বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
বরিশালে বিএনপি নেতা হায়দার গুমের হোতা জিয়াউল আহসান, গ্রেপ্তার কে এই কবির?

বরিশালে বিএনপি নেতা হায়দার গুমের হোতা জিয়াউল আহসান, গ্রেপ্তার কে এই কবির?

বরিশালে বিএনপি নেতা হায়দার গুমের হোতা জিয়াউল আহসান, গ্রেপ্তার কে এই কবির?
বরিশালে বিএনপি নেতা হায়দার গুমের হোতা জিয়াউল আহসান, গ্রেপ্তার কে এই কবির?

ইউনিভার্সেল নিউজ : ১৩ বছর আগে বরিশাল নগরীর ২১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হায়দার গুমের ঘটনায় জড়িত কবির হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, গুমের শিকার বিএনপি নেতা আবুল হায়দারের স্ত্রী রোমেনা বেগম অতিসম্প্রতি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রেকর্ড করার পর বুধবার (১৬ অক্টােবার) রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) আদালতে গ্রেপ্তার কবিরের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার কে এই কবির?

গুমের শিকার বিএনপি নেতা হায়দারের স্ত্রী রোমেনা বেগম ইউনিভার্সেল নিউজকে বলেন, আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি দখল সন্ত্রাসের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলে নিয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসানের ভাই জিয়াউর রহমান বিপ্লব ওরফে ল্যাটো বিপ্লব। দখল সন্ত্রাস-হুমকি-ধামকির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বরিশাল আদালতে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমার স্বামী আবুল হায়দার আদালতে যান। তখন আদালত প্রাঙ্গনে আমার স্বামীকে দেখে ল্যাটো বিপ্লব অগ্নিমূর্তি রূপ ধারণ করে শার্টের কলার ধরে মারধর করতে করতে হুমকি দেন যে-তুই এই জমি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছো, এক সপ্তাহের মধ্যে তোকে খেয়ে ফেলবো। গুমের শিকার হায়দারের স্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আদালতে জিয়াউর রহমান বিপ্লব কর্তৃক হুমকি দেয়ার এক সপ্তাহের মাথায় আমার স্বামীর আর কোন হদিস মিলেনি। মামলার বাদী রোমেনা বেগমের দাবি- জিয়াউর রহমান বিপ্লবের গুমের হুমকির পর তার ভাই তৎকালীন সময়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান আমার স্বামীকে গুম করেন।
রোমেনা বেগম বলেন, নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকায় আমার স্বামীর আপন চাচাতো ভাই আমেরিক প্রবাসী বাবুলের সবুজ ভিলা নামের ৫ তলা ভবন ছিলো। সেখানে বাবুলের স্ত্রী হাসিনা মমতাজ সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের জন্য হুমকি-ধামকিরমুখে একপর্যায়ে হাসিনা মমতাজ সন্তান নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। একইসঙ্গে ওই সম্পত্তি দেখভাল’র জন্য আমার স্বামীকে দায়িত্ব দেন বাবুল ও তার স্ত্রী হাসিনা মমতাজ। পরে দখল সন্তাসের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলে নেয় ল্যাটো বিপ্লব। আর সবুজ ভিলার নামও পরিবর্তন করে ফেলা হয়। রোমেনা বেগম আরো বলেন, দীর্ঘ বছরেও আমার স্বামীর সন্ধান মিলেনি। তাকে গুম করেছেন জিয়াউল আহসান। দীর্ঘ সময়ে আমি ছেলে-মেয়ে নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করে আসছি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমার স্বামীকে গুমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর থেকে কঠোর থেকে শাস্তির দাবি করছি। এছাড়া আমার ছেলে, মেয়ের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের কাছে আশু দৃষ্টি কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, বরিশাল নগরীর করিম কুটির এলাকার আব্দুর রশিদের পুত্র ২১নং ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন বিএনপির সভাপতি আবুল হায়দার রেমান ড্রাগ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড নামের ওষুধ কোম্পানির বরিশাল এরিয়া ম্যানেজার হিসেব কর্মরত ছিলেন। আর তার অধীনে সেলস ম্যানের দায়িত্বে ছিলেন কবির হোসেন। কবিরের কাছে তিন লাখ টাকা পেতেন বিএনপি নেতা হায়দার। এই টাকা আত্মসাত এবং জিয়াউর রহমান বিপ্লবের সঙ্গে গোপন বুনিবনায় হায়দারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন।এরইধারাবাহিকতায় সেলসম্যান কবির ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বর কোম্পানির জরুরি ভিত্তিতে কাজের কথা বলে হায়দারকে ঢাকা অফিসে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর হায়দার তার সহকর্মী কবির হোসেনকে নিয়ে গিয়ে ঢাকার মহাখালীর একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। হোটেলের নিচতলা থেকে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। পরবর্তীতে হায়দারের ভাই হারুন-অর রশিদ গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। হায়দারের স্ত্রী রোমেনা তার নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে সর্বত্র খোঁজ করলেও কোনো ফল হয়নি।

কে এই জিয়াউল আহসান?

জিয়াউল আহসানের জন্ম ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর, ঝলকাঠি জেলায়। বরিশাল নগরীর বৈদ্যপাড়ার বাসিন্দা তিনি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাই ডাইভার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় ২০০৯ সালে মেজর থাকাকালী জিয়াউলকে র‍্যাব-২-এর ভাইস-ক্যাপ্টেন করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ওই বছরের ২৭ আগস্ট র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের (গোয়েন্দা শাখা) পরিচালকের দায়িত্ব পান তিনি। তিন বছরের ব্যবধানে ২০১৩ সালে জিয়াউল আহসান পদোন্নতি পেয়ে কর্নেল হয়ে যান এবং একই সময়ে তাকে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আড়াই বছর পর ২০১৬ সালের এপ্রিলে পদোন্নতি পেয়ে বিগ্রেডিয়ার হয়ে গেলে তাকে এনএসআইতে (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে জিয়াউলকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন এনটিএমসির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ২১ জুলাই এনটিএমসিতে মহাপরিচালক (ডিজি) পদ তৈরি করা হয় এবং জিয়াউলকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তিনি এনটিএমসির প্রথম মহাপরিচালক হন। এই পদে থাকা অবস্থায় ৬ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর গুম-খুনের বিচারের দাবি আবার জোরেশোরে ওঠে। মায়ের ডাকের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা সরকার আমলে শত শত মানুষকে গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি তোলা হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম-খুনের নেপথ্যের হোতা এই জিয়াউল আহসান। আলোচিত আয়নাঘরেরও মূল কারিগর তিনি। এছাড়া ফোনকলে আড়ি পাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড করতেন জিয়াউল আহসান। শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনায় যৌথ অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন গুম-খুনের হোতা জিয়াউল আহসান

সরকার পতনের পরই গত ৭ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন জিয়া। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে জিয়াকে বহনকারী ফ্লাইটটি বোর্ডিং ব্রিজে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করার কথা জানায় পুলিশ। পরে নিউ মার্কেট থানার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা দোকান কর্মচারী হত্যা মামলায় তাকে খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাপত্তারক্ষীকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃত সেনা অফিসার মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। বুধবার (১৬ অক্টোবর) তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান কর্নেল (অব.) মো. তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে সাদা পোষাকে তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। দুই দিন গুম করে রাখার পর ২৯ ডিসেম্বর তাকে দুটি ভুয়া মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জামিন পেয়ে তিনি এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে থানায় গেলেও সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, জিয়াউল আহসানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তোহিদুল ইসলাম।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana