা বেগম আহাজারি করে বলছেন, ওই ড্রেজারে কাজ করতো মাহমুদ। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে মাহমুদ অবিবাহিত।
কাঁদতে কাঁদতে বার বার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন নিহত তারেকের মা সাহিদা বেগম। আল-আমিন, বাসার হাওলাদার, জাহিদ ফকির ও আলম সরদারদের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।
বৃহস্পতিবার সকালে চার জনের জানাজায় সদর উপেজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল হাই, জৈনকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ মহসীনসহ এলাকার হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply